লক্ষ্মীপুর-৪ রামগতি-কমলনগর আসনে ঢাকঢোল পিটিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ছয়জন প্রার্থীর কেউই এখন পর্যন্ত তাদের নির্বাচনী ইশতিহার ঘোষণা করেননি। এতে সাধারণ মানুষ রয়েছে অন্ধকারের মধ্যে এলাকার উন্নয়নে ইতিপূর্বের ভূমিকা, আগামীর স্বপ্ন পূরণে সক্ষমতা প্রার্থীকে কেন ভোট দেওয়া হবে, ভোট নিয়ে তারা কী করবেন, জনগণের জন্য সুনির্দিষ্ট কোন কাজটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করবেন। তার লিখিত কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত দেয়নি কোন প্রার্থী। আওয়ামী লীগ ছাড়া কেন্দ্রীয় ভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাকি দলগুলোর ইশতেহার কবে ঘোষণা হবে, নাকি আদৌ হবে না-এ নিয়েও সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই এসব দলের নেতাদের।
লক্ষ্মীপুর-রামগতি-কমলনগর আসনটির বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে নদী ভাঙ্গন, অরক্ষিত বেড়িবাঁধসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের নানাবিধ সমস্যা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামৌগত অনুন্নয়নসহ জনগণের ভাবনার কথা এগুলো লিখিতভাবে কোন প্রার্থী প্রকাশ করেননি। নতুন ও তরুণ ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে এখন পর্যন্ত তাদের বক্তব্য লিখিত আকারে পৌঁছানো হয়নি।
এদিকে বার বার নির্বাচন আসলে এসব প্রার্থীরা নদী ভাঙনকে পুঁজি করে জনগণের ভোট নিয়ে যায় কাজের কাজ কিছুই করেননি। নির্বাচন আসলে তারা নদী ভাঙন রোধ করবেন বলে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েই যাচ্ছেন।
কমলনগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুছাকালিমুল্লাহ জানান, স্বাধীনতা উত্তর গত তিন দশক ধরে এখানকার বিস্তীর্ণ মেঘনা নদীতে ভেঙে যায়। ভাঙন কবলিত এলাকাকে রক্ষা করতে ও নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক দলের নেতারা নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে, কিন্তু ভোট আসে ভোট যায়। প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার বিস্তর ফারাক করা গেছে বারবার। এবারও ভাঙন কবলিত এলাকার সাধারণ জনগণকে দেওয়া হচ্ছে একই প্রতিশ্রুতি। তবে, সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতির ইশতিহার না দেওয়ায় নতুন ও তরুণ ভোটাররা চরম হতাশ হয়েছেন বলে মনে করি।
লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে ৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত ফরিদুন্নাহার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। তার জায়গায় দলীয় মনোনয়ন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের মোশারফ হোসেন, দুই প্রার্থী কমিশনের যাচাইয়ে বাতিল হলে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬ জনের মধ্যে। এদের মধ্যে ১৪ দলের প্রার্থী মোশারফ হোসেন (নৌকা), স্বতন্ত্র ইস্কান্দার মির্জা শামীম (ট্রাক), আবদুল্লাহ আল-মামুন (ঈগল), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মোহাম্মদ সোলায়মান (একতারা), মাহমুদা আক্তার (তবলা) ও আব্দুর সাত্তার পালোয়ান (রকেট) প্রতীক পান।
আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে মোশারফ হোসেন জানান, আমি নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ত। ইশতেহার ঘোষণা করা দরকার। বিষয়টি নিয়ে আমার নেতাকর্মীদের আলোচনা করে শীঘ্রই উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র ইস্কান্দার মির্জা শামিম জানান, নদী ভাঙ্ঘনরোধ, রেল লাইন স্থাপন, সয়াবিন ভিত্তিক শিল্প কারখানা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গড়ে তুলবেন। আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার প্রকাশ করবেন।
ঈগল প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের সাথে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোনে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
সময়ের আলো/আরআই