বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল আউয়ালের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, দলীয়করণ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শাস্তিমূলক বদলী করার অভিযোগ তুলে তাকে দ্রুত অপসারণ ও শাস্তি দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সোমবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়াস্থ বিজেআরআইএ এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন। এতে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন বিজেআরআই’র বৈষম্যবিরোধী কমিটির সভাপতি কৃষিতত্ত্ব বিভাগের চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার (সিএসও) ড. মো. আব্দুল আলীম।
বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী কমিটির সদস্য সচিব ও প্রজনন বিভাগের সিএসও ডা. মো. গোলাম মোস্তফা, ফার্ম মেনেজমেন্ট শাখার পিএসও ড. মো. লুৎফর রহমান, পিএসও মো. মাকসুদুর রহমান, জিআরএস বিভাগের এসএসও মো. খায়রুল হাসান প্রধান প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন টেক্সটাইল ফিজিক্স বিভাগের সিএসও ড. মো. মাসরুর আনোয়ার, পেস্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সিএসও ড. মো. নজরুল ইসলাম, পিটিসি বিভাগের সিএসও ড. এ টি এম মোরশেদ আলম প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে ড. আব্দুল আলীম বলেন, বিজেআরআই’র দুর্নীতি ও দলীয়করনের মাধ্যমে মহাপরিচালক ড. মোঃ আবদুল আউয়াল এই প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছাত্রদের বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে ছিলেন। বিশেষ করে গত ৪ আগস্ট বিজেআরআই’র সর্বস্তরের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের কথা বলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে র্যালি এবং মিছিলে জোরপূর্বক বাধ্যতামূলকভাবে দাড় করিয়েছিলেন। তার এই কাজ ছিল অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও দুঃখজনক। তা ছাড়া গবেষণার প্রয়োজনে ডিজির সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি পরিচালক থেকে শুরু করে সর্বস্তরের সবাইকে অপেক্ষমান রুমে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বসিয়ে রেখে বহিরাগত লোকদের নিয়ে গল্পগুজবে ব্যস্ত থাকতেন। গবেষণা কার্যক্রমে সহযোগিতা করতেন না। তিনি বিজেআরআই রেস্ট হাউজে তার নিজ এলাকার আওয়ামী রাজনৈতিক দলীয় লোকদের নিয়ে সব সময় দখল করে রাখেন। যার ফলে কর্ম পরিবেশের প্রচণ্ড ব্যাঘাত ঘটে।
এদিকে যেকোন বিষয়ে ডিজির ইচ্ছার বিরুদ্ধে মতামত দিলেই তাকে বিভিন্ন জায়গায় অনৈতিকভাবে বদলী করে দেন। এমনকি একটি পদের বিপরীতে কয়েকজনকে আঞ্চলিক ও উপকেন্দ্রগুলোতে সংযুক্ত করে রাখেন। এছাড়াও জুনিয়র বিজ্ঞানীর অধীনে সিনিয়র বিজ্ঞানীকে সংযুক্ত করেছেন। এতে কাজের পরিবেশ চরমভাবে নষ্ট হয়েছে।
অবৈধভাগে নিয়োগ প্রদান করতেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিজি তার নিজ জেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে শতাধিক ব্যক্তিকে বিভিন্ন পদের অনুকূলে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছেন। এসব নিয়োগের আইনগত কোন বৈধতা না থাকলেও তিনি তাদের নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন। নিয়োগ বানিজ্যের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা আদায় করেছেন।
অবৈধভাবে বাসস্থান দখল করে রেখেছেন উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় তিনি বিজেআরআই’র বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত বাসায় বিজেআরআই বর্হিভূত লাকজনকে অবৈধভাবে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। কর্মরত ব্যক্তিরা বাসা পাচ্ছে না। তাদের অন্যস্থানে বাসার ব্যবস্থা করে থাকতে হচ্ছে। কেউ কেউ ভাড়া বাসাতেও থাকছেন। তাছাড়া মহাপরিচালকের গাড়িচালককে আঘাত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি শেরেবাংলা নগরের সেনাবাহিনীর কমান্ডিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
বিজেআরআই থেকে মহাপরিচালক নিয়োগের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের এই প্রতিষ্ঠানে যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
পিএসও মো. মাকসুদুর রহমান জানান, ছাত্রদের আন্দোলনে সাফল্য কামনা করায় তাকে গত ২৬ জুলাই তার চেয়ে কয়েক গ্রেড নিচের কর্মকর্তার অধীনে বদলী করা হয়েছে। বিজ্ঞানী ড. লুৎফর রহমান জানান, ডিজি তাকে মানসিকভাবে প্রতিনিয়ত হয়রানি করেছেন। তাকে দিয়ে বিভিন্ন টেন্ডারসহ অর্থ আদায় করতে প্রতিনিয়ত চাপ দিতেন। তিনি অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে হয়রানিমূলকভাবে একেক সময় বিভিন্ন স্থানে বদলী করেছেন।
এদিকে ডিজির গাড়িচালক মো. সাইফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, তার গায়ে কেউ আঘাত করেনি। তার হয়ে ডিজি সেনাবাহিনীর কাছে যে অভিযোগ করেছেন সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।
সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিক্ষোভ করেন। তা ছাড়া তারা গত ৫ আগস্টের পর থেকে ডিজিকে কর্মস্থলে প্রবেশ না করতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।
অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষ হলে বিজেআরআই ডিজি ড. মো. আবদুল আউয়াল উপস্থিত এক সাংবাদিককে ফোন করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ ব্যাপারে তিনি আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করবেন বলেও জানান।
সময়ের আলো/এম