ইতিকাফ আরবি শব্দ। এর অর্থ ‘আবদ্ধ করা, আবদ্ধ রাখা ও অবস্থান করা।’ ইতিকাফের পারিভাষিক অর্থ ‘ইতিকাফের নিয়তে নিজেকে নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবদ্ধ রাখা।’ ইতিকাফ দুই প্রকার-১. নফল ইতিকাফ ২. সুন্নত ইতিকাফ। সুন্নত ইতিকাফের জন্য বেঁধে দেওয়া সময়সীমা আছে। রমজানের শেষ দশক তথা, ২০ রমজান সূর্যাস্তের আগ থেকে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়া বা ৩০ রোজা পূর্ণ হয়ে ওই দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদাহ কিফায়াহ। মহল্লার কয়েকজন পুরুষ ইতিকাফের নিয়ত করে মসজিদে অবস্থান করবেন। কয়েকজন আদায় করলেই সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। কেউ গুনাহগার হবেন না। তবে যারা এই ইবাদত (ইতিকাফ) করবেন তারা বিশেষ সওয়াবের অধিকারী হবেন। আর যদি কেউই ইতিকাফ না করে, পাড়া-মহল্লার সবাই গুনাহগার হবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সেই সময়কে স্মরণ করো, যখন আমি কাবাগৃহকে মানব জাতির মিলনকেন্দ্র ও নিরাপত্তাস্থল করেছিলাম আর বলেছিলাম, তোমরা মাকামে ইব্রাহিমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ করো। আর ইব্রাহিম ও ইসমাইলকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী, রুকু ও সেজদাকারীদের জন্য আমার গৃহকে পবিত্র রাখতে আদেশ দিয়েছিলাম।’ (সুরা বাকারা : ১২৫)
ইতিকাফ কোথায় করবেন? পুরুষরা মসজিদে ইতিকাফ করবেন। সর্বদা সেখানে অবস্থান করবেন। প্রাকৃতিক হাজত ও খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হবেন না। ওজু-ইস্তিঞ্জার জন্য বের হলেও কারও সঙ্গে কথা বলবেন না। এমনকি সালামও দিবেন না। আর নারীরা নির্দিষ্ট ঘরে বা নির্ধারিত কক্ষে ইতিকাফ করবেন। প্রাকৃতিক প্রয়োজন ও একান্ত হাজত ছাড়া ওই ঘর থেকে বের হবেন না। ওজু ইস্তিঞ্জা বা পাক-পবিত্রতার জন্য বাইরে বের হলে কারও সঙ্গে কথা বলবেন না। এমনকি সালাম বিনিময়ও করবেন না।
তবে প্রয়োজন হলে ওই কক্ষের ভেতর থেকে বাইরের কাউকে ডাকতে পারবেন এবং কেউ ভেতরে এলে তার সঙ্গে কথাবার্তা বলতে পারবেন। ইতিকাফ কক্ষে এমন কেউও অবস্থান করতে পারবেন না, যারা ইতিকাফ করছেন না। ইতিকাফ কক্ষটি যদি শয়নকক্ষ হয় এবং একই কক্ষে বা একই বিছানায় অন্য যে কেউ অবস্থান করেন, তাতেও কোনো ক্ষতি নেই। এমনকি স্বামীও পাশে থাকতে পারবেন, তবে স্বামী-স্ত্রীসুলভ আচরণ ইতিকাফ অবস্থায় নিষিদ্ধ, এর দ্বারা ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ো না, যখন তোমরা ইতিকাফরত থাকবে মসজিদে।’ (সুরা বাকারা : ১৮৭)
ইতিকাফের উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে প্রধান হলো শবে কদর পাওয়া। রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করলে শবে কদর পাওয়া নিশ্চিত। নফল ইতিকাফেরও গুরত্ব কম নয়। কেউ যদি সুন্নত ইতিকাফ করতে সক্ষম না হয় তা হলে তিনি নফল ইতিকাফ করতে পারেন। নফল ইতিকাফের গুরুত্বও অপরিসীম। নফল ইতিকাফ বছরের যেকোনো সময়ই করা যায়।
ইতিকাফের জন্য রোজা শর্ত; কিন্তু স্বল্প সময় (এক দিনের কম সময়) ইতিকাফ করলে তার জন্য রোজা রাখা শর্ত নয়। নফল ইতিকাফ মানত করলে বা শুরু করে ছেড়ে দিলে, তা পূর্ণ করা ওয়াজিব। এর জন্য রোজা শর্ত এবং এটি এক দিনের কমে হবে না। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় দুনিয়াবি কত কাজে ব্যয় করি। অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে, সুখী দেখতে কত কিছুই না করি! কিছুটা সময় নিজের জন্য বরাদ্দ করতে পারি না আমরা? আখেরাতে নিজেকে ভালো রাখার জন্য পথ তৈরি করতে হবে নিজেকেই। তাই আসুন ইতিকাফে বসি, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করি, জান্নাতের পথে চলি।
সময়ের আলো/আরএস/