সরকারি চাকরিতে ‘কোটা’ পদ্ধতি পুনর্বহালের প্রতিবাদে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর ডাকা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও ধর্মঘট কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) শাহবাগ অবরোধকালে কোটা বাতিলের দাবিতে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’এর মুখপাত্র নাহিদ হাসান।
ঘোষিত কর্মসূচির আলোকে শনিবার (৬ জুলাই) বিক্ষোভ সমাবেশের পাশাপাশি রোববার (৭ জুলাই) দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা।
এদিকে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ’সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাধিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন সংক্রান্ত কর্মসূচিতে নিজ নিজ ব্যাচের সমর্থনের কথা জানান।
শুক্রবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৩,১৪,১৬ ও ১৭ তম ব্যাচ, লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১ তম ব্যাচ, রসায়ন বিভাগের ১০১ ও ১০২ তম ব্যাচ, উর্দু- ১০২ তম ব্যাচ, ম্যানেজমেন্ট ২৫ ও ২৯ তম ব্যাচ, দর্শন বিভাগের ১৫ ও ১৬ তম ব্যাচ, গণিত বিভাগের ১০২ তম ব্যাচ, ইংরেজি বিভাগের ১৫,১৬ ও ১৭ তম ব্যাচসহ অন্তত ৪০ টি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচিতে সমর্থনের কথা জানা যায়।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৭তম বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা হোসাইন ফারিহা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নিজ ওয়ালে লিখেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ প্লাটফর্মের আগামী কর্মসূচির সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা’ বিভাগের ১৭তম ব্যাচ ‘উন্মোচন’ একাত্মতা পোষণ করছে। শিক্ষকরা তাদের আন্দোলন শেষ করে ক্লাসে ফিরলেও পরবর্তী কার্যদিবস থেকে ১৭তম ব্যাচের কেউ ক্লাসে ফিরবে না এবং ক্লাস-পরীক্ষাসহ কোনোরকম একাডেমিক কার্যক্রমে ‘গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা’ বিভাগের ১৭তম ব্যাচ অংশ নিবে না।
শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবিতে সরকারি চাকরিতে কোটা বিরোধী আন্দোলন করছেন। দাবিগুলো হলো- ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা; পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ছাড়া); সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোয় মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সময়ের আলো/জেডআই