ছাত্র গণআন্দোলনের মুখে গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরপরই শেখ হাসিনা প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে আশ্রয় নেন। গত বৃহস্পতিবার শপথ নেওয়া বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, সম্প্রতি শিক্ষার্থী আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় যারা মদদ দিয়েছে এবং যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। এমন প্রেক্ষাপটে ভারত সরকারের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইতে পারে ঢাকা।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থী আন্দোলনে যেসব মানুষ নিহত এবং আহত হওয়ার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিচার করা। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রোববার জানান, এখন পর্যন্ত ৪৫০ থেকে ৫০০ নিহতের তালিকা তারা পেয়েছেন, আর প্রচুর আহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ নিহত ও আহত হওয়ার পেছনে যারা মদদ দিয়েছে, যারা জড়িত ছিল তাদের সবাইকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। অন্তর্বর্তী সরকার এমন দৃষ্টান্ত গড়তে চায়, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সহিংস কর্মকাণ্ডে না জড়ায়। এমন প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হতে পারে। তার আগে শেখ হাসিনার নামে মামলা হবে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে নয়াদিল্লিকে বার্তা দিতে পারে ঢাকা।
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে যত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সব ঘটনায় জড়িতদের বিচার হবে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের নির্মূলে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারের আওতায় আনা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের কাছে দৈনিক সময়ের আলোর প্রতিনিধি জানতে চান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছ থেকে ফেরত চাওয়া হবে কি না? জবাবে তিনি বলেন, এটি আইন মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। আইন মন্ত্রণালয় আমাদের বললে আমরা উদ্যোগ নেব। আইন উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের নির্মূলে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারের আওতায় আনা হবে এবং এমন প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ভারতের কাছে ফেরত চাওয়া হতে পারে-পররাষ্ট্র উদষ্টোকে এ তথ্য জানালে তিনি বলেন, দেখতে থাকুন (সময় বলে দেবে)।
ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক শ্রীরাধা দত্ত দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, যদি শেখ হাসিনাকে ঢাকা আইনগত পদ্ধতিতে ফেরত চায় তবে নয়াদিল্লি সে বিষয়ে সহযোগিতা করবে। তবে বিষয়টি যখন ঘটবে, অর্থাৎ ঢাকা এমন চাইলে তখন আরও পরিষ্কার হবে। তার আগে এটি নিয়ে ভেবে লাভ নেই। কোন আইনে ঢাকা এমন বার্তা দিতে পারে সে বিষয়ে এখনই বলতে পারছি না। আমার মনে হয়, যদি এমন ঘটে তবে তা দুই পক্ষের মধ্যে আইনগতভাবেই ঘটবে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ভারত একটু ধাক্কা খেয়েছে। শেখ হাসিনার সঙ্গে সবসময়ই ভারতের সম্পর্ক ভালো ছিল। তবে আমি বিশ্বাস করি, এখন যে সরকার আছে তাদের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক ভালো হবে। ভারত সরকার সবার সঙ্গেই সম্পর্ক রেখে কাজ করতে চায়। তবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আবার নতুন করে গড়তে হবে।
সময়ের আলো/আরএস/