হজে দোয়া কবুল হয় যেসব জায়গায়

মিজানুর রহমান

ইসলামের আলো

হজ আদায়ের সময়ে ও অসংখ্য স্থানে আল্লাহ তায়ালা হাজিদের দোয়া কবুল করে থাকেন। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত প্রতিটি স্থানই আল্লাহ

2024-06-07T01:32:08+00:00
2024-06-07T01:32:08+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬,
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
হজে দোয়া কবুল হয় যেসব জায়গায়
মিজানুর রহমান
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ জুন, ২০২৪, ১:৩২ এএম   (ভিজিট : ৪৮৮)
হজে দোয়া কবুল হয় যেসব জায়গায়
হজ আদায়ের সময়ে ও অসংখ্য স্থানে আল্লাহ তায়ালা হাজিদের দোয়া কবুল করে থাকেন। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত প্রতিটি স্থানই আল্লাহ তায়ালাকে আপন ও একান্ত করে নেওয়ার স্থান। প্রতিটি স্থানই সীমাহীন বরকত ও রহমতের স্থান। আল্লাহ তায়ালার মহব্বত ও ভালোবাসার ঝরনাধারায় নিজেকে সিক্ত ও অবগাহনের সর্বোত্তম স্থান। মক্কা মুকাররমায় দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ কিছু স্থান নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

কাবাঘরে দৃষ্টি পড়ার সময় : পবিত্র কাবার দিকে তাকিয়ে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়। হজরত ইবনে জুরাইজ (রহ.) থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, রাসুল (সা.) কাবা শরিফকে দেখে এই দোয়া পড়েছিলেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি এই ঘরের সম্মান, মর্যাদা ও মহিমা বৃদ্ধি করে দিন এবং যে ব্যক্তি এই ঘরের হজ ও ওমরাহ করে তারও সম্মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিন।’ (মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার : ৯৭৯৬)

হাজরে আসওয়াদের কাছে : হাজরে আসওয়াদ দোয়া করার অন্যতম স্থান। হজরত ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) হাজরে আসওয়াদকে দুই ঠোঁটে চুমু খেয়ে লম্বা সময় ধরে কান্নাকাটি করলেন। এরপর তাকিয়ে দেখলেন ওমর (রা.)-ও কান্নাকাটি করছেন। বললেন, ওমর! এটা অশ্রু ঝরার স্থান’ (ইবনে মাজাহ : ২৯৪৫)

রুকনে ইয়ামানির কাছে : হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রুকনে ইয়ামানি ইস্তিলাম করে এরপর দোয়া করে তার দোয়া কবুল করা হয়।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৪৪৪০)
জমজমের পানি পান করে : হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয় সেটা সাধিত হয়।’ (ইবনে মাজাহ : ৩০৬২)
আরাফার ময়দানে : হজের সময় আরাফার ময়দানে অবস্থানের দিন অর্থাৎ ৯ জিলহজ বান্দার দোয়া কবুল করা হয়। হজরত আমর ইবনে শুয়াইব (রা.) থেকে বর্ণিত-রাসুল (সা.) বলেন, ‘আরাফার দিনের দোয়া হলো সর্বোত্তম দোয়া।’ (তিরমিজি : ৩৫৮৫)

মুজদালিফা : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত-রাসুল (সা.) মুজদালিফায় অবস্থানকালে বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ডাকো। তোমাদের দোয়া কবুলের কিছু স্থানে আছো। তবে জেনে রেখো! আল্লাহ তায়ালা গাফেল অন্তরের দোয়া কবুল করেন না।’ (তিরমিজি : ৩৪৭৯)

জামারার কাছে : হাদিসে এসেছে, ‘হজরত ইবনে ওমর (রা.) জামারায় সাতটি পাথর নিক্ষেপ করলেন এবং প্রতিটি পাথর নিক্ষেপের সময় তাকবির দিলেন। এরপর কেবলার দিকে মুখ করে লম্বা সময় দাঁড়িয়ে দুই হাত তুলে দোয়া করলেন। হজরত ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আমি এভাবে রাসুল (সা.)-কে করতে দেখেছি।’ (বুখারি : ১৭৫২)

মুলতাজাম : হজরত আমর ইবনে শুয়াইব (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমি ইবনে ওমর (রা.)-এর সঙ্গে হজে ছিলাম। ইবনে ওমর (রা.) হাজরে আসওয়াদ ও কাবা শরিফের দরজার মাঝের দেয়ালের কাছে দাঁড়ালেন। নিজের বুক, দুই হাত ও কপাল লাগিয়ে রাখলেন এবং বললেন, রাসুল (সা.)-কে আমি এভাবেই করতে দেখেছি।’ (ইবনে মাজাহ : ২৯৬২)

উক্ত স্থানগুলো ছাড়াও পুরো হারাম শরিফে দোয়া কবুল হওয়ার কথা বর্ণিত আছে। এ ছাড়া রাসুল (সা.)-এর জন্মস্থান, হজরত খাদিজা (রা.)-এর বাড়ি, গারে হেরা, গারে সাওর, রিয়াজুল জান্নাত, দুই উস্তুয়ানা, দারে আরকাম, মেহরাবে নবী, আসহাবুস সুফফা ইত্যাদি স্থানও দোয়া কবুল হওয়ার স্থানগুলোর অন্তর্ভুক্ত। হজের প্রধান উদ্দেশ্য, আল্লাহর দরবারে মুক্তিপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়া। সময় ও জবান ঠিকমতো কাজে লাগিয়ে হাজিদের জন্য রয়েছে সেটা অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ।

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: