ফিলিস্তিনে ইসরাইলের দখলদারিত্ব নিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) আগামী মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক করবে। সৌদি আরবের জেদ্দায় সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ওই বৈঠকে যোগ দিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, ৪ ও ৫ মার্চ আমি ওআইসির সম্মেলনে যোগ দেব। প্রধানমন্ত্রী আমাকে ওআইসির সম্মেলনে গিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরতে বলেছেন। গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হত্যাকাণ্ড বন্ধের কথা বলেছেন। তিনি আরও জানান, গাজায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, এর বেশির ভাগ নারী ও শিশু। সেখানে হাসপাতালে হামলা করা হচ্ছে, অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, হাসপাতালের বিদ্যুৎ লাইন ধ্বংস করা হয়েছে, যার কারণে অনেক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা মানুষের ওপর হামলা করা হয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে এটি ভাবা যায় না। তবুও বিশ্বমোড়লরা নির্বাক এবং আরব বিশ্ব যে ভূমিকা রাখার দরকার ছিল, সাধারণ মানুষের ধারণা তারা সেখানে সে ভূমিকা রাখেনি।
ওআইসি জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে যে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে সে বিষয়ে ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক করবে। বৈঠকটি ওআইসির প্রধান কার্যালয় জেদ্দায় অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে, ফিলিস্তিনে ইসরাইলের দখলদারিত্ব নিয়ে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই শুনানিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ওআইসির পক্ষে সংস্থাটির মহাসচিব হোসেইন ব্রাহিম তাহা অংশ নেন।
ফিলিস্তিনে ইসরাইলের দখলদারিত্ব নিয়ে নেদারল্যান্ডসের আইসিজে আদালতে ৫০টিরও বেশি দেশ অংশ নেয়। ওই শুনানিতে বাংলাদেশের পক্ষে নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে ইসরাইল ফিলিস্তিনে অবৈধ দখলদারিত্ব কায়েম করেছে। এ বিষয়ে একটি অ্যাডভাইজরি মতামত দেওয়া হলে তা অবৈধ দখলদারিত্ব শেষ হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হবে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে যে ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ইসরাইলের দখলদারিত্ব অবসান হওয়া জরুরি। এই সমস্যা সমাধানে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব। ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা বর্তমান ইতিহাসে অন্যতম লজ্জাজনক বিপর্যয়। হাজার হাজার নিরীহ মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের হত্যা করা, তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করা, খাদ্য ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।