আমাদের দেশে উৎসব-অনুষ্ঠানে, বিশেষত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়। সুগন্ধি ও আতর রাসুল (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় ছিল। হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘চারটি বস্তু সব নবীর সুন্নত-আতর, বিয়ে, মেসওয়াক ও লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২৪৭৮)। নবীজি (সা.) সুগন্ধির প্রতি খুবই অনুরাগী ছিলেন।
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত-মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের দুনিয়া থেকে আমার কাছে তিনটি জিনিস অধিক প্রিয়। নারী, সুগন্ধি, আর আমার চক্ষু শীতল হয় নামাজের মাধ্যমে’ (নাসায়ি, হাদিস : ৩৯৩৯)। বুখারির এক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে কেউ সুগন্ধি উপহার দিলে তিনি তা গ্রহণ করতেন, ফিরিয়ে দিতেন না। আবার কেউ সুগন্ধি দিলে ফিরিয়ে দিতেও তিনি নিষেধ করেছেন (বুখারি)। নারীরাও স্বামীর উপস্থিতিতে সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবে। বর্তমানে মানুষ বিভিন্ন রকমের পারফিউম ব্যবহার করে থাকে।
এ ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা হলো, যেসব পারফিউমে অ্যালকোহল আছে অথবা শরিয়ত সমর্থন করে না এমন বস্তু দ্বারা তৈরি পারফিউম ব্যবহার করা যাবে না। ইসলামে অ্যালকোহল, আঙুর, খেজুর অথবা কিশমিশ থেকে তৈরি বডি স্প্রে ব্যবহারের জন্য বারণ করা হয়েছে। নবীজি (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তুই হারাম’ (বুখারি : ৪৩৪৩)। যেসব সেন্ট বা বড়ি স্প্রে শরীরের অভ্যন্তরে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না সেগুলো ব্যবহারে আপত্তি নেই (জাদিদ ফিকহি মাসাইল : ১/৩৮)। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত অনুযায়ী, বাজারে প্রচলিত অ্যালকোহল যদি খেজুর ও আঙুর থেকে প্রস্তুত না হয়, তা হলে তা বৈধ কাজের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে অসুবিধা নেই। নেশার উদ্রেক হয় না এই পরিমাণ ব্যবহার করা বৈধ। আর এটিই স্বাভাবিক সত্য যে বর্তমানে বেশিরভাগ অ্যালকোহল আঙুর ও খেজুর থেকে তৈরি হয় না। সুতরাং এসব বৈধ উদ্দেশ্যে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। তেমনি ওষুধ তৈরিতে বা চিকিৎসায়ও ব্যবহার করা যাবে। অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা যাবে। (তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম : ১/৩৪৮, ৩/৩৩৭; ফিকহুল বুয়ু : ১/২৯৮)
যেসব সাজসামগ্রী হালাল বস্তু দ্বারা তৈরি, যা দ্বারা আল্লাহর সৃষ্টি করা গঠনে কোনো বিকৃতি ঘটে না, তা ব্যবহার করা জায়েজ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জা ইসলামি জীবনরীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইসলাম নির্দেশ দেয়, স্ত্রী যেন ঘরেও স্বামীর জন্য সর্বোত্তম সাজসজ্জা করে থাকে। স্বামীর উদ্দেশে সাজসজ্জা করা একটি ইবাদত। ‘আজীবনের সঙ্গী’ অথবা ‘সবসময় দেখছে’ বলে তার সামনে একেবারে অগোছাল থাকা ইসলামি শিক্ষাবিরোধী। (আলমুফাসসাল ফি আহকামিল মারআ : ৩/৩৪৮)
তবে প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহার নিষেধ করা হয়েছে। এতে পর্দা লঙ্ঘন হয়। হাদিসে ওইসব নারীকে অভিসম্পাত করা হয়েছে যারা সুগন্ধি মেখে বের হয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক চক্ষুই ব্যভিচারী। আর কোনো মহিলা যদি সুগন্ধি ব্যবহার করে কোনো পুরুষের মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তবে সেও ব্যভিচারিণী’ (আবু দাউদ; সহিহুল জামে : ৪৫৪০)। আল্লাহ সবাইকে সঠিক বিষয় বোঝার ও মেনে চলার তওফিক দিন।
সময়ের আলো/আরএস/