মানুষের জীবনে বহুরূপী খোলসে পাপ উপস্থিত হয়। কেউ প্রকাশ্য পাপে জড়িত, কেউ গোপন পাপে জড়িত। অনেক মানুষ নিজের অজান্তেই জড়িয়ে পড়েন গোপন পাপে। এটা দুনিয়ার জীবনকে বরবাদ করে। পরকালেও কঠিন শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করাবে। এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি আমার উম্মতের কতক দল সম্পর্কে অবশ্যই জানি, যারা কেয়ামতের দিন তিহামার শুভ্র পর্বতমালা সমতুল্য নেক আমল নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু মহামহিম আল্লাহ সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবেন।’
সাওবান (রা.) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করুন, যাতে অজ্ঞাতসারে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যাই। রাসুল (সা.) বলেন, তারা তোমাদেরই ভ্রাতৃ-গোষ্ঠী এবং তোমাদের সম্প্রদায়ভুক্ত। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতোই ইবাদত করবে। কিন্তু তারা এমন লোক, যারা একান্ত গোপনে হারাম কর্মে লিপ্ত হবে’ (ইবনে মাজাহ : ২/১৪১৮)। সুতরাং এ থেকে মুক্ত থাকা জরুরি। কিছু বিষয় মেনে চললে রক্ষা পাওয়া সম্ভব পুণ্যবিনাশী পাপ থেকে।
এক. সর্বদা এ কথা অন্তরে জাগ্রত রাখা যে, আল্লাহ আমাকে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি আমাকে সর্বদাই দেখছেন। আমি যা করি, আমার প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর সামনে। এ ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।’ (সুরা নিসা : ১)
দুই. অন্তরের সঙ্গে মুজাহাদা করা, তার কুমন্ত্রণা দূর করা এবং আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর। অতঃপর তাকে অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। আর যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।’ (সুরা শামস : ৭-১০)
তিন. যে রাস্তাগুলো গুনাহের দিকে ধাবিত করে, সে রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেওয়া। তা এভাবে যে, একাকী না থাকা বরং সবসময় অন্যদের মাঝে থাকা। পরিবার-পরিজন, স্ত্রী ও সন্তানদের মাঝে থাকা। যদি স্ত্রী থেকে দূরে থাকেন তা হলে স্ত্রীকে সঙ্গে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। আপনার স্ত্রীর মাধ্যমে নিজেকে পবিত্র রাখুন এবং আপনার মাধ্যমে আপনার স্ত্রীকেও পবিত্র রাখুন। আর যদি আপনি আপনার পরিবারের কাছেই থাকেন ও তাদের সঙ্গে বসবাস করেন, তা হলে আপনি তাদের থেকে দূরে যাবেন না। আপনি আপনার স্ত্রীকে ভালোবাসুন। তার মাধ্যমে আপনার প্রয়োজন পূরণ করুন। যখনই আপনার অন্তরে দেখার খায়েশ জাগবে কিংবা অশ্লীল কোনো কিছু আপনার নজরে পড়ে যাবে তখনই আপনি নিজেকে হারামের দিকে যেতে দেবেন না। বরং আপনি দেরি না করে হালালকে গ্রহণ করবেন।
চার. সদা সর্বদা দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণকর কোনো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা। কারণ অবসর সময় মানুষের নষ্টের কারণ। এমন নষ্ট যার কোনো সীমা নেই।
পাঁচ. বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া করা, কান্নাকাটি করা। যেন আল্লাহ নাফরমানি ও সব গুনাহ থেকে হেফাজত করেন। শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হেফাজত করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে; বস্তুত আমি তো রয়েছি সন্নিকটেই। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করি। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য, যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে’ (সুরা বাকারা : ১৮৬)। আল্লাহ সবাইকে বোঝার ও মানার তওফিক দিন।
সময়ের আলো/আরএস/