মানুষ মানেই মনের ভেতর নানা প্রকার অবস্থার উদ্ভব। মনের আকাশে কখনো রোদ হাসে, কখনো ঘিরে ধরে নিকষ কালো অন্ধকার। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে খুব আলোচিত এক সমস্যার নাম হলো মেন্টাল ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ। মুরুব্বিদের সঙ্গে জেনারেশন গ্যাপ এবং ইন্টারনেট কানেকশনের কারণে ঘিরে ধরছে এ সংক্রমক ব্যাধি। এমন কোনো সমস্যা নেই, যার সমাধান ইসলামে নেই। তাই বর্তমান সময়ের এ সমস্যার সমাধানও কুরআন থেকে পেতে পারি আমরা। পবিত্র কুরআন এক মহা বিস্ময়ের নাম। মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করলে যেকোনো সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়। ছোটো থেকে বড়ো যেকোনো বিষয়ে আলোচনা বা ইঙ্গিত দেওয়া আছে পবিত্র কুরআন মাজিদে।
মানসিক অবসাদ কাটিয়ে ওঠার এবং স্বাভাবিক থাকতে সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া। এই ভরসা ও তার সিদ্ধান্তের ওপর অটল থাকতে সাহায্য করতে পারে কুরআন মাজিদের ৯৩ নং সুরা আদ-দোহা। ১১ আয়াত বিশিষ্ট এই সূরাটি ঠিক তখন নাজিল হয়েছিল, যখন নবীজি (সা.)-এর ওপর মিথ্যা সন্দেহ করা হচ্ছিল ও অহির আগমন বিলম্ব হচ্ছিল। মানসিকভাবে নবীজি (সা.) অস্থিরতা ও অবসাদে ভুগছিলেন।
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার অসুস্থ হলেন। ফলে তিনি একরাত বা দুই রাত সালাত আদায়ের জন্য বের হলেন না। তখন এক মহিলা এসে বলল, মুহাম্মদ আমি তো দেখছি তোমার শয়তান তোমাকে ত্যাগ করেছে, এক রাত বা দুই রাত তো তোমার কাছেও আসেনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপরোক্ত আয়াত নাজিল হয় (বুখারি : ৪৯৫০)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অহি আসতে বিলম্ব হয়, এতে করে মুশরিকরা বলতে শুরু করে যে, মুহাম্মদকে তাঁর আল্লাহ পরিত্যাগ করেছেন ও তাঁর প্রতি রুষ্ট হয়েছেন। এরই প্রেক্ষিতে সুরা আদ-দোহা অবতীর্ণ হয়। (মুসলিম : ১৭৯৭)
এই সুরার মাধ্যমে মহান আল্লাহ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সান্ত্বনা দিয়ে মনোবল বৃদ্ধি করেছিলেন। কুরআন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। তাই বর্তমান যুগেও কেউ যদি মানসিক অবসাদ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার আসায় খুব মনোযোগ সহকারে সুরা দোহা তাফসিরসহ তেলাওয়াত করে তা হলে সে অবশ্যই বুঝতে পারবে, তার প্রতি আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ কতটা বিস্তৃত! প্রতিটি মুহূর্তে আমরা যে তাঁরই রহমতের ছায়ায় আছি এবং এই অবসাদ যে সাময়িক, তা খুব স্পষ্টভাবেই বুঝতে পারবে। কখনো কোনো মানসিক অবসাদ তাকে শয়তানের পথে চালাতে পারবে না, যদি সে মন থেকে বিশ্বাস রাখে-‘তোমার রব তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং অসন্তুষ্টও হননি’ (সুরা দোহা : ৩) এবং ‘আর অচিরেই তোমার রব তোমাকে দান করবেন, ফলে তুমি সন্তুষ্ট হবে’ (সুরা দোহা : ৫)। কারণ মানসিক অবসাদ আসে কোনো কাংখিত বস্তু না পাওয়া থেকেই। আর তখন যদি মনে বিশ্বাস থাকে যে আল্লাহ তায়ালা আমাকে এর থেকেও দ্বিগুণ কিছু দান করবেন তা হলে ইনশাআল্লাহ অবসাদ আর আসবে না।
সময়ের আলো/আরএস/