নবীজির দাওয়াত ও তাবলিগের সূচনা

উবায়দুল হক খান

ইসলামের আলো

পৃথিবীতে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বানের জন্য যুগে যুগে তিনি পাঠিয়েছেন অনেক নবী-রাসুল। তাঁরা পথভ্রষ্ট মানুষদের সত্যের পথে, হেদায়াতের পথে আহ্বান

2024-02-03T00:19:12+00:00
2024-02-03T00:19:12+00:00
 
  রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬,
২১ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
ইসলামের আলো
নবীজির দাওয়াত ও তাবলিগের সূচনা
উবায়দুল হক খান
প্রকাশ: শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১২:১৯ এএম 
নবীজির দাওয়াত ও তাবলিগের সূচনা
পৃথিবীতে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বানের জন্য যুগে যুগে তিনি পাঠিয়েছেন অনেক নবী-রাসুল। তাঁরা পথভ্রষ্ট মানুষদের সত্যের পথে, হেদায়াতের পথে আহ্বান করেছেন। এ হেদায়াতের সর্বশেষ ধারাবাহিকতা আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। দ্বীনের দাওয়াতের ময়দানে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল সর্বশেষ ও সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত। মূলত রাসুল (সা.)-এর জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি মুহূর্ত বরং তাঁর জীবনের হৃদয়ে স্পন্দন এ দাওয়াতের পেছনেই ব্যয় হয়েছে। এ জন্যই তিনি আদিষ্ট হয়েছিলেন-‘হে রাসুল! আপনার প্রতি যা ওহি আসে লোকদের কাছে পৌঁছে দাও। (সুরা মায়েদা : ৬৭)’

রাসুল (সা.)-এর দাওয়াতের সূচনা
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সহধর্মিণী হজরত খাদিজা (রা.)-এর ঘরে দাওয়াত ও সত্য প্রচারের নির্দেশ-সংবলিত আয়াত-‘হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! উঠুন এবং ভীতি প্রদর্শন করুন’ নাজিল হওয়ার পর রাসুল (সা.) আপন দায়িত্ব পালন এবং মানুষকে সত্যের দাওয়াত দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। কিন্তু শিরক-বিদআত ও কুফুরের অন্ধকারে আকণ্ঠ নিমজ্জিত মানুষের মাঝে তাওহিদ ও রেসালাতের দাওয়াত দেওয়া ছিল খুবই কঠিন কাজ। তাই তিনি প্রথমে এমন লোকদের দাওয়াত দেওয়ার ইচ্ছা করলেন, যারা ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর সঙ্গে উঠা বসার মাধ্যমে তাঁর স্বভাব চরিত্র এবং বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সব বিষয়ে সম্যক অবগত ছিলেন। 

এ প্রক্রিয়ায় সর্বপ্রথম তাঁর পবিত্র সহধর্মিণী হজরত খাদিজা (রা.), বয়স্কদের মধ্যে হজরত আবু বকর (রা.), বালকদের মধ্যে হজরত আলী (রা.) প্রমুখ ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে ইসলামের দাওয়াত দেন। অতঃপর যাদের মধ্যে সততা ও মঙ্গলের নিদর্শন দেখতে পেতেন তাদেরকে অতি সঙ্গোপনে তিনি ও তাঁর সাহাবারা ইসলামের দাওয়াত দিতে শুরু করেন। সতর্কতার সঙ্গে এ ধারায় প্রায় ৩ বছর ইসলামের দাওয়াতের কাজ চলল। ততদিন কুরাইশ বংশের প্রায় ৪২ জনের একটি জামাত ইসলামে দীক্ষিত হন।

প্রকাশ্যে দাওয়াতের সূচনা
যখন রিসালাতের সূর্য সত্যাকাশে ধীরে ধীরে উদিত হলো, ক্রমান্বয়ে তার কিরণ সতেজ ও উজ্জ্বল হতে লাগল, তখন আল্লাহ তায়ালা নবী কারিম (সা.)-কে প্রকাশ্যে মানুষের মাঝে সত্যের বাণী প্রচারের নির্দেশ প্রদান করলেন-‘আপনি মুশরিকদের পরওয়া না করে আপনাকে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট শুনিয়ে দিন’ (সুরা আল হিজর : ৯৪)। আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে নবী (সা.) জনসাধারণের মাঝে প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দিতে শুরু করলেন।

দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে আবেগের কোমল অন্তরে রাজত্ব করে আসা বহুত্ববাদ এবং শিরক কুফর ও ধর্মহীনতার ঘনঘটায় আচ্ছন্ন সমাজে ছড়িয়ে থাকা সব অন্যায় অনাচারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করে রাসুল (সা.) সাফা পাহাড়ের চূড়ায় ওঠে প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। আরবদের চিরাচরিত নিয়ম ছিল শত্রুদের অতর্কিত আক্রমণ কিংবা অন্য কোনো ভীষণ বিপদের আশঙ্কা দেখা দিলে তারা পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করে উচ্চৈঃস্বরে ‘ওয়া সাবাহা!’ বলে চিৎকার করত। আর এ আওয়াজ শোনামাত্রই সবাই ঘটনাস্থলে সমবেত হতো। 

শত্রুর আক্রমণের চেয়ে তাদের মাঝে ছড়িয়ে থাকা ধর্মহীনতা, অনৈতিকতাই যেহেতু বড় বিপদ ছিল, তাই রাসুল (সা.) তাদেরকে এ বিপদ থেকে সতর্ক করার জন্য সাফা পাহাড়ের চূড়ায় চড়ে আরবদের প্রথা অনুযায়ী তাদের বিপদ সংকেত ‘ওয়া সাবাহা!’ বলে ডাক দিলেন। তাঁর এ গুরুগম্ভীর আহ্বানের করুণ ধ্বনিতে তারা সমবেত হলো। 

উপস্থিত লোকদের সম্বোধন করে রাসুল (সা.) বললেন, ‘হে কুরাইশগণ! আমি যদি তোমাদের বলি, পাহাড়ের পেছনে শত্রুদের এক শক্তিশালী বাহিনী তোমাদের ওপর আক্রমণ করার জন্য এবং তোমাদের ধন-সম্পদ, সর্বস্ব লুট করে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে, তা হলে কি তোমরা বিশ্বাস করবে?’ তারা সমস্বরে বলে উঠল-‘নিশ্চয়ই আমরা আপনার কথা বিশ্বাস করব। কেননা আমরা আপনাকে কখনো মিথ্যা বলতে শুনিনি, আপনি আমাদের ‘আল আমিন’। আপনি যা বলবেন তা অবশ্যই সত্য।’ রাসুল (সা.) গম্ভীর কণ্ঠে বললেন- ‘তবে শোনো! আমি তোমাদেরকে এক ভয়াবহ শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করছি, তোমরা যদি আল্লাহর ওপর ঈমান না আনো, আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস না কর, তা হলে অতিসত্বর সেই শাস্তি তোমাদের ওপর আপতিত হবে।’

তাঁর এ বক্তব্য শুনে শিরক ও পৌত্তলিকতায় নিমজ্জিত মক্কাবাসী ‘ধিক ধিক’ করে উঠল। রাসুল (সা.)-এর চাচা আবু লাহাব বললেন, ‘মুহাম্মদ তোমার অমঙ্গল হোক! এ জন্যই আমাদের সমবেত করেছিলে?’ এ বলে গালাগালি করতে করতে আবু লাহব ও সমবেত লোকেরা চলে গেল। এ দাওয়াতের ফলে তাৎক্ষণিক কোনো সুফল দেখা না গেলেও মক্কার ঘরে ঘরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা ও উপদেশ সম্পর্কে নানা ধরনের গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল। হাটে-ঘাটে ও পথে-প্রান্তরে সর্বত্রই একই আলোচনা হতে লাগল, ফলে বিরোধ ও অস্বীকৃতির মধ্য দিয়েই ইসলামের বাণী দিকে দিকে প্রচারিত হতে লাগল। তারপর থেকে আজ অবধি মহানবীর এই দাওয়াত নানাভাবে নানা জনের মাধ্যমে পৃথিবীময় চর্চিত হচ্ছে।

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: