সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত ও এক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) চতুর্থ দিনের মতো উত্তাল ছিল। এদিন ১২ বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ভেতরে আটকা পড়েন শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এরই মধ্যে (বৃহস্পতিবার) বিকেলের দিকে ঘোষণা আসে চুয়েট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আরো ক্ষুব্ধ হন শিক্ষার্থীরা। বন্ধের ঘোষণা শোনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আরও একটি বাসে আগুন দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় চুয়েট সংলগ্ন এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়া হয়।
রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, চুয়েটের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আরও একটি বাসে আগুন দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছে। পুলিশ পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
পুলিশ জানায়, বিভাগের গেটগুলোতে তালা দেয়ার পর অনেকে আটকা পড়লেও অনেকে আবার বেরিয়ে যায়। এদিকে চুয়েট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে ছাত্রদের এবং শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিন (বৃহস্পতিবার) একাডেমিক কাউন্সিলের ১৫১তম জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়। ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের একাডেমিক কাউন্সিলের সম্মেলন কক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয় জরুরি সভা।
উপাচার্য মোহাম্মদ রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সহ-উপাচার্য মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক মো. রেজাউল করিম প্রমুখ।
দুই সহপাঠী সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। চুয়েট বন্ধ ও হল ত্যাগের নির্দেশনা আসার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘোষণা শোনার পর পরই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা চত্বর এলাকায় থাকা শাহ আমানত পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেন। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চুয়েট ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি ছিল।
গত ২২ এপ্রিল বেলা সাড়ে তিনটায় মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে বাসের ধাক্কায় পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত সাহা (২২) ও দ্বিতীয় বর্ষের তৌফিক হোসাইন (২১) নিহত হন। আহত হন জাকারিয়া হিমু (২১)। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার জিয়ানগর এলাকায় তিন মোটরসাইকেল আরোহী ছাত্রকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় বেপরোয়া গতির শাহ আমানত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। এরপর হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় অবরোধ কর্মসূচি। আজও (বৃহস্পতিবার) তা অব্যাহত ছিল। ছাত্ররা ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহবান জানিয়েছে।
সময়ের আলো/আরআই