সৃষ্টি সুখের উল্লাসে

শাহনেওয়াজ

জাতীয়

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার পঙ্ক্তি-‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে/ মোর মুখ হাসে/ মোর চোখ হাসে/ মোর টগবগিয়ে খুন হাসে’।

2024-03-26T00:51:50+00:00
2024-03-26T03:41:39+00:00
 
  শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬,
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
জাতীয়
সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
মহান স্বাধীনতার ৫৩ বছর আজ
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০২৪, ১২:৫১ এএম  আপডেট: ২৬.০৩.২০২৪ ৩:৪১ এএম  (ভিজিট : ১০৬৩)
সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার পঙ্ক্তি-‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে/ মোর মুখ হাসে/ মোর চোখ হাসে/ মোর টগবগিয়ে খুন হাসে’। এই সৃষ্টি ও উল্লাস কীসের? যেন নজরুলের কবিতার এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার একটি গানে-‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে,/ আমার মুক্তি ধুলায় ধুলায় ঘাসে ঘাসে।’ বাংলা ভাষার দুই মহত্তম কবির এই উল্লাস ও মুক্তি একটি দেশের অর্থনীতির, রাজনীতির, সংস্কৃতির, তথা আপামর জনগণের স্বাধীনতার উল্লাস। বাঙালি জাতির স্বাধীনতার লক্ষ্য নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রাম ছিল অবিরাম। সেই ১৯৪৮ সাল থেকে তিনি স্বাধীনতার স্বপ্নের বীজ বপন করে পরিচর্যায় বড় করে তুলছিলেন। সেই থেকে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু। তরুণ বয়সেই বঙ্গবন্ধু দৃপ্তকণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমি জেল-জুলুমের পরোয়া করি না’। সেই থেকেই শুরু স্বাধীনতা অর্জনের পথে এগিয়ে চলা। 

রেসকোর্স ময়দানে ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বজ্রকণ্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন-‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। বঙ্গবন্ধুর সেই ডাকে সাড়া দিয়েছিল বাংলার আপামর জনগণ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনী বাংলার জনগণের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। বর্বর সে ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়ে বিশ্ববাসী। তবে স্বাধীনতার চূড়ান্ত শপথ নেয় ক্ষুব্ধ ও মুক্তিপাগল বাঙালি। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফে প্রকাশিত সাইমন ড্রিংয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বঙ্গবন্ধুকে টেলিফোনে সতর্ক করা হয়েছিল যে, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। কিন্তু তিনি বাসা ছেড়ে চলে যেতে অসম্মতি জানান। তিনি তাঁর এক সহযোগীকে বলেছিলেন, ‘যদি আমি আত্মগোপন করি, তবে তারা আমাকে খুঁজে পেতে গোটা ঢাকা শহর জ্বালিয়ে দেবে’। 

২৫ মার্চ রাত ১টা ১০ মিনিট। কয়েক ট্রাকবোঝাই সৈন্য বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে ছুড়তে রাস্তা ধরে এগিয়ে আসে। বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে এসে তাদের মধ্যে একজন অফিসার বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি নেমে আসুন। বঙ্গবন্ধু তাঁর বেলকনিতে বেরিয়ে এসে বলেন, হ্যাঁ আমি প্রস্তুত। তবে গুলি ছোড়ার কোনো দরকার ছিল না। আপনারা আমাকে টেলিফোন করে তারপর আসতে পারতেন’। অফিসারটি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে বঙ্গবন্ধুকে বললেন, ‘আপনাকে গ্রেফতার করা হলো।’

২৫ মার্চ সারা রাত চলে গোলাগুলি। থামে ২৬ মার্চ ভোরে। তার আগেই তারবার্তায় চলে আসে বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা। এরপর দীর্ঘ ৯ মাস স্থায়ী হয় এই যুদ্ধ। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হলো, তাদের প্রতি চিরকাল আমাদের গভীর শ্রদ্ধা। যুগ যুগ ধরে ওই বীর সেনানীদের নিয়ে রচিত হয়েছে অসংখ্য অমর গান। সেই সব অমর গানের একটি-‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা/ আমরা তোমাদের ভুলব না’। 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে অসংখ্য অমর গানের পাশাপাশি রচিত হয়েছে অসংখ্য অমর কবিতার, গল্প, উপন্যাস। ১৫ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিল। সে সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের হৃদয়। স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু পরস্পর পরিপূরক। 

কবি শামসুর রাহমান তার স্বাধীনতা তুমি কবিতায় লিখেছিলেন-‘নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগবিদিক, এই বাংলায় তোমাকে আসতেই হবে হে স্বাধীনতা।’ লাখো শহিদের এক সাগররক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। 

সেই স্বাধীনতার স্বাদের পূর্ণতা দিতে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছেন। তারই মধ্যে মহান স্বাধীনতার গৌরবময় ৫৩ বছর পূর্ণ হলো আজ। 

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি 
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবন, দলীয় কার্যালয় এবং সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করবে আওয়ামী লীগ। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটে। পরে বিকাল ৫টায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৪ উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন রাষ্ট্রপতি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটে। দিবসটি উপলক্ষে ভোরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে আওয়ামী লীগ। এতে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন। সকাল ৭টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বেলা ১১টায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একটি প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। পরে সেখানে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২৭ মার্চ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ওই দিন বেলা ১১টায় তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ভবনে আলোচনা সভা হবে। 

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: