ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য সংলগ্ন মেট্রোরেলের পিলারে হাসিনার গ্রাফিতি একে 'ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঘৃণাস্তম্ভ' নাম দিয়ে জুতা ও ঝাড়ু নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল সকল ছাত্রসংগঠন।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর একটায় এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল সকল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করে। এসময় শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনার ফাঁসির দাবিতে নানা স্লোগান দেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফ বলেন, খুনি হাসিনার এই গ্রাফিতিটি তার ১৫ বছরের অত্যাচার, নিপীড়নের চিত্রটি তুলে ধরতো। কিন্তু গত পরশু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এটা মুছে ফেলেছিল। তারই প্রতিবাদস্বরূপ আমরা পুনরায় এই গ্রাফিতি অঙ্গন করে সেখানে জুতা নিক্ষেপ করি।
আরেক শিক্ষার্থী আশিক খান বলেন, ৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনাকে না পেলেও এই গ্রাফিতিকে সর্বোচ্চ ঘৃণা ভরে জুতা, কালি নিক্ষেপ করে জনতা। এই গ্রাফিতি হাসিনার প্রতি মানুষের যে ঘৃণা সেটা প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেখতে পারবে। এই গ্রাফিতি পুনরায় কেউ মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালালে তাকে যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।
এর আগে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পর জনতা এই গ্রাফিতিতে জুতা নিক্ষেপ, রক্তের প্রতীক স্বরূপ লাল রং, ইট-পাটকেল ও ঝাড়ু মেরে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফলে একসময়ের গ্রাফিতি জনতার ক্ষোভ ও ঘৃণার প্রতীকে রূপ নেয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য সংলগ্ন শেখ হাসিনার ছবিযুক্ত মেট্রোরেলের পিলারে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঘৃণাস্তম্ভ সংরক্ষণ ফলক স্থাপন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
তবে গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদের অনুমতিতে মেট্রোরেলের কর্মীরা এটি মুছে ফেলেন। পরে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে মাঝপথে মোছার কাজ বন্ধ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দপ্তর রোববার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেট্রোরেলের ওই পিলারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ঘৃণাস্তম্ভ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার এই ঘৃণাকে যুগ যুগ ধরে সংরক্ষণের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গ্রহণ করবে। ছবি মুছে ফেলার কাজটি নিষ্পাপ সিদ্ধান্ত ছিল দাবি করে দুঃখ প্রকাশও করেন প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ।
সময়ের আলো/এএ/