উত্তম ব্যবহারে সদকার সওয়াব

মাহমুদ হাসান

ইসলামের আলো

পৃথিবীতে সব মানুষ অন্যের সাহায্য নিয়ে চলে। ধনী ব্যক্তির প্রয়োজন হয় গরিবের শ্রম, গরিবের দরকার হয় ধনী ব্যক্তির অর্থ। এভাবেই

2024-06-06T01:45:56+00:00
2024-06-06T01:45:56+00:00
 
  শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬,
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
উত্তম ব্যবহারে সদকার সওয়াব
মাহমুদ হাসান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ জুন, ২০২৪, ১:৪৫ এএম   (ভিজিট : ৬১২)
উত্তম ব্যবহারে সদকার সওয়াব
পৃথিবীতে সব মানুষ অন্যের সাহায্য নিয়ে চলে। ধনী ব্যক্তির প্রয়োজন হয় গরিবের শ্রম, গরিবের দরকার হয় ধনী ব্যক্তির অর্থ। এভাবেই পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে মানবসভ্যতা এগিয়ে চলে। পৃথিবীর সব মানুষ যদি ধনী হয়ে যেত তা হলে সভ্যতা নির্মাণ করার লোক খুঁজে পাওয়া যেত না। ধনীদের কর্তব্য গরিবের প্রতি আন্তরিক হওয়া, তাদের মুখে হাসি ফোটানো। দান ও অনুদানের হাত প্রসারিত করা। 

মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি বিরাট অনুগ্রহ হলো রবের সন্তুষ্টিতে দান-সদকা করা। এটা মানুষের জন্য আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। কেননা এর মধ্য দিয়ে মহান আল্লাহ মানুষের জন্য রেখেছেন প্রভূত কল্যাণ। দান-সদকার ফলে আল্লাহ তায়ালা বান্দার গুনাহ মাফ করেন, আয়ের মধ্যে বরকত দেন, পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি করেন ও বিভিন্ন বিপদ থেকে হেফাজত করেন। তা ছাড়া দানের ফলে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়, শান্তি-শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায় এবং সুন্দর ও সৌহার্দ সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয় দানশীল পুরুষগণ ও দানশীল নারীগণ এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে তাদের দেওয়া হবে বহুগুণ বেশি। তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার’ (সুরা হাদিদ : ১৮)।

এ আয়াতে মহান আল্লাহ দানশীল নারী-পুরুষদের জন্য কল্যাণের সুসংবাদ দিয়েছেন। তা ছাড়া আল্লাহ প্রদত্ত এই অনুগ্রহের মধ্যে সর্বপ্রথম যে দানের কথা আসে তা হলো জাকাত। জাকাত হচ্ছে দান-সদকার মধ্যে একটি ফরজ পর্যায়ের ইবাদত, যা কেবল সামর্থ্যবানদের ওপর ফরজ করা হয়েছে। আর এই দানের ফলে বান্দার ধনসম্পদ পবিত্র হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠা করো ও জাকাত দাও এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা বাকারা : ৪৩)

দানের কারণে কখনো সম্পদ কমে না, বরং বৃদ্ধি পেতে থাকে। বাহ্যিকতায় সুদের বৃদ্ধি দেখলেও প্রকৃত অর্থে সুদে রয়েছে মহাক্ষতি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত করেন’ (সুরা বাকারা : ২৭৬)। দান-সদকা এমন একটি বিষয়, যা আল্লাহর সন্তুষ্টিতে যদি কোনো ক্ষুদ্র কাজও করা হয়, তা-ও কিন্তু সদকা হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি নিজের প্রতিপাল্য ও অধীনস্থ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণে যে অর্থ আমরা ব্যয় করি তা-ও কিন্তু সদকা হিসেবে বিবেচিত। এই ক্ষেত্রে যে সওয়াব মিলে তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এভাবে, তুমি যা কিছুই ব্যয় করো, সেটাই তোমার জন্য সদকা। এমনকি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমা তুমি তুলে দাও সেটাও। (বুখারি : ৫৩৫৪)

অধিকাংশ মানুষই অর্থসম্পদ দান করাকে কেবল দান-সদকা হিসেবে বুঝে থাকেন। মূলত তা নয়, বরং কাউকে কথা দিয়ে সহযোগিত করা, কারও কাজে সহায়তা করা, পথহারা ব্যক্তিকে পথ দেখিয়ে দেওয়া, অসুস্থ ব্যক্তিকে সেবা করা, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া, দুজনের মধ্যে মীমাংসা করা, স্ত্রীর সঙ্গে মুচকি হাসা, স্ত্রীর মুখে খাবার তুলে দেওয়া, হাসিমুখে কথা বলা, অসহায় ব্যক্তিকে সাহায্য করা, মজলুমের পাশে দাঁড়ানো, উত্তম পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকা, ভালো ব্যবহার ও উত্তম আচরণ করা, অতিথি সেবা, পথের কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা ইত্যাদি যত প্রকার কল্যাণমুখী কাজ রয়েছে সব ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিতে করা কাজগুলো সদকা হিসেবে বিবেচিত।

দান-সদকার এত গুরুত্ব থাকার আরও একটি বিশেষ কারণ হলো, বান্দার ওপর আল্লাহর রাগান্বিত অবস্থায় যদি কোনো বান্দা দান-সদকা করেন, তা হলে মহান আল্লাহ রাগকে ছুড়ে ফেলে বান্দার ওপর খুশি হয়ে যান এবং রহমত বর্ষণ করেন। সুতরাং, প্রত্যেকের উচিত বেশি বেশি দান-সদকা করা এবং দান-সদকার কাজে উৎসাহিত করা।

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: