কুরআনে বর্ণিত সফল জীবনের সূত্র

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান

ইসলামের আলো

মানুষ সাধারণত পার্থিব সফলতাকেই প্রকৃত সফলতা মনে করে। অথচ দুনিয়ার এ সফলতা ক্ষণস্থায়ী। একদিন শেষ হয়ে যাবে। প্রকৃত সফলতা হচ্ছে

2024-06-06T04:12:44+00:00
2024-06-06T04:12:44+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬,
২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
ইসলামের আলো
কুরআনে বর্ণিত সফল জীবনের সূত্র
মুহাম্মদ মিজানুর রহমান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ জুন, ২০২৪, ৪:১২ এএম 
কুরআনে বর্ণিত সফল জীবনের সূত্র
মানুষ সাধারণত পার্থিব সফলতাকেই প্রকৃত সফলতা মনে করে। অথচ দুনিয়ার এ সফলতা ক্ষণস্থায়ী। একদিন শেষ হয়ে যাবে। প্রকৃত সফলতা হচ্ছে পরকালের সফলতা। যে এটা অর্জন করবে সেই প্রকৃত সফল। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সুতরাং যাকে জাহান্নামের আগুন থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই হবে প্রকৃত সফল। আর পার্থিব জীবন ছলনাময়, ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়’ (সুরা আলে ইমরান : ১৮৫)। একজন মুমিনকে সফলতা অর্জন করতে হলে যেসব গুণ অর্জন করতে হবে আল্লাহ তায়ালা তা কুরআনে বিশদভাবে আলোচনা করেছেন।

শিরক থেকে মুক্ত থাকা : আল্লাহর প্রিয় বান্দারা তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করে না। কারণ শিরক হচ্ছে অমার্জনীয় অপরাধ। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের অসংখ্য জায়গায় বান্দাকে শিরকের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং শিরক থেকে বেঁচে থাকার আদেশ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ইবাদত করো আল্লাহর, তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করো না।’ (সুরা নিসা : ৩৬)

নম্রভাবে চলাফেরা করা : নেককার ব্যক্তিরা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে। গর্বভরে চলে না, অহংকারীর ন্যায় পা ফেলে না। অহংকারের সঙ্গে বুক ফুলিয়ে চলে না। দুনিয়ার প্রথম পাপ বা গুনাহের সৃষ্টি হয়েছে এ অহংকারের মাধ্যমে। অহংকারের মাধ্যমেই ইবলিস চিরদিনের জন্য অভিশপ্ত হয়েছে। প্রকৃত মুমিন স্বৈরাচারী ও বিপর্যয়কারীর মতো চলার মাধ্যমে নিজের শক্তি প্রকাশ করার চেষ্টা করে না। বরং তাদের চালচলন হয় ভদ্র, মার্জিত ও সৎ স্বভাবসম্পন্ন ব্যক্তির মতো। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যার অন্তরে তিল পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর যার অন্তরে তিল পরিমাণ ঈমান রয়েছে সে জাহান্নামে যাবে না।’ (মুসলিম, হাদিস : ৯১)

মূর্খদের এড়িয়ে চলা : মুমিন বান্দাদের সঙ্গে যখন কোনো জাহেল লোক কথা বলে তখন তারা সালাম জানিয়ে চলে আসে। জাহেল মানে অশিক্ষিত বা লেখাপড়া না জানা লোক নয় বরং এমন লোক যারা জাহেলি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, যদিও তারা আক্ষরিক অর্থে জ্ঞানী হয়। আল্লাহর বান্দাদের পদ্ধতি হচ্ছে, তাদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহার করলে তারা গালির জবাবে গালি এবং দোষারোপের জবাবে দোষারোপ করে না। হয়তো চুপ থাকে নয়তো মার্জিত ভাষায় উত্তর দেয়। কুরআনের অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর যখন তারা কোনো বেহুদা কথা শোনে, তা উপেক্ষা করে যায়। বলে, আমাদের কাজের ফল আমরা পাব এবং তোমাদের কাজের ফল তোমরা পাবে। সালাম তোমাদের, আমরা জাহেলদের সঙ্গে কথা বলি না।’ (সুরা কাসাস, আয়াত : ৫৫)

রাত জেগে ইবাদত করা : আল্লাহর প্রিয় বান্দারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে। রাতের ইবাদতকারীর জন্য আল্লাহ তায়ালা কল্যাণের দ্বার খুলে দেন। এর মাধ্যমে বান্দা প্রভুর প্রেমে গভীর রাতে আরামের শয্যা ত্যাগ করে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হয়। এ নামাজ মুমিনের মন ও চরিত্রকে নির্মল এবং পবিত্র করে। ইবাদতে রাত জাগরণের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ এই যে, এ সময়টি নিদ্রা ও আরামের। এতে সালাত ও ইবাদতের জন্য দণ্ডায়মান হওয়া যেমন বিশেষ কষ্টকর, তেমনি এতে লোক দেখানো ও নাম-যশেরও আশঙ্কা নেই। এ জন্য রাসুল (সা.) তাঁর প্রিয় সাহাবাদের রাতের ইবাদত (তাহাজ্জুদ) পড়ার জন্য তাগিদ দিতেন। আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদের বিভিন্ন স্থানে তাদের প্রশংসা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের পিঠ বিছানা থেকে আলাদা থাকে, নিজেদের রবকে ডাকতে থাকে আশায় ও আশঙ্কায়।’ (সুরা সাজদাহ : ১৬)

সম্পদ ব্যয়ে পরিমিতিবোধ : আল্লাহর প্রিয় বান্দারা ব্যয় করার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে। আল্লাহ বলেন, ‘আর যখন তারা ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না, আর কৃপণতাও করে না; এ দুইয়ের মধ্যবর্তী পন্থা গ্রহণ করে’ (সুরা ফোরকান : ৬৭)। অপব্যয় ও কৃপণতা-এ দুটির মধ্যে সমতা রক্ষা করে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলে ঘোষণা করেছেন। অপচয় ও অপব্যয়ের কারণে মানুষের জীবন থেকে বরকতও হ্রাস পায়। এর ফলে মানুষের ধনসম্পদ ক্রমে হ্রাস পায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আহার করো ও পান করো, কিন্তু অপব্যয় করবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৩১)

খুনখারাবি থেকে মুক্ত থাকা : মুমিন ব্যক্তি কখনো খুনখারাবিতে লিপ্ত হতে পারে না এবং ব্যভিচারে লিপ্ত হয় না। মানব হত্যা ও ব্যভিচার আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত পাপ। মানব হত্যার পরকালীন বিধান সম্বন্ধে কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে, ‘কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে লানত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত রাখবেন’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৯৩)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! আল্লাহর চেয়ে রাগী আর কেউ নেই, তিনি রাগ করেন তাঁর সেই বান্দা-বান্দির প্রতি, যারা ব্যভিচার করে। আল্লাহর শপথ, আমি যা জানি যদি তোমরা তা জানতে, তা হলে অবশ্যই কম হাসতে এবং বেশি বেশি কাঁদতে!’ (বুখারি, হাদিস : ১০৪৪)

মিথ্যা পরিহার করা : আল্লাহর সৎ বান্দাদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা জেনেশুনে সব প্রকার মিথ্যা কথা বা এ ধরনের মজলিসে উপস্থিত হয় না। আজেবাজে কথা ও কাজ দেখাশোনা অথবা তাতে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে। হাদিসে মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়াকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

নেক আমলে মনোনিবেশ : আল্লাহর প্রিয় বান্দারা শুধু নিজের নেক আমল ও নিজের সংশোধন নিয়েই তৃপ্ত থাকেন না, বরং তাদের পরিবার-পরিজনের সংশোধনের ব্যাপারেও সচেষ্ট থাকেন।

এদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা প্রার্থনা করে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন, যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেবে আর আমাদের মুত্তাকিদের ইমাম বানিয়ে দিন।’ (সুরা ফোরকান : ৭৪)

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: