আগস্টে সরবরাহে আসছে না সামিটের এলএনজি টার্মিনাল

রফিক রাফি

জাতীয়

চলতি মাসেও কাটছে না গ্যাস সংকট। কারণ ঘূর্ণিঝড় রিমালে গত ২৬ মে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটির মেরামতকাজ এখনও

2024-08-18T03:16:46+00:00
2024-08-18T03:16:46+00:00
 
  বুধবার, ১০ জুন ২০২৬,
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
জাতীয়
আগস্টে সরবরাহে আসছে না সামিটের এলএনজি টার্মিনাল
বৈরী আবহাওয়ায় সাগরে কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে
রফিক রাফি
প্রকাশ: রোববার, ১৮ আগস্ট, ২০২৪, ৩:১৬ এএম   (ভিজিট : ৩২২)
আগস্টে সরবরাহে আসছে না সামিটের এলএনজি টার্মিনাল
চলতি মাসেও কাটছে না গ্যাস সংকট। কারণ ঘূর্ণিঝড় রিমালে গত ২৬ মে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটির মেরামতকাজ এখনও শেষ হয়নি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরে কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চলতি আগস্টের মধ্যে এই শেষ করার টার্গেট ধরা হয়েছে। সে হিসেবে আগামী মাসের প্রথম দিকে এই এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ শুরু হবে। পেট্রোবাংলা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে দেশের গ্রামাঞ্চলে ঘনঘন লোডশেডিং হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পিজিসিবির ওয়েব সাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১২টায় সর্বোচ্চ ১৬৩৮ মেগাওয়াট,  সন্ধ্যা ৭টা থেকেই লোডশেডিং ১ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। রাত ১টায় ১৫১১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। বুধবার সারা দিনই ৫০০ মেগাওয়াটের ওপর লোডশেডিং হয়। বুধবার দুপুর ২টা থেকে লোডশেডিং ১ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। এদিকে গ্যাস সংকটে গড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছুটা কমেছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত সাগরে ভাসমান সামিটের এলএনজি টার্মিনালটি এখনও মেরামত করা সম্ভব হয়নি। বিদেশি লোকজন সাগরে কাজ করছেন। সাগরের গভীর তলদেশে দড়ি দিয়ে বেঁধে এলএনজি টার্মিনালটিকে স্টেবল রাখা হয়। সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন নতুন করে তা স্থাপনের কাজ চলছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া ও অতিরিক্ত ঢেউয়ের কারণে ঠিকমতো কাজ করা যাচ্ছে না। এ জন্য সময় বেশি লাগছে। মেরামতকারী ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন আরও ২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সে হিসেবে চলতি মাসে দেশে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে না।


সূত্রে জানা গেছে, দেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক ১১০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর একটি এক্সিলারেট এনার্জির, অন্যটি সামিটের। গত মাসের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় গ্যাস গ্রিডের আনোয়ারা-ফৌজদারহাট ৪২ ইঞ্চি পাইপলাইন দুর্ঘটনায় ছিদ্র হয়ে যায়। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় অলস বসে থাকে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি। এতে প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। তিন দিন পর এটি থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।

বর্তমানে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড় রিমালে গত ২৬ মে সামিটের এলএনজি টার্মিনালটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর মেরামত দেশে সম্ভব না হওয়ায় পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে। সেখান থেকে মেরামত শেষে দেশে ফেরে গত ১০ জুলাই। গত ১৭ জুলাই এটি দিয়ে এলএনজি সরবরাহ করার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। কারণ টার্মিনালটি নোঙর করার জন্য যে রশি বা চেইন ব্যবহার করা হয় সেটি ছিঁড়ে যায়। তখন জানানো হয় চলতি মাসের ২৯ বা ৩০ তারিখে এটি সচল হবে। এটি থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তখন দেশে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের সংকট কাটাতে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর সুযোগ নেই। কারণ এলএনজি টার্মিনালের সক্ষমতা ১১০ কোটি ঘনফুট। সরবরাহ বাড়ানোর আগে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এতে ২ থেকে ৩ বছর লাগবে।

পেট্রোবাংলার ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার ২৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে এলএনজি মাত্র ৬০ কোটি ঘনফুট। আর দেশীয় কূপ থেকে উত্তোলন করে সরবরাহ করা হয়েছে ২০০ কোটি ঘনফুট। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে চাহিদা ২৩০ কোটি ঘনফুট, সরবরাহ করা হয়েছে ৮৯ কোটি ঘনফুট। সরবরাহ কম হওয়ায় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে হচ্ছে। দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৪০০ কোটি ঘনফুট ছাড়িয়েছে। সে হিসেবে ১৪০ কোটি ঘনফুটের মতো ঘাটতি রয়েছে। সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ শুরু হলেও ১১০ কোটি ঘনফুটের মতো ঘাটতি থেকেই যাবে।

 এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার বিকালে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান খান সময়ের আলোকে বলেন, যত দিন যাবে গ্যাসের চাহিদা তত বাড়বে। কিন্তু সে অনুযায়ী সরবরাহ করতে না পারলে সংকট থাকবেই।

তিনি বলেন, সামিটের ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি এখনও ঠিক হয়নি। আবহাওয়া ভালো থাকলে এটি মেরামত করতে এই মাস লেগে যেতে পারে। এখনও আবহাওয়া ঠিক হয়নি।

তিনি বলেন, জাহাজ সমুদ্রে তলদেশে বিভিন্নস্থানে বেঁধে রাখা হয় যেন এটা ভাসমান থাকে। বেঁধে রাখার কার্যক্রমগুলো ছিঁড়ে গেছে। এখন নতুন করে এগুলো স্থাপন করা হচ্ছে। জাহাজের নিচ থেকে আরও ২০০ ফুট নিচে সমুদ্রের তলদেশে এটা মেরামত করা হচ্ছে। মেরামত করতে ডুবুরিদের সমুদ্রের তলদেশে যেতে ২ ঘণ্টা লেগে যায়। এ ছাড়া বৈরী আবহওয়ায় ঢেউ এবং পানি ঘোলা থাকায় এই কার্যক্রম কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পানি পরিষ্কার না থাকলে কাজ করা যায় না।

তিনি বলেন, মেরামতকারীরা ১০ থেকে ১২ দিনের কথা বলছে। আমরা ধরে নিচ্ছি পুরো এই মাসটাই মেরামতের জন্য লাগবে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে এটা মেরামতের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি।


সময়ের আলো/আরএস/ 



Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: