দেশে পুরো মাসজুড়েই তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। কোথাও মাঝারি, কোথাও তীব্র আবার কোথাও-বা অতি তীব্র। আর চলমান এ দাবদাহের মধ্যে গত এক সপ্তাহে হিটস্ট্রোক আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২২ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১৫ জন হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হন, যাদের মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মাদারীপুরে মারা গেছেন দুজন। আর চুয়াডাঙ্গা, খুলনা, হবিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, লালমনিরহাট, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় মৃত্যু হয়েছে একজন করে।
দেশের বিভিন্ন উপজেলা, জেলা সরকারি হাসপাতাল এবং সিভিল সার্জন অফিস থেকে পাঠানোর তথ্যের ভিত্তিতে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।
এ পরিসংখ্যানে কেবল সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের তথ্য স্থান পেয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু অথবা হাসপাতালের বাইরের মৃত্যুর তথ্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে আসেনি।
সংস্থাটির এমআইএস শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগী বা হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসে মারা গেছেন, এমন তথ্যই দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
ডা. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ইনডোরে ভর্তি রোগী এবং হিটস্ট্রোকের সিম্পটম নিয়ে যারা মারা যাচ্ছে, তাদের তথ্য আমাদের কাছে আসে। আমাদের সিস্টেমে যেটুকু আসে, সেটুকুই কন্ট্রোল রুম আপলোড দেয়। বাইরে কোথাও আক্রান্ত বা মৃত্যু হলেও সেই তথ্য আমাদের কাছে আসে না।
চলতি মৌসুমে টানা ৩১ দিন ধরে চলা দাবদাহ আরো দুয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে বলে আভাস দিয়ে রেখেছে আবহাওয়া অফিস। এরইমধ্যে মঙ্গলবার যশোরে থার্মোমিটারের পারদ উঠেছে ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলিসিয়াসে। এটি দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। এর আগের দিন সোমবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আর ঢাকায় ছিল ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার ঢাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও চুয়াডাঙ্গা ও যশোরে বেড়েছে।
সময়ের আলো/জিকে