বিমান পরিচালনায় ৩ চ্যালেঞ্জের কথা জানালেন নতুন এমডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন জাহিদুল ইসলাম ভূঞা। বিমান

2024-06-30T18:41:11+00:00
2024-06-30T18:41:11+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
বিমান পরিচালনায় ৩ চ্যালেঞ্জের কথা জানালেন নতুন এমডি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৩০ জুন, ২০২৪, ৬:৪১ পিএম 
বিমান পরিচালনায় ৩ চ্যালেঞ্জের কথা জানালেন নতুন এমডি
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন জাহিদুল ইসলাম ভূঞা। বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে ৩টি চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে বিমানের ফ্লাইটে টিকেট পাওয়া না গেলেও ফাঁকা আসন থাকা ও দাম বৃদ্ধি অর্থাৎ টিকেটিং সমস্যা, অনটাইম ফ্লাইট পরিচালনা ও সেবার মান বৃদ্ধি করা। এছাড়া দুর্নীতি, স্বর্ণ চোরাচালান, নতুন ৩২টি উড়োজাহাজ ক্রয় এবং নতুন রুটে ফ্লাইট পরিচালনার কথাও বলেন তিনি।

গত ২৯ মে দায়িত্ব গ্রহণের এক মাস পর রোববার (৩০ জুন) দুপুরে বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে টিকেট পাওয়া না গেলেও ফাঁকা আসন নিয়ে উড়াল দেওয়ার বিষয়টি নিত্য দিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়টিকে ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে নেয়া হয়েছে উল্লেখ করেন বিমানের এমডি বলেন, এর সমাধান করতে কাজ করছেন তিনি। 

তিনি বলেন, ‘টিকেটিংয়ের যে সমস্যাটা, এটা আমি সম্পূর্ণভাবে সমাধান করতে চাই যেন এটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে; প্রশ্ন উঠলেও আমরা যেন কনফিডেন্টলি রিপ্লাই করতে পারি। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এটা।’

এই সমস্যা সমাধানে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের টিকেটিংয়ের জন্য সার্ভারের সঙ্গে যে মেকানিজমটা আছে, এটার অনেকগুলো আপডেট ফিচার আছে, এটা আসলে রেডিই আছে, এটা পুরো মাত্রায় চালু করতে হবে। আর হচ্ছে মনিটরিং করতে হবে।

আরও দুটি চ্যালেঞ্জ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অন টাইম ফ্লাইট পরিচালনার পারফরম্যান্সের উন্নতি করা, আরেকটা হল, আমাদের এক্সপানশনের (সেবার আওতা বাড়ানো) যে প্ল্যানটা আছে, সেখানে আমরা মনে হয় একটু পিছিয়ে আছি। অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি এই দুইটাকে বেশি ফোকাস করব। এই তিনটা চ্যালেঞ্জিং, বাট উইল পারসু।’

থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য বিমানের প্রস্তুতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এমডি বলেন, বিমান প্রস্তুত, বিমান এটি গত ৫২ বছর ধরে করছে। বিভিন্ন দেশের অধিকাংশ বিমানবন্দরে যারা ন্যাশনাল কেরিয়ার বা তাদের সিস্টার্স কনসার্ন, তারাই দায়িত্ব পালন করে। সেই হিসেবে আমরা আশাবাদী। থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং করার জন্য আমারা দাবিও করছি।

নতুন রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে, মালে, কুমনিং, জাকার্তা, সিউল ও সিডনিতে আমরা পর্যায়ক্রমে ফ্লাইট চালু করার প্রত্যাশা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, ২০৩৫ সালের মধ্যে রুট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিমানের মোট ৪৭টি উড়োজাহাজের প্রয়োজন। বর্তমানে বিমান বহরের ২১টি উড়োজাহাজের মধ্যে ৬টি ফেজ আউট (বহর থেকে বাদ যাবে) হবে। সেজন্য আরও ৩২টি উড়োজাহাজ পারচেজ অথবা লিজের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।

বিমান এমডি বলেন, উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস প্রপোজাল দিয়েছে এটা নিয়ে এখন কাজ চলছে। বোয়িং কোম্পানির প্রপোজালও দেখা হবে।

বিমানের লাভে থাকার হিসাব নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সে বিষয়ে জাহিদুল বলেন, বিমানের প্রফিট-লস সিএ ফার্ম দিয়ে নির্ণয় করা হয়। এছাড়া পেট্রোবাংলার বিপিসিতে আমরা নিয়মিত পেমেন্ট করে যাচ্ছি। আর বকেয়া কমানোর প্রক্রিয়া অন গোয়িং আছে। গত ৩ বছর ধরে বিমান লাভে আছে। এ বছর ও লাভে থাকবে।

অন্য এক প্রশ্নে বিমান এমডি জানান, গত অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি ২১টি উড়োজাহাজ (এয়ারক্রাফট) দিয়ে ৩২ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে এবং এই সময়ে সংস্থাটি ১০ হাজার কোটি টাকা আয়ের মাইলফলক অর্জন করেছে।

এ বছর আয় আরও বাড়বে– এমন আশাবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কার্গো থেকে ১২০০ কোটি আয়ের আশা করছি। গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের আইএসও সাটিফিকেশন পেলে এটি বিশাল অর্জন হবে। বিভিন্ন বিভাগ থেকেই আমরা ভালো করছি।

বিমানের ফ্লাইট বিলম্ব নিয়ে এক প্রশ্নে এমডি বলেন, আমাদের অন-টাইম পারফর্মেন্স নরমালি ৭৪ পার্সেন্ট। গত মাসে সেটি ৬৭ শতাংশ ছিল। কীভাবে ডিলে কমানো যায়, সে বিষয়ে আমি পরিকল্পনা করছি।

সম্প্রতি বিমানের এক কেবিন ক্রু সোনা চোরাচালান করতে গিয়ে আটক হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না। দুর্নীতি গ্রহণযোগ্য হবে না।

দুর্নীতি করে কোনো প্রতিষ্ঠান আগাতে পারে না জানিয়ে জাহিদুল বলেন, এখান কোনো সুযোগ নাই। এর আগে এখানে যারা দুর্নীতি করেছে, বিভিন্ন লেয়ারে তাদের শাস্তি হয়েছে। কাউকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, কাউকে পদাবনতি করা হয়েছে, কারও বেতন কমানো হয়েছে। আমিও এই জায়গাগুলোতে কাজ করব। আমরা টিকেটিংয়ের জায়গা ও দুর্নীতির জায়গা থেকে মুক্ত হতে চাই।

জাহিদুল ইসলাম ভূঞা বিসিএস (প্রশাসন) ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে গত সাড়ে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন।

মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পর জাহিদুল ইসলাম ভূঞা শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ দূতাবাস, সিউলে প্রথম সচিব (শ্রম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সময়ের আলো/আরআই



  বিষয়:   বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স  বিমানের নতুন এমডি-জাহিদুল ইসলাম ভূঞা 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: