রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জেরে হলের নিরাপত্তাপ্রহরীকে মারধর

রাবি প্রতিনিধি

শিক্ষা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার জেরে হলের এক নিরাপত্তাপ্রহরীকে মারধর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের

2024-05-12T19:41:12+00:00
2024-05-12T19:41:12+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
শিক্ষা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জেরে হলের নিরাপত্তাপ্রহরীকে মারধর
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১২ মে, ২০২৪, ৭:৪১ পিএম 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জেরে হলের নিরাপত্তাপ্রহরীকে মারধর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার জেরে হলের এক নিরাপত্তাপ্রহরীকে মারধর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর অনুসারীরা। 

রোববার (১২ মে) সকাল ৬টার দিকে হল গেটে হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান আতিকের নেতৃত্বে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় আহত নিরাপত্তাপ্রহরী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আহত নিরাপত্তাপ্রহরীর নাম মনিরুল ইসলাম। এ ঘটনায় জড়িত অন্য নেতা-কর্মীরা হলেন, মাদার বখ্শ হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী সানি হাজারী, মতিহার হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী আজিজুল হক আকাশ ও কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি। 

হলের সিসিটিভি ফুটেজ ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে হলে প্রবেশ করেন হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক। তিনি নিরাপত্তাপ্রহরী মনিরুল ইসলামকে ডেকে এনে হল গেটের ভেতর বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন। এ সময় তার সঙ্গে যোগ দেন অভিযুক্ত অন্য নেতা-কর্মীরা। এক পর্যায়ে আকাশ ও অন্যরা তাকে চড়-থাপ্পর মারতে শুরু করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী মনিরুল ইসলাম বলেন- আতিক কখন হলে আসে, কখন যায়, কখন কি করে এসব তথ্য তিনি নিয়াজকে পাঠান এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আতিকের নেতা-কর্মীরা তাকে মারধর করে। এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনি হল প্রাধ্যক্ষর কাছে এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। 

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান বলেন, 'ওই নিরাপত্তাকর্মী আমাদের তথ্য শিবির ও ছাত্রদলের কাছে পাচার করতো। আমার ছোট ভাইয়েরা তাকে আটক করে হল প্রাধ্যক্ষের কাছে তুলে দিয়েছেন।'

তবে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেলেও অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অপর দুই অভিযুক্ত। অভিযুক্ত আকাশ ও সানি বলেন, ‘আমরা ওই সময় ঘুমাচ্ছিলাম। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।  

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আতিকের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মী এসে আমাদের এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করেছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

প্রসঙ্গত, গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১১টা থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত ছাত্রলীগের দুই পক্ষের ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় দফায় দফায় রামদা ও লাঠিসোঁটা হাতে একে অপরকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল গেট এবং মাদার বখ্শ হলের মধ্যবর্তী স্থানে দুই পক্ষ অবস্থান নিয়ে এ হামলা চালায়। তবে এতে কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

সংঘর্ষে জড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু এবং শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদের পক্ষ। তবে সংঘর্ষ চলাকালে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিবের অনুসারীদের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর হয়ে হামলা চালাতে দেখা গেছে।

আবাসিক হল ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, গেস্টরুমে বসাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের গেস্টরুমে নিয়াজের কয়েকজন কর্মী বসে ছিলেন। এ সময় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি আতিকুর রহমান ওরফে আতিক কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে গেস্টরুমে আসেন। আতিক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর অনুসারী। এ সময় আতিক নিয়াজের অনুসারীদের কিছুক্ষণের জন্য চলে যেতে বলেন।

কিন্তু নিয়াজের অনুসারীরা চলে যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরে আতিক নিয়াজকে ফোনে করে তার অনুসারীদের যেতে বলেন। কিন্তু নিয়াজ তার অনুসারীরা সেখানেই থাকবে বলে আতিককে জানান এবং সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে আতিক তার অনুসারীদের নিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন।

খবরটি জানাজানি হলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর অনুসারীরা বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল গেটে এসে অবস্থান নেন। এ সময় তাদের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিবের অনুসারীরাও যোগ দেন। একপর্যায়ে নিয়াজ ও তার অনুসারীরা হলের ছাদ থেকে মিছিল নিয়ে সভাপতির অনুসারীদের ওপর ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিক্ষেপ করে হলগেট দখলে নিয়ে তালা দেন। কিছুক্ষণ পর মোস্তাফিজুর রহমান বাবু ও গালিবের অনুসারীরাও পাল্টা আক্রমণ চালান। এ সময় ছয়টি ককটেলের বিস্ফোরণ হয়। এ ছাড়া দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের হাতে রামদা ও লাঠিসোঁটা দেখা গেছে। দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলতে থাকে।

খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদসহ হল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল পর্যক্ষণে আসেন অধ্যাপক সহ-উপাচার্য সুলতান-উল-ইসলাম ও অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তারিকুল হাসান। রাত আড়াইটা পর্যন্ত থেমে থেমে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনের সঙ্গে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা সোহরাওয়ার্দী হলের সন্দেহভাজন কক্ষগুলোতে তল্লাশি চালায়। এরপর রাত পৌনে তিনটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সময়ের আলো/জিকে


Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: