রিমালের চোখ খুলেছে। প্রলয়ঙ্করী এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে যা ক্ষতি হওয়ার তাই হয়েছে। লন্ডভন্ড হয়েছে উপকূল। মোংলার কাছ দিয়ে ভারতের সাগর আইল্যান্ড খেপুপাড়া অতিক্রম করে বাংলাদেশের খেপুপাড়া ও পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মাঝে স্থলভাগে আছড়ে পড়েছে রিমাল। পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয় অধিদফতর। আবহাওয়া অফিস সবশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, ঝড়ের গতি ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে ফুপু ও বোনকে রক্ষা করতে গিয়ে মো. শরীফ (২৭) নামের এক তরুণে মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধূলাসর ইউনিয়নের কাউয়ারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শরীফ অনন্তপাড়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে। এ ছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার রাত সাড়ে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় বঙ্গোপসাগরের প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল সাতক্ষীরা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আঘাত করে বলে জানা গেছে। এ সময় উপকূলীয় জেলাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিমানবন্দর বন্ধসহ বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে রিমালের প্রভাবে রোববার সকাল থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ জেলায় দমকা ও ঝোড়ো বাতাস অব্যাহত থাকে। প্রবল শক্তি অর্জনকারী রিমালের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো সুন্দরবন তলিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সময়ের আলোর বিভিন্ন প্রতিনিধির পাঠানো সংবাদ অনুযায়ী বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রিমালের অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপের পার্থক্য বেশি হওয়ার কারণে উপকূলীয় জেলাগুলো জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে। ফলে ওইসব এলাকায় সব ধরনের নৌযান বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু টানেল, শাহ আমানত ও বরিশাল বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত বেসরকারি সংস্থা থেকে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের চোখ তৈরি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় চারপাশের মেঘগুলো ঘুরে ঘুরে মাঝখানে একটা চোখের মতো অবয়ব তৈরি করে, যা রিমালের মধ্যেও দেখা দিয়েছে। এটি একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়।
আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান খান জানিয়েছিলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমাল প্রচণ্ড শক্তি দেখিয়ে উপকূলের দিকে অতিক্রম করবে। তবে ইতিমধ্যে রিমালের অগ্রভাগ সমুদ্র উপকূলে আঘাত হেনেছে। এর ফলে কক্সবাজারের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে। বাগেরহাটের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝালকাঠিতে অনেক এলাকা পানির তোড়ে ডুবে যাওয়ার ফলে বেশিরভাগ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।
এর আগে ভারতের আবহাওয়া বিভাগের বিজ্ঞানী সোমনাথ দত্ত বলেছিলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমাল গত ৬ ঘণ্টায় ১৩ কিলোমিটার বেগে উত্তর বঙ্গোপসাগরের দিকে ধেয়ে এসে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করে। সেখানে ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৯৫-১০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাবে। রোববার মধ্যরাতে এটি সাগর দ্বীপ ও খেপুপাড়ার মধ্যবর্তী অঞ্চল অতিক্রম করবে। সেই সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০-১২০ কিলোমিটার হতে পারে।
রিমালের তীব্রতার ফলে উপকূলীয় বেশ কয়েকটি জেলায় একদিকে প্রচণ্ড ভারী বৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে জলোচ্ছ্বাসে রূপ নিয়ে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত করেছে। এমনকি ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় বৃষ্টি হয়েছে। তবে রাত ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া না গেলেও কুয়াকাটায় জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। বাঁধ ভেঙে রাঙাবালির ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী সচিবালয়ে এক বিফ্রিং করেন। সেখানে তিনি ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে দায়িত্ব পালনের জন্য সব সরকারি কর্মচারী-কর্মকতার ছুটি বাতিলের ঘোষণা দেন। এ ছাড়াও পরিস্থিতি উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত দেশের দুযোগপূর্র্ণ অঞ্চলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী ১৬ জেলার জন্য মানুষের নিরাপদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ৬ হাজার মানুষ কাজ করছে। পাশাপাশি পুলিশ, নৌপুলিশ, বিজিবি, গ্রাম পুলিশ সদস্যরা ঘূর্ণিঝড় ও পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। এ ছাড়া রিমাল মোকাবিলায় উপকূলে ১০ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সকাল থেকেই উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়।
উপকূলে ১০ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েন : ঘূর্ণিঝড় রিমাল মোকাবিলায় উপকূলীয় জেলাগুলোতে ১০ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় রিমাল বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে প্রবল বেগে ধেয়ে আসছে। ইতিমধ্যেই উপকূলীয় বিভিন্ন স্থানে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, রিমালের ফলে ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে স্থানীয় জনসাধারণের জানমালের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী উপকূলীয় ১২ জেলায় ১০ হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্যকে চার দিনের জন্য মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় রেঞ্জ কমান্ডার, জেলা কমান্ড্যান্ট ও আনসার ব্যাটালিয়ন অধিনায়কদের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রিমাল মোকাবিলায় সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে স্টেশনে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য সদর দফতরে অপস কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘূর্ণিঝড় রিমাল মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কমান্ডার ও জেলা কমান্ড্যান্টরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং ক্ষেত্রবিশেষে নিজ উদ্যোগে দুর্গত মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা ও মাইকিং করে প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার কাজ করছেন। এ ছাড়াও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা স্থানীয়দের হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে সহায়তা করছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রিমাল মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ, ব্যাটালিয়ন ও জেলা কমান্ড্যান্টের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড দলনেতা-দলনেত্রী, উপজেলা ও ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার ও সহকারী আনসার কমান্ডারদের ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
সময়ের আলোর প্রতিনিধি সূত্রে পাওয়া সংবাদে আরও জানা গেছে, বিভিন্ন উপকূলীবর্তী কোনো কোনো জেলার অনেক অঞ্চল জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে। কুয়াকাটার সব আবাসিক হোটেল আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে চালু করা হয়েছে। ঝোড়ো বাতাসে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে তছনছ করে দিয়েছে কোনো কোনো এলাকা। ভাটা থাকা সত্ত্বেও নদীর পানি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। খুলনায় বৃষ্টি আর দমকা হাওয়ায় অনেক ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে রেড ক্রিসেন্ট।
কলাপাড়ায় তরুণ ও শ্যামনগরে বৃদ্ধের : সময়ের আলোর পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমালের কবল থেকে ফুপু ও বোনকে রক্ষা করতে গিয়ে মো. শরীফ (২৭) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধূলাসর ইউনিয়নের কাউয়ারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শরীফ অনন্তপাড়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীফের ফুপু মাতোয়ারা বেগম কাউয়ারচর এলাকায় বসবাস করেন।এদিন দুপুর ২টার দিকে অনন্তপাড়া থেকে শরীফ তার বড় ভাই ও ফুফাকে নিয়ে বোন এবং ফুপুকে উদ্ধার করতে যান। এ সময় সমুদ্রের পানিতে প্লাবিত ছিল কাউয়ারচর এলাকা। সাঁতার কেটে তারা ফুপুর বাড়ি থেকে ফেরার সময় সমুদ্রের ঢেউয়ের তোড়ে শরীফ হারিয়ে যান। এর দুই ঘণ্টা পর ওই স্থান থেকে শরীফের মরদেহ উদ্ধার করেন কুয়াকাটা নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
দৈনিক সময়ের আলোর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমাল সাতক্ষীরার উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করেছে। প্রচণ্ড বেগে বইছে ঝড়ো বাতাস। এরই মধ্যে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের নাপিতখালী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে শওকাত মোড়ল (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি গাবুরা ইউনিয়নের নাপিতখালী গ্রামের মৃত নরিম মোড়লের ছেলে।
শওকাত মোড়লের পুত্রবধূ আছমা খাতুন জানান, রোববার সন্ধ্যার দিকে তার শ্বশুর স্ত্রীকে নিয়ে নাপিতখালী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে মারা যান। গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম জানান, শওকাত মোড়ল অসুস্থ ছিলেন।
জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে সুন্দরবন : বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, রোববার রাতে বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৯৫ কিমি দক্ষিণে অবস্থান করছিল ঘূর্ণিঝড় রিমাল। এ কারণে মোংলা বন্দরসহ সুন্দরবন উপকূলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে পুরো সুন্দরবন। রোববার মোংলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ হারুন অর রশিদ ও পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজননকেন্দ্র ও পর্যটন স্পটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আজাদ কবির বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে সাড়ে চার ফুট পানি বেড়ে সুন্দরবন তলিয়ে গেছে। রাতে পানির চাপ আরও বাড়বে। তবে প্রজননকেন্দ্রের বন্যপ্রাণীর ক্ষয়ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ নূরুল করিম জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পুরো সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন বিভাগের ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে থাকা বনরক্ষীদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।
কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত, বিমান চলাচল বন্ধ : রিমালের কারণে জোয়ারের পানির প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া, গোদার পাড়া, কলাতলী, নুরপাড়াসহ নিম্ন এলাকার ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সেই সঙ্গে স্থানীয় বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত তিন-চার ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। ৯ নম্বর বিপদ সংকেত ঘোষণার পর থেকে উপকূলের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। উপকূলের পাঁচ লাখ মানুষকে সরাতে কাজ চলছে। এ ছাড়া রোববার কক্সবাজার রুটে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়। কক্সবাজার বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ওই রুটে প্রতিদিন ২০-২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করে দেশের ৪টি এয়ারলাইন্স। সকাল ৭টার পর থেকে ফ্লাইটগুলো রাত ৯টা পর্যন্ত কক্সবাজার রুটে চলাচল করে। কিন্তু রোববার রিমালের কারণে সব ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে।
ঝালকাঠিতে আবাসিক এলাকায় নদীর পানি : রিমালের প্রভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করেছে। নদী তীরবর্তী মানুষগুলো মূল্যবান জিনিসপত্র ও গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে।
পাথরঘাটায় জোয়ারের পানিতে কয়েক গ্রাম প্লাবিত : ঘূর্ণিঝড় রিমাল ও পূর্ণিমার জোয়ারের চাপে পাথরঘাটায় বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব। এদিকে জোয়ারের বৃদ্ধি পাওয়া অতিরিক্ত পানি নির্দিষ্ট সময় পরও না কমায় চিন্তিত উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা।
পানি বৃদ্ধি পেয়ে পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১৫টির মতো গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন এসব এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। স্বল্প উচ্চতার রিংবাঁধের কারণে এসব এলাকায় পানি ঢুকে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সময়ের আলো/আরএস/