দেশজুড়ে চলছে শীতের দাপট। এরই মধ্যে বৃষ্টির আভাস দিল আবহাওয়া অধিদফতর। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। যার প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় বুধবার হালকা বৃষ্টি বা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। দেশের অন্যত্র ছিল আংশিক মেঘলা। আগামী সপ্তাহের শেষদিকে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে জানিয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক পরিবহন চলাচল ব্যাহত হতে পারে। কিশোরগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। বুধবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল টেকনাফে। এদিকে শীতের দাপটে একাধিক জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
হিলি থেকে দৈনিক সময়ের আলোর প্রতিনিধি জানিয়েছে, বুধবার সকাল থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল। কুয়াশার কারণে ট্রেন, বাস, অটোবাইকগুলোকে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। ঠান্ডার কারণে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। বেশি দুর্ভোগে আছেন ছিন্নমূলসহ খেটে খাওয়া মানুষরা। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করেই তাদের ছুটতে হচ্ছে কর্মস্থলে। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের অসহায় মানুষরা।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার হিলিতে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছে, জেলায় ঘন কুয়াশার সঙ্গে বইছে ঠান্ডা বাতাস। শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। কয়েক দিন ধরে দেখা মিলছে না সূর্যের। প্রতিদিনই কমছে তাপমাত্রা। কিশোরগঞ্জের নিকলীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ দিকে নিকলী উপজেলার ৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা জানিয়েছে, শীতের তীব্রতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার সঙ্গে টানা কয়েক দিনের হাড় কাঁপানো তীব্র শীতে কাবু সব বয়সের মানুষ। দিনের বেশিরভাগ সময়ই কুয়াশায় ঢাকা থাকে চারপাশ। তীব্র শীতে বিভিন্ন বাজার ও সড়কের পাশে জমে উঠেছে মৌসুমি কাপড় ব্যবসা। শীত বাড়তে থাকায় ইলেকট্রিক কেটলি ও হিটারের বিক্রি বেড়েছে বহুগুণ। উপজেলার লাপাং গ্রামের কৃষক জান্নান মিয়া জানান, এখন ইরি-বোরো ধানের চারা (জালা) বড় হয়ে যাচ্ছে, তীব্র শীতের কারণে বদলি পাচ্ছি না, আর পেলেও চড়া মূল্যে নিতে হয়।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানিয়েছে, জেলার তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেলেও কমেনি শীতের দাপট। বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। হিমেল হাওয়ায় কাবু হয়ে পড়েছে সমগ্র কুড়িগ্রাম। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের প্রায় ২ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে শৈত্যপ্রবাহের কারণে। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেন। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে। কুড়িগ্রামে বুধবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা গতকাল ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঠান্ডায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষজন। শীত উপেক্ষা করে বাড়ি থেকে বের হলেও কাজ পাচ্ছে না অনেকে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলছে না। দিনের অধিকাংশ সময় থাকছে মেঘাচ্ছন্ন। এ সময় উত্তরীয় হিমেল হাওয়ায় ঠান্ডার তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। শীত ও কনকনে ঠান্ডায় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশিসহ শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, জানুয়ারি মাসজুড়েই তাপমাত্রা এ রকম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সময়ের আলো/আরএস/