আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ ও তার দেশ ত্যাগের পর থেকে ঢাকার রাস্তায় লাখো মানুষ আনন্দ মিছিল করেছে। সোমবার (৫ আগস্ট) মিছিলের পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ জনতা গণভবন, সংসদ ভবন, ৩২ নম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বাড়ি, প্রধান বিচারপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে হামলাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর, অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাট করেছে। এছাড়া রাজধানীতে পুলিশ সদর দপ্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভবনে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দুটি ভবনে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এছাড়াও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বাসভবনে হামলা ভাঙচুর হয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো অনিরাপদ থাকায় সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সঙ্গে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও আনসার সহায়তা করছে।
সোমবার রাত ১২টার পরে গণভবনের আইনশৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে দেখা যায়। এর আগে দুপুরে গণভবনে ঢুকে পড়ে অসংখ্য মানুষ। মিছিল নিয়ে গণভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন তারা। এর পর থেকেই শুরু হয় লুটপাট-ভাঙচুর। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোক আরও বাড়তে থাকে। গণভবনের গাছ থেকে শুরু করে রান্না ঘরের আচারের বৈয়ম, পশু-পাখি থেকে শুরু করে লেকের মাছ কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি। পুরা গণভবন ভাঙচুর চালিয়ে ভবনের সামনে লাগান হয় আগুন। ফার্নিচার, ফ্রিজ, আসবাবপত্র, বইপত্র কিছুই নেই। গণভবনের গেটগুলোর পাশাপাশি দেয়াল ভেঙ্গেও মানুষ প্রবেশ করে। গণভবনে ইটের ভবনটাই পড়ে আছে। এদিকে অনেকে মালামাল লুট নিয়েও বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা গেছে। পাশাপাশি সংসদ ভবনও ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। এখানেও সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা দিচ্ছে।
মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বিকেলে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে গিয়ে দেখা যায়, পুরা ভবন পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। জাদুঘরের পেছনের ভবনেও ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ভবনে বিকেলেও দুই-একটি কক্ষে পোড়া স্তূপ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিলো। পুরা ভবন থেকে তাপ বের হচ্ছিলো। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে সবাইকে বের হয়ে যেতে বলেন। এই ভবনের আশেপাশে বেশ কয়েকটি ভবনে ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, প্রধান বিচারপতির ভবন, পুলিশ সদর দপ্তর, ডিএনসিসির ভবন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিভিন্ন এলাকার ভাস্কর্য, ঢাবি উপাচার্যের ভবন, সুধা সদন, ধানমন্ডিতে সদ্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসা, গণমাধ্যমের বেশ কয়েকটি ভবন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কার্যালয়, শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা, বিভিন্ন থানাসহ বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সকল স্থাপনার মধ্যে বেশিভাগ স্থাপনায় আগুন দেয়া হয়। এছাড়া ভাংচুর ও লুটপাট হয়। মঙ্গলবার বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা দিতে শুরু করে। সারাদেশে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এক যোগে কাজ করে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে।
সময়ের আলো/আরআই