শবে বরাতের পর এবার পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠছে ব্যবসায়ীরা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে মুগডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা, খেসারি ডালে ১০, অ্যাংকর ডালে ৫ এবং আলুর দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। পাশাপাশি চিকন চাল, রসুন, মসলা ও চিনির দামও বেড়েছে। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, আজমপুর বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি মুগডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৭০ টাকা। যা গত সপ্তাহ থেকে ২০ টাকা বেশি। গত সপ্তাহে প্রতি কেজির দাম ছিল ১৩০-১৫০ টাকা। খেসারি ডালে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি খেসারি ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ছিল ১০০-১১০ টাকা। অ্যাংকর ডালে কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকায়। এ ছাড়া মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১৪০ টাকা পর্যন্ত।
আমদানিকাররা বলছেন, ডলারের চড়া দামের কারণে এবার ডালের দাম বেশি। ডলারের দাম কম থাকলে ডালের দাম স্বাভাবিক থাকত। ইতিমধ্যে রমজানের জন্য পর্যাপ্ত ডাল আমদানি করা হয়েছে। তাই নতুন করে আর দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই। এবার রমজানের আগেই ছোলার দাম বেড়েছে। বিক্রি হচ্ছে ১১০-১৩০ টাকা পর্যন্ত। আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মানভেদে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩৫ টাকা। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২৫-৩০ টাকা।
আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২২০ টাকা। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮০-২০০ টাকা। এ ছাড়া লবঙ্গ, এলাচ, ধনেপাতা, তেজপাতার দামও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে চিনির দাম। বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৪৫ টাকা। গত সপ্তাহে ছিল ১৩৫-১৪০ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০, দেশি শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪২০-৪৪০ টাকা। দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ২৫০-২৮০ টাকা কেজি। সবজির দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি মটরশুঁটি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০, টমেটো ৪০-৫০, করলা ১২০-১৪০, কাঁচা পেঁপে ৪০-৫০, বরবটি ৯০, চিচিঙ্গা ৫০, মিষ্টি কুমড়া ৩০-৪০, কচুর লতি ৮০-৯০ শিম ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার আগের মতোই চড়া। প্রতি কেজি বড় রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকা, মাঝারি রুই ৩০০-৩৫০, কাতলা ৪৫০-৫০০, বড় পাঙাশ ২৮০-৩০০, সিলভার কার্প ২০০-২৫০, বড় কৈ ৬০০ টাকা, শিং ৮৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
জহির নামে এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, মাছের দাম গত কয়েক মাস ধরে প্রায় একই রকম রয়েছে। মাঝেমধ্যে ১০-২০ টাকা দাম কমে-বাড়ে। এখন তো আর খাল-বিলের মাছ নেই, সব চাষের। মাছের খাবারের দাম বেশি, অন্যান্য খরচও বেশি। এ জন্য দাম সবসময় এমনই থাকে। অন্যদিকে গরুর মাংসের দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৭৫০ টাকা। শবে বরাতের আগে যা ৮০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকা। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৮০-৫৮০ এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা কেজি।
সময়ের আলো/আরএস/