উম্মতে মুহাম্মদির বিশেষ মর্যাদা

• মাওলানা দৌলত আলী খান

ইসলামের আলো

পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সর্বশেষ প্রেরিত নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর পরে আর কোনো নবী বা রাসুল আসবেন না।

2024-07-13T03:53:31+00:00
2024-07-13T03:53:31+00:00
 
  শনিবার, ৬ জুন ২০২৬,
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
উম্মতে মুহাম্মদির বিশেষ মর্যাদা
• মাওলানা দৌলত আলী খান
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৪, ৩:৫৩ এএম   (ভিজিট : ১২৮১)
উম্মতে মুহাম্মদির বিশেষ মর্যাদা
পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সর্বশেষ প্রেরিত নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর পরে আর কোনো নবী বা রাসুল আসবেন না। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা নবুওতের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি যেমন সর্বশেষ নবী, তেমনই সবচেয়ে সম্মানীত নবী। সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। সমস্ত নবীদের সর্দার তিনি।

পূর্বের নবীদের যে সমস্ত নিয়ামত দান করা হয়েছিলো, প্রয়োজন অনুযায়ী রাসুল (সা.)- কেও সেসব নিয়ামত দান করা হয়েছে। সাথে আলাদা আরো কিছু নিয়ামত দান করা হয়েছে। তার কিছু কুরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা বর্ণনা করেছেন, আবার কিছু হাদিসে রাসুল (সা.) নিজেও বর্ণনা করেছেন। হাজরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, 'আমাকে ছয়টি নিয়ামত দ্বারা অন্যান্য নবীদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে- ১. আমাকে ব্যাপক তথ্যপূর্ণ ও অর্থবহ বাণী দান করা হয়েছে। ২. আমাকে প্রবল প্রভাব ধারা সাহায্য করা হয়েছে। ৩. আমার জন্য গনিমতের সম্পদ হালাল করা হয়েছে। ৪. আমার জন্য মাটিকে পবিত্রকারী ও মসজিদ বানানো হয়েছে। ৫. আমাকে সমগ্র সৃষ্টিজগতের প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে। ৬. আমার দ্বারা নবীদের সীল মোহর করা হয়েছে অথার্থ নবুওয়ের সমাপ্তি করা হয়েছে।' (সহিহ মুসলিম: ৫২৩)।

আমরা এখন এই ছয়টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। আল্লাহ তাআলা নবীজি হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-কে যেমন আবেদন করা ছাড়াই অনেক নিয়ামত দিয়েছেন, ঠিক তেমন উম্মত হিসেবে আমাদেরও দিয়েছেন। আমাদের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হলো, আমরা শ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত হতে পেরেছি।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'তোমরাই উত্তম উম্মাত, মানুষের কল্যাণের জন্যই তোমাদেরকে উত্থিত করা হয়েছে।' (সূরা আলে ইমরান: ১৯০)। এখানে বিশেষ তিনটি মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরা হলো। নবীজিকে না দেখেও ভালোবাসা নবীজি (সা.) দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন ৬৩২ ঈসায়ি সনের ৭ জুন। কিন্তু আজ অবধি তার রেখে যাওয়া হীন ও আদর্শ মুসলিম উম্মাহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করছে। তাই যারা নবীজিকে (সা.) না দেখে ঈমান এনেছেন এবং তাঁকে ভালোবেসে যাচ্ছেন তাদের জন্য বিশেষ সুসংবাদ ঘোষণা করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, তাদের জন্য একটি সুসংবাদ যারা আমাকে দেখেছে এবং ঈমান এনেছে। আর সাতবার সুসংবাদ ওই সকল লোকের জন্য যারা আমাকে না দেখে আমার ওপর ঈমান এনেছেন। (আহমদ: ৭৫৯২)। রাসুল আরও বলেন, আমার উম্মতের মধ্যে আমার প্রতি অত্যাধিক মহব্বত পোষণকারী লোক তারাই হবে, যারা আমার পর জন্মগ্রহণ করবে। তাদের কেউ এই আকাঙ্খা রাখবে, যদি সে আমাকে দেখতে পায়, তাহলে আমার জন্য নিজেদের পরিবার-পরিজন ও মাল-সম্পদ
মধ্যে তিয়ান্ডরটি দলের আবির্ভাব হবে। এর মধ্যে এমন একটি দল থাকবে তারা কখনও আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিধান থেকে বিন্দু পরিমাণও সরে দাঁড়াবে না।

রাসুল (সা.) বলেন, আমার উম্মতের একদল লোক সর্বদা আল্লাহর হুকুমের ওপর অটল থাকবে। যারা তাদেরকে লাঞ্ছিত করতে চাইবে এবং যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। এমনকি তারা কেয়ামত পর্যন্ত এই অবস্থায় বিদ্যমান থাকবেন। (বোখারি: ৩৬৮৪) অল্প আমলে অধিক সওয়াব: শেষ নবীর (সা.) উম্মতগণের আয়ু কম। তবে নেক আমলের প্রতিদান বেশি। অন্যান্য নবী-রাসুলগণ এবং তাদের উম্মতরা বেশি হায়াত পেতেন। কিন্তু আমাদের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা) মাত্র তেমটি বছর বেঁচে ছিলেন। তাঁর উম্মতয়াও কম হায়াত পান। শত বছর হায়াত পায় এমন সংখ্যা খুবই কম। তাই নবীজির (সা.) উম্মতের প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বেশি পরিমাণ প্রদানের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। 

তাই উম্মতে মুহাম্মদি হায়াতের পরিমাণে কম হলেও তাদের পুরস্কারের পরিমাণ বড় সংখ্যার হবে। রাসুর (সা.) বলেন, এই উম্মতের শেষলগ্নে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভবা ঘটবে, যাদের নেক আমলের সওয়াব তাদের প্রথম যুগের লোকদের বরাবর হবে। তারা মানুষদেরকে ভালো কাজ করতে আদেশ করবেন এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবেন। (বাইহাকি)। এজন্য ধরণের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হয় এবং বেশি বেশি নেক আমল করতে যায় তাওফিক দিন।

সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: