অনিচ্ছাকৃত পাপের প্রায়শ্চিত্ত

আবদুল্লাহ আল মাসউদ

ইসলামের আলো

পার্থিব জীবনে আমরা ছোট-বড় অনেক ধরনের পাপে জড়িয়ে যাই। অনেক সময় এক পাপ থেকে বাঁচতে গিয়ে অন্য পাপে জড়িয়ে পড়ি।

2024-08-19T02:07:14+00:00
2024-08-19T02:07:14+00:00
 
  সোমবার, ৮ জুন ২০২৬,
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
ইসলামের আলো
অনিচ্ছাকৃত পাপের প্রায়শ্চিত্ত
আবদুল্লাহ আল মাসউদ
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৪, ২:০৭ এএম   (ভিজিট : ১১৫৫)
অনিচ্ছাকৃত পাপের প্রায়শ্চিত্ত
পার্থিব জীবনে আমরা ছোট-বড় অনেক ধরনের পাপে জড়িয়ে যাই। অনেক সময় এক পাপ থেকে বাঁচতে গিয়ে অন্য পাপে জড়িয়ে পড়ি। কখনো ইচ্ছায় পাপে লিপ্ত হই, কখনো অনিচ্ছায়। কখনো বুঝতে পারি, কখনো বুঝতে পারি না। তখন একের পর এক পাপে জড়াতেই থাকি। এতে পাপের বোঝা দিন দিন ভারী হতে থাকে। কিছু গুনাহ থাকে অনেক বড় ও ভারী, যা তওবা ছাড়া মাফ হয় না। আর কিছু গুনাহ অবচেনভাবেই হয়ে যায়। এটাকে আরবিতে বলে সগিরা গুনাহ। গুনাহ কবিরা বা সগিরা যাই হোক, এর পরিণাম ভালো হয় না। এর কারণে দুনিয়ার জীবনে আসে বিপদাপদ, পরকালে ভোগ করতে হবে জাহান্নামের শাস্তি।

পাপ হয়ে গেলে দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় তা থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি। কিন্তু এই পাপের বোঝা কীভাবে হালকা করা যায়, কীভাবে মিটানো যায়, তা নিয়ে অনেকেই ভাবি না। অথচ ইচ্ছে করলে পাপগুলো আমরা তখনই মিটিয়ে দিতে পারি। সেই পন্থা আল্লাহ তায়ালা নিজে আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন। নেক কাজের মাধ্যমে পাপ মিটানোর কথা বলেছেন তিনি। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি নামাজ কায়েম করো দিবসের দুই প্রান্তভাগে এবং রাতের প্রথমাংশে। অবশ্যই নেক আমল পাপগুলো মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, তাদের জন্য এ উপদেশ।’ (সুরা হুদ : ১১৪) 

কতই না সুন্দর পথ, একটি নেক কাজই পারে আমাদের পাপগুলো মিটিয়ে দিতে। রাসুল (সা.) হজরত আবু যর (রা.)-কে বলেন, ‘হে আবু যর! যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো এবং কোনো পাপ হয়ে গেলেই নেক আমল করো; তা তোমার পাপ মিটিয়ে দেবে’ (তিরমিজি : হাদিস ১৯৮৭)। এভাবেই পাপের কাফফরা হয় নেক আমল করার দ্বারা। নেক কাজ নানাভাবে করা যেতে পারে। মানুষকে সালাম দেওয়ার মাধ্যমে আমরা নেকি অর্জন করতে পারি। চলতে-ফিরতে হরহামেশাই যেহেতু গুনাহের আশঙ্কায় থাকি, সর্বদাই গুনাহের জালে আবদ্ধ থাকি। তাই আমাদের সালাম একটি নেক কাজ। পথে বের হলেই আমরা পরিচিত-অপরিচিত ব্যক্তির মুখোমুখি হই। শুধু ছোট্ট করে একটি সালাম দিলেই হলো। দশটি নেকি আমাদের আমলনামায় জমা হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে গুনাহের বোঝাও হালকা হলো। পাশাপাশি পরস্পর ভ্রাতৃত্ব আর মহব্বতের সেতুবন্ধনও তৈরি হবে।

দান-সদকার মাধ্যমে নেক কাজ করতে পারি। অন্যকে সহযোগিতার মাধ্যমে করতে পারি। সর্বদা সত্য কথা বলার মাধ্যমে করতে পারি। সুযোগ হলে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করতে পারি। রাসুল (সা.) বলেন, ‘কারও কোনো পাপ হয়ে গেলে সে যদি উত্তমরূপে ওজু করে এবং দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে মাফ চায়, আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : ২)

এভাবেই আমরা খুঁজে খুঁজে নেক কাজ করতে থাকলে আমাদের দ্বারা যদি কোনো গুনাহ হয়েও যায়-সেই নেক কাজগুলো গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। কেয়ামতের দিন যখন আমলনামা পাল্লায় তোলা হবে, আশা করা যায় আমাদের নেক আমলগুলো ছাড়িয়ে গুনাহের পাল্লা কিছুতেই ভারী হয়ে ওঠতে পারবে না। এই ছোট ছোট নেক কাজগুলোই সেদিন পাহাড়সম হয়ে আমাদের নাজাতের উসিলা হবে। আল্লাহ সবাইকে বোঝার ও আমল করার তওফিক দিন।

সময়ের আলো/আরএস/ 




Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: