বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্বেগ থাকবে
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
জাতীয়
বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ার আগ পর্যন্ত ভারতের উদ্বেগ থাকবে। বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতিতে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীগুলিকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে
বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্বেগ থাকবে
ভারতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট, ২০২৪, ৯:১৯ পিএম
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ার আগ পর্যন্ত ভারতের উদ্বেগ থাকবে। বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতিতে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীগুলিকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারত বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করছে। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারত সরকার তাকে সাময়িক আশ্রয়ের অনুমতি দিয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সংসদের উচ্চ-কক্ষ রাজ্যসভায় মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই তথ্য জানান।
ভারতের সংসদের উচ্চ-কক্ষ রাজ্যসভায় মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই সেদেশে যথেষ্ট উত্তেজনা এবং যা নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও গভীর মতভেদ বাড়ছিল। এমন পরিস্থিতিতে গত জুন মাস থেকে বাংলাদেশে শিক্ষার্থী আন্দোলন শুরু হয়। এরপর থেকেই বাংলাদেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ, সরকারি ভবন এবং অবকাঠামোর ওপর আক্রমণসহ বিভিন্ন সহিংসতা শুরু হয়। এই সকল নেতিবাচক ঘটনা গত জুলাই মাস ধরেও চলতে থাকে। সহিংসতার গোটা সময়ে ভারত বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিল সংযম প্রদর্শনের জন্য এবং আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য। ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এমন সকল রাজনৈতিক শক্তির কাছেই এই সংযম ও শান্তি প্রদর্শনের আবেদন রেখেছিলাম। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর গত ২১ জুলাই বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিলেও সেই বিক্ষোভ থামেনি। উল্টো ওই সময়ের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত এবং কর্মকাণ্ডের ফলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে আকার ধারণ করে। শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এক দাবিতে পরিণত হয়, যা হচ্ছে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে।
এস জয়শঙ্কর ভারতীয় সংসদে বলেন, গত ৪ আগস্ট বাংলাদেশের পরিস্থিতি গুরুতর দিকে বাক নেয়। দেশটির পুলিশ বাহিনী, থানা ও পোশাক কারখানার ওপর আক্রমণের তীব্রতা বেড়ে যায়। এতে প্রচুর সহিংসতার ঘটনা ঘটে। দেশ জুড়েই সরকারের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। অনেক স্থানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরেও হামলা করা হয়, যা উদ্বেগজনক। এসব হামলার পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতি এখনো পরিষ্কার না। বাংলাদেশে কারফিউ চলা অবস্থাতেই গত ৫ আগস্ট বিক্ষোভকারীরা রাজধানী ঢাকায় একত্রিত হন। আমাদের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা সংক্রান্ত শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ৫ আগস্ট স্বল্প সময়ের নোটিশে শেখ হাসিনা সাময়িকভাবে ভারতে আসার অনুমতি চান এবং বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফ্লাইট ক্লিয়ারেন্সের জন্যও অনুরোধ আসে। এমন বাস্তবতায় শেখ হাসিনা গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় দিল্লি পৌছেন। বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখনও বদলাচ্ছে। দেশটির সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান গত ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। সেনা প্রধান তার বক্তব্যে দায়িত্বভার গ্রহণ করার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন।
বাংলাদেশে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের সম্পর্কে জয়শঙ্কর বলেন, দেশটিতে বসবাসরত ভারতীয়দের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক মিশনগুলির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রয়েছে। সেখানে প্রায় ১৯ হাজার ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন, যার মধ্যে প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী। এই শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই গত জুলাই মাসে ঢাকায় অবস্থিত হাইকমিশনার পরামর্শে দেশে ফিরেছেন। ঢাকায় আমাদের হাইকমিশন ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটে উপ-হাইকমিশন রয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা যে হাইকমিশন ও উপ-হাইকমিশনের ভবনগুলিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ সরকার। ভারত আশা করছে যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে স্বাভাবিক কাজকর্ম আবারও শুরু করা যাবে।
সংখ্যালঘু ইস্যুতে জয়শঙ্কর বলেন, বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘুদের প্রতি ভারত সরকার সবসময়েই নজর রাখছে। সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সংগঠন নানান কর্মসূচী নিয়েছে বলে জানা গেছে। এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃশ্যমানভাবে স্বাভাবিক না হওয়ার আগ পর্যন্ত ভারতের থাকবে। যে কারণে চলমান জটিল পরিস্থিতিতে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীগুলিকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারত বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করছে।