নতুন দেখার নতুন জানার মুগ্ধতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে আমাদের বীর মুক্তযোদ্ধারা। সেই সময় তাদের ব্যবহার করা বিভিন্ন অস্ত্র দেখেছি প্রদর্শনীতে।

2024-03-28T11:46:12+00:00
2024-03-28T11:46:12+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
নতুন দেখার নতুন জানার মুগ্ধতা
সম্মিলিত সামরিক জাদুঘর প্রদর্শনী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৪, ১১:৪৬ এএম 
নতুন দেখার নতুন জানার মুগ্ধতা
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে আমাদের বীর মুক্তযোদ্ধারা। সেই সময় তাদের ব্যবহার করা বিভিন্ন অস্ত্র দেখেছি প্রদর্শনীতে। এখানে আসতে পেরে দারুণ লাগছে। নতুন নতুন বিষয় জানতে পারছি। কথাগুলো বলছিল ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আনজুম তাবাচ্ছুম অর্পা। তার চোখে-মুখে ছিল ইতিহাস-বর্তমান জানার মুগ্ধতা।  

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দরে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সম্মিলিত সামরিক বাহিনীর সমরাস্ত্র প্রদর্শনীতে বাবা-মায়ের সঙ্গে এসেছিল এই খুদে শিক্ষার্থী। বিভিন্ন উন্মুক্ত স্টলে প্রদর্শনীগুলো দেখছিল আর বিভিন্ন প্রশ্ন করছিল অর্পা। বুধবার সকালে শত শত শিক্ষার্থী এ প্রদর্শনী দেখতে আসে। দর্শকদের সমরাস্ত্র সম্বন্ধে জানানোর ক্ষেত্রে দায়িত্বরত সামরিক বাহিনীর সদস্যদেরও অনেক আন্তরিক দেখা গেছে।

তেজগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দরে এ প্রদর্শনী দেখতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন ভিড় করছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সমরাস্ত্র, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহিনীর একাধিক জেট প্লেনসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষাসামগ্রী প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনী চলবে ৩০ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে প্রদর্শনী। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর এ প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।

বুধবার সকালে প্রদর্শনীতে গিয়ে দেখা যায়, বিমানবন্দরের রানওয়েতে ঢুকতে ডানপাশে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বিভিন্ন সমরাস্ত্র, বামপাশে নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ প্রদর্শিত হচ্ছে।

এসব স্টলে একাত্তরে রণাঙ্গনে ব্যবহৃত সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর বিভিন্ন সমরাস্ত্রের প্রদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সমকালীন সামরিক সরঞ্জামও স্থান পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ও বীরত্বগাথা তুলে ধরার পাশাপাশি শান্তি মিশনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী কী অবদান রাখছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের বিষয়টি ঠাঁই পেয়েছে। প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল সেনাবাহিনীর প্যারাট্রুপারদের ট্রেনিং এবং তাদের কার্যক্রম। হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান থেকে একজন সৈনিক প্যারাস্যুট নিয়ে কীভাবে ঝাঁপ দিয়ে নিচে পড়ে তা জানার ক্ষেত্রে সবার আগ্রহ ছিল। এ ট্রেনিং করতে হলে সাহসী, চৌকস ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় হতে হয়। প্রদর্শনীতে কৌতূহলী দর্শনার্থীরা অত্যাধুনিক সামুদ্রিক জাহাজ, যুদ্ধবিমান ট্যাঙ্ক, কামান ও মর্টারশেল ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া দর্শনার্থীরা সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমানবাহিনীর সৈন্যদের ব্যবহৃত বিভিন্ন হালকা ও ভারী অস্ত্র প্রত্যক্ষ করেন।

উত্তরা থেকে আসা রাজউক কলেজের এইচএসসি শিক্ষার্থী তুষার মাহমুদ বলে, সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ে আমার খুব আগ্রহ। সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর স্টলে বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্র দেখেছি। স্টলগুলোতে যারা দায়িত্বে রয়েছেন তারা অনেক আন্তরিক। অনেক অস্ত্র হাতে নিয়ে দেখেছি। ওনারা আমাকে দেখিয়েছেন কীভাবে অস্ত্র ব্যবহার করতে হয়। তুষারের বাবা কায়েস আহমেদ বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল অনেক। এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে তাদের সে কৌতূহল অনেকটা মিটবে। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর প্যারাট্রুপারদের ট্রেনিং তার ছেলের কাছে খুব ভালো লেগেছে।

বেলা ১১টায় সরমাস্ত্র প্রদর্শনীর বিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল আবু হায়দার মোহাম্মদ রাসেলুজ্জামান। এরপর প্রতিবেদন তুলে ধরেন সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি লে. কর্নেল মোহাম্মদ হাসিবুল হাসান। তিনি বলেন, এ প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য দর্শনার্থীদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ এবং স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের মাধ্যমে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে তা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া। তিনি বলেন, এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ মেধাবী তরুণ প্রজন্ম এ সাহসী পেশায় যোগদানে আরও অধিক আগ্রহী হয়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, প্রদর্শনীতে দর্শকদের জন্য সেনাবাহিনীর ৩৩টি স্টল রয়েছে। তার মধ্যে সেনাবাহিনীর যুদ্ধে ব্যবহৃত সাঁজোয়া, গোলন্দাজ, পদাতিক বাহিনীর বিভিন্ন প্রকার অত্যাধুনিক সরমাস্ত্র, ইঞ্জিনিয়ার্স, সিগন্যালস, আর্মি অ্যাভিয়েশন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স কোরের বিভিন্ন সরঞ্জামসহ প্যারা কমান্ড, ব্যাটালিয়নের আধুনিক ও বিশেষায়িত যুদ্ধাস্ত্র রয়েছে।

নৌবাহিনীর প্রতিনিধি কমান্ডার আবুল হাসানাত মোদাশ্বের আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বীরত্বগাথার যে ইতিহাস তা নতুন প্রজন্মদের জন্য এ প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে। এখানে প্রদর্শন করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে নৌকমান্ডার পরিচালিত বিশেষ অভিযান অপারেশন জ্যাকপটের তথ্যসংবলিত স্থিরচিত্র। এ ছাড়াও এখানে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ আমিনের বীরত্বগাথার তথ্য। আরও রয়েছে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম প্রধান আসামি শহিদ লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অন্য নৌসদস্যদের দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের সচিত্র বর্ণনা এবং কমান্ডো অপারেশনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম।

বিমানবাহিনীর প্রতিনিধি উইং কমান্ডার মো. এহতেশামুল হক বলেন, এবারও সমরাস্ত্র প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী অংশগ্রহণ করছে। প্রদর্শনীর শুরুতেই রয়েছে তিন বাহিনীর সমন্বিত মুক্তিযুদ্ধ স্টল। ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনী’ শিরোনামে স্থাপিত হয়েছে বিমানবাহিনীর মুক্তিযুদ্ধ স্টল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিমানবাহিনীর বীর যোদ্ধারা রণাঙ্গনে আপামর জনতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল সম্মুখযুদ্ধে, পালন করেছিল সেক্টর কমান্ডারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের মধ্যে ২টি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন বিমানবাহিনীর দুই জন কর্মকর্তা।

সময়ের আলো/জেডআই


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: