বাবা কেঁদো না দোয়া করো পা যেন না কাটতে হয়

গোলাম মোস্তফা

জাতীয়

‘বাবা, আমি কি আবার ঠিকভাবে হাঁটতে পারব, পায়ে হেঁটে কি কলেজ ক্যাম্পাসে যেতে পারব? বাবা, তুমি কেঁদো না। শুধু আমার

2024-07-30T00:45:10+00:00
2024-07-30T00:45:10+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
বাবা কেঁদো না দোয়া করো পা যেন না কাটতে হয়
সরেজমিন পঙ্গু হাসপাতাল
গোলাম মোস্তফা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০২৪, ১২:৪৫ এএম 
বাবা কেঁদো না দোয়া করো পা যেন না কাটতে হয়
‘বাবা, আমি কি আবার ঠিকভাবে হাঁটতে পারব, পায়ে হেঁটে কি কলেজ ক্যাম্পাসে যেতে পারব? বাবা, তুমি কেঁদো না। শুধু আমার জন্য দোয়া করো যেন আমার পা-টা কেটে ফেলতে না হয়।’ এভাবেই গুলিবিদ্ধ পা নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোবাইল ফোনে গ্রামের বাড়িতে থাকা বাবা আরিফ সরকারের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান সরকার (২৬)। পাশেই বসা মা হাবিবা বেগম ছেলের চোখের পানি মুছে দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। যদিও এ সময় লুকিয়ে লুকিয়ে তিনি আঁচল দিয়ে বারবার চোখ মুছছিলেন। ছেলে ও মায়ের এই দৃশ্য দেখে সঙ্গে থাকা ভাইটি কাঁদছিল ফুঁপিয়ে। 

সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি-২ ওয়ার্ডে ভর্তি ইমরানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার বাঁ পায়ে গুলি লেগেছে। হাঁটুর নিচে পাঁচ জায়গার হাঁড় ভেঙেছে। এরই মধ্যে পায়ে পচন ধরেছে এবং পায়ের পচা মাংস কেটে ফেলেছেন চিকিৎসকরা। তারা জানিয়েছেন, গুলির স্পিøন্ট এখনও পায়ের মধ্যে রয়ে গেছে। পা রক্ষা হবে কি না এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

ইমরান সরকার সময়ের আলোকে বলেন, ১৯ তারিখ শুক্রবার আসরের নামাজের জন্য রায়েরবাগ এলাকায় নূরানি জামে মসজিদ যাই। নামাজ শেষ করে ফুটপাথ দিয়ে বাসায় ফিরছি। তখন পুলিশ ও কোটা আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলছিল। হঠাৎ পায়ের মধ্যে গুলি এসে লাগে। এ সময় পথচারীরা উদ্ধার করে প্রথমে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে ভর্তি নেয়নি। একে একে ৫-৬ হাসপাতাল ঘুরেছি কোথাও ভর্তি নেয়নি। এত রক্ত ঝরছিল যে, মনে হয় সব রক্ত বের হয়ে যাচ্ছিল এবং  দম আটকে  যাচ্ছিল। ওই সময় শুধু মায়ের মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। শুধু একটা কথা মনে হচ্ছিল মায়ের কাছ থেকে কি শেষ বিদায়টা নিতে পারব না- (বলেই ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন তিনি)। 

ইমরানের মা বলেন, আমার ছেলের এই অবস্থা যে করেছে- কার কাছে বিচার চাইব? বিচার হলেই কি আমার ছেলেটা স্বাভাবিক হবে। এখন দুটি ছাগল বিক্রি করে চিকিৎসা করছি। ভবিষ্যতে কী করব? পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে সারাটা জীবন তাকে বাঁচতে হবে। এটা মা হিসেবে কেমনে সইব?

ইমরানের পাশের শয্যায় শুয়ে রয়েছেন গুলিবিদ্ধ হয়ে এক পা হারানো নাদিম হোসেন নামের কিশোর। তার বাবা রিকশাচালক মোমিনুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, এটা আমার বড় ছেলে। আমার টাকায় সংসার চলে না। তাই ছেলেকে এমব্রয়ডারি মেশিনের দোকানে কাজ দিয়েছিলাম। কিন্তু  এখন সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেল বলেই কেঁদে কেঁদে বলেন, কেন আমার ছেলেটাকে পঙ্গু করল। কী দোষ করছিল আমার পোলা। এই বিচার আমি কার কাছে চাইব। আমরা গরিব মানুষ। গরিবের সব বিচার ওপরওয়ালার কাছে জমা দিয়ে রাখলাম।

নাদিম বলেন, ১৯ তারিখে যাত্রাবাড়ীতে সন্ধ্যার দিকে দোকান বন্ধ করে বাসায় রওনা দিই। কিছুদূর যাওয়ার পরই গোলাগুলি শুরু হয়। হঠাৎ একটি গুলি এসে পায়ে লাগে। তখন পড়ে যাই। পরে এলাকাবাসী উদ্ধার করে এখানে নিয়ে আসে। এখানে ভর্তির পর গত রোববার একটি পা কেটে ফেলে বলেই কান্নাকাটি শুরু করে দেন তিনি।

সোমবার সরেজমিনে নিটোর ক্যাজুয়ালটি বিভাগের কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাত ও সংঘর্ষে আহত রোগীদের হৃদয়বিদারক ও  অবর্ণনীয় দৃশ্য দেখা গেছে। তাদের কেউ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। অনেকের হাতে-পায়ে কিংবা শরীরের অন্য কোনো জায়গায় গুলিবিদ্ধ। হাত-পাজুড়ে ব্যান্ডেজ। রড লাগানো। পা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। কারও কারও এক পাশ দিয়ে গুলি লেগে  অন্যপাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে। আবার এরই মধ্যে ধীরে ধীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় জীবন বাঁচাতে অনেকের হাত কিংবা হাঁটু থেকে পা কেটে ফেলা হয়েছে। আর যাদের কাটা হয়নি তাদের প্রায় সবাই পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে রয়েছেন। রোগী ও স্বজনদের চিৎকার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে আকাশ-বাতাস এবং তাদের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ।

রোগী ও স্বজনরা জানান, অস্ত্রোপচার, ওষুধপত্রসহ এরই মধ্যে চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। অনেকেরই জমানো টাকা শেষ। এখন ধারদেনা করে চিকিৎসা করাচ্ছেন। আবার কেউবা গরু-ছাগল কিংবা জমিও বিক্রি করে চিকিৎসা করাচ্ছেন। পঙ্গুত্বের অভিশাপসহ মা-বাবা স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভবিষ্যতে দিন কীভাবে কাটবে সেই দুশ্চিন্তার ছাপ এখন তাদের চোখেমুখে।  

নিটোর রোগী নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, কোটা আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ ও সহিংসতার সময় অর্থাৎ গত  ১৭ জুলাই সকাল ৭টা থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত পঙ্গু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য আসেন ১ হাজার ৬৯৮ রোগী। তাদের মধ্যে ৬৮৬ জনকে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ রোগী ছিলেন ২৪১ জন। তবে সবচেয়ে বেশি রোগী আসে ১৯ থেকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে। এ সময়ে ২১৪ জনই রোগীই আসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে। এছাড়াও গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালটির ক্যাজুয়ালিটি-২ ওয়ার্ডেই কেবল ভর্তি হন ৩৪ জন। এর মধ্যে পায়ে গুলি লেগেছে ২৭ জনের। সাতজনের পা কেটে ফেলতে হয়েছে। বাকি সাতজনের হাতে গুলিবিদ্ধ। অন্যান্য ওয়ার্ডের চিত্রও প্রায় একই রকম। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭৬ জন রোগী। তারা বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং তাদের অনেকেরই পা কেটে ফেলতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ক্যাজুয়ালিটি-২ ওয়ার্ডে কথা হয় রাকিব হোসেন নামে ১৮ বছরের এক তরুণের সঙ্গে। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, ২০ জুলাই রাতে  চিটাগাং রোডে সেলুনের কাজ শেষে বাসায় যাওয়ার পথে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তারপর থেকেই এই হাসপাতালে ভর্তি। গত মঙ্গলবার তার একটি পা কেটে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে। পরিবারে মা-বাবা ও ভাই-বোনসহ মোট ৬ জনের সংসার। আমার সামান্য আয়েই চলতো সেটি। পনেরো দিন আগেও আমি সুস্থ ছিলাম। আর এখন আমি পঙ্গু, বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তার পাশে বসা দাদা শাহজাহান মিয়া ক্ষোপ প্রকাশ করে বলেন, আমি আমার নাতির পা হারানোর বিচার চাই। আমার নিরীহ নাতিকে কে গুলি করল। মরার আগে যেন আমি এই বিচারটা দেখে যেতে পারি।

কুড়িগ্রামের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম নামে আহত এক গার্মেন্টস কর্মী বলেন, আমি সাভারে কাজ করি। গার্মেন্টস থেকে রাতে বের হয়ে বাড়ি যাওয়ার সময়ে চারদিক থেকে দুই পক্ষের এলোপাতাড়ি গোলাগুলি চলে। অনেকের মতো আমিও গুলিবিদ্ধ হই। দুই পায়েই গুলি লাগে। এক পায়ের হাঁটুর নিচে গুলি লেগে ওপাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে এবং পায়ে পচন ধরে গেছে। পা কাটতে হবে কি-না ডাক্তার এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

বাড্ডা এলাকায় ডিম ব্যবসায়ী মনির হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, ২০ জুলাই আহত হয়ে এখানে ভর্তি রয়েছি। এর পর থেকেই ঘুমাতে পারি না। ঘুমালেই শুধু চোখের সামনে ভেসে উঠে গোলাগুলি এবং আহত মানুষের রক্তভেজা শরীর আর কান্না। আমার সামনে কতজন যে আহত হয়ে কাতরাচ্ছেন বলে বোঝাতে পারব না। 

তার মা শাহনাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার পোলাটা কি আবার ভালাভাবে হাঁটতে পারব। যে অমানুষ আমার সংসারটা ধ্বংস করে দিয়েছে তার বিচার যেন আল্লাহ করেন।  

দনিয়া এলাকার সিএনজি চালক আবদুল্লাহ সময়ের আলোকে বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে এখানে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই লাখ টাকার বেশি খরচ হয়ে গেছে। সরকারি হাসপাতালে খরচ তুলনামূলক কম হলেও প্রতিদিন ওষুধ কিনতেই হাজার হাজার টাকা চলে যাচ্ছে। কিন্তু এরই মধ্যে জমানো টাকাসহ গোয়ালের গরু বিক্রি করে দিয়েছি। ভবিষ্যতে সংসার কীভাবে চলবে? আমার ছেলেটা এসএসসি পরিক্ষার্থী। মা-বাবাসহ বাচ্চাদের কীভাবে মানুষ করব সেই চিন্তায়ই ঘুম আসে না।

গাজীপুরে গত ১৯ তারিখে দোকানে চাল কিনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন গার্মেন্টসকর্মী রাজু আহমেদ। তিনি বলেন, বেঁচে থেকেও যেন দোজখের আজাব পাচ্ছি। কী যে যন্ত্রণা কী যে কষ্ট কাউকে বলে বোঝাতে পারব না।  

পাশেই তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, আমার স্বামী তো কোনো আন্দোলন করেনি। নিরীহ মানুষ। তবু কেন গুলি করা হলো। এই বিচার আমি কার কাছে চাইব। কে করবে বিচার। এই দেশে তো অনেক ঘটনাই ঘটে। কোন ঘটনার কি সুষ্ঠু তদন্ত বা বিচার হয়। এখন আমার সংসারটা কে চালাবে আর কিভাবে চলবে? এভাবে হয় না, এভাবে চলতে পারে না।

হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানান, গুলিবিদ্ধ চিকিৎসাধীন অনেকেরই পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে রয়েছে। এরই মধ্যে অনেকের গুলিবিদ্ধ পা কেটে ফেলা হয়েছে। আবার কারও কারও হাত-পায়ের হাড় ভেঙে গেছে এবং গুলিতে  পায়ের ধমনি ও শিরা ছিঁড়ে গেছে। তাতে করে প্রচুর রক্তক্ষরণও হয়েছে। আবার ধমনিতে রক্তের সঞ্চালন স্বাভাবিক না হওয়ায় মাংসে পচন ধরে। তখন অনেকের হাত-পা কেটে ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া আহত রোগীর চাপ থাকায় অস্ত্রোপচারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. আসগর হোসেন সোহাগ সময়ের আলোকে বলেন, গত ১৯ ও ২০ তারিখে আমাদের এখানে অনেক রোগী আহত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। এদের অনেকের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তবে যাদের অবস্থা গুরুতর ছিল তাদেরকেই আমরা ভর্তি করি। কারও হাতে পায়ে গুলিবিদ্ধ ছিল। আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পঙ্গু হাসপাতালের ইয়োলো-১ ইউনিট প্রধান এবং অর্থোপেডিক সার্জন অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আহত গুলিবিদ্ধ রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগকেই ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সবারই জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। আর যে সব রোগী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং রক্তনালি বা ধমনি ছিঁড়ে গেছে তাদের পা কাটতে হয়েছে। কেননা এতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাংস পচে যাবে বা মরে যাবে। পরে রোগীর শারীরিক অনেক ক্ষতি হতে পারে। কিডনিসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট হতে পারে। তাই রোগীকে বাঁচাতেই আক্রান্ত অঙ্গটি কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন চিকিৎসক। আবার যদি দেখা যায় তার হাড় ও মাংসে সংক্রমণ কমেনি এবং রস পড়া বন্ধ হয়নি তখন ফের অস্ত্রোপচার করতে হয়। আবার কোনো কোনো রোগীর অবস্থা ভালো হলে তাদেরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সময়ের আলো/জিকে


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: