মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটের কাছে নোঙর করা ফেরি রজনীগন্ধাকে বাল্কহেড ধাক্কা দেওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাল্কহেডগুলো খুবই বিপদজনক, সড়কের যেমন নসিমন করিমন ভটভটি।
তবে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বাল্কহেডের প্রয়োজন আছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের নৌ পরিবহন অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে, এগুলোকে আরও মর্ডানাইজ করে এগুলোকে সার্টিফাই করা যায় কি না। নৌ পরিবহন অধিদপ্তর কাজ করছে। হয়তো অল্প কিছুদিনের মধ্যে এগুলোকে আমরা একটা মানে নিয়ে আসতে পারবো।
নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাকে জানানো হয়েছে, ফেরিটি ঘাট থেকে খুব কাছাকাছি নোঙর করা ছিল, বাল্কহেড সেটিকে ধাক্কা দিয়েছে। এখানে দুর্বলতা কিংবা অন্যকোনো ঘটনা আছে কি না সেটি তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া ছাড়া বলা যাবে না।
বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি ইউটিলিটি ফেরি, ছোট। এটি হতে পারে- যেহেতু অল্প সংখ্যক গাড়ি সেখানে ছিল, ফেরিতে যখন যানবাহন ওঠে, তখন ব্যালেন্স করে রাখা হয়। রাত একটা দেড়টার সময় সেটিকে ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটা একটি ব্যাপার। সেই ব্যালেন্স করা ঠিক ছিল কি না। তারা মূলত কুয়াশার কারণে নোঙ্গর করেছিল। তারা বলেছে, রাত দেড়টার সময় যখন রওয়ানা দিয়েছে, তখন কুয়াশা ছিল না। যখন পাটুরিয়ার একদম কাছাকাছি চলে আসে তখন কুয়াশা দেখা দেয়। ওখানে যারা কর্মকর্তারা আছেন তারা বলেছেন, ঘাট থেকে জায়গাটা কাছে, দেখা যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সচিব ঘটনাস্থলে রয়েছেন, সেখান থেকে তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থলে থেকে যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার দরকার সেগুলো তিনি নেবেন।
আগের তদন্ত রিপোর্টগুলো বাস্তবায়ন করা হলে আবার এমন দুর্ঘটনা ঘটতো না- এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আসার পর প্রত্যেকটি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
নৌ পুলিশকে যুগোপযোগী করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা ট্রলার নিয়ে এক জায়গায় যাচ্ছে তাদের নৌযান নেই। নৌপুলিশকে শক্তিশালী করতে হবে। তাদের অনেক ইকুইপমেন্ট যুক্ত করতে হবে, যাতে তারা নৌ পথটাকে নিরাপদ করতে পারে।’
প্রসঙ্গত, বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টা ২৩ মিনিটে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে যাত্রী, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপসহ ডুবে যায় ‘রজনীগন্ধা’ নামের ছোট একটি ফেরি। ফেরিটিতে ৭টি ছোট ট্রাক ও ২টি বড় ট্রাক ছিল। উদ্ধার অভিযানে পরে ঘটনাস্থলে যায় উদ্ধারকারী দুটি জাহাজ– ‘হামজা’ ও ‘রুস্তম’।
সময়ের আলো/আরআই