ইসিকে সরকারের ওপর খবরদারির এখতিয়ার দিতে হবে : নৌ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

ভোটের সময় নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সরকারের ওপর কিছুটা খবরদারির এখতিয়ার দিতে হবে বলে জানান, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও অন্তর্বতী সরকারের

2024-10-12T20:13:42+00:00
2024-10-12T20:14:59+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
*কিছু সংস্কারের জন্য সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে : বদিউল আলম *নির্বাচনচলাকালীন সময়ে উচ্চ আদালতে কমিশনের মতামত না নিয়ে কোনো রিট গ্রহণ না করার পরামর্শ : মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল *ইসির নিবন্ধন প্রথা বাতিলের পাশাপাশি একাধিক দিনে নির্বাচনের দাবি জামাতের *নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া ও প্রচলিত ব্যবস্থা পরিবর্তন করে আনুপাতিক ব্যবস্থা জরূরী : রুহিন হোসেন প্রিন্স
ইসিকে সরকারের ওপর খবরদারির এখতিয়ার দিতে হবে : নৌ উপদেষ্টা
‘নির্বাচন কমিশনে কেমন সংস্কার চাই’ সেমিনারে বক্তারা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৪, ৮:১৩ পিএম  আপডেট: ১২.১০.২০২৪ ৮:১৪ পিএম
ইসিকে সরকারের ওপর খবরদারির এখতিয়ার দিতে হবে : নৌ উপদেষ্টা
ভোটের সময় নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সরকারের ওপর কিছুটা খবরদারির এখতিয়ার দিতে হবে বলে জানান, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও অন্তর্বতী সরকারের বস্ত্র, পাট ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। 

শনিবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সকাল ১০টায় ‌‘নির্বাচন কমিশনে কেমন সংস্কার চাই’ শিরোনামে সেমিনারের আয়োজন করে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বস্ত্র ও পাট  এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

ইসি নিয়োগ প্রসঙ্গে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তিন ধাপে ইসি নিয়োগ করা যেতে পারে। প্রথম ধাপে সকলের নামই প্রকাশ করা হবে। তৃতীয় ধাপে পার্লামেন্ট থেকে চূড়ান্ত প্রস্তাব যাবে রাষ্ট্রপতির কাছে। তিনি বলেন, ডিসিরা নির্বাচন করে এই কথা ঠিক না, আইনে ৩০০ আসনে ৩০০ রিটানিং অফিসার দেওয়া যাবে আবার ডিসিদের দিতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সাবেক এই নির্বাচন কমিশানর বলেন, দলের প্রার্থী হতে হলে দলের প্রাথমিক সদস্য পদে অন্তত তিন বছর থাকতে হবে। তৃণমূলে এক দুই বছর থেকে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এছাড়া নারী প্রার্থী ৫০ জন বা ১০০ জন, যাই করেন সেটা সরাসরি নির্বাচন করেন। সংরক্ষিত আসনে নারীদের কোনো অংশগ্রহণ থাকে না। তবে এটা করবেন কি না সেটা আপনারা রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নেবেন।

সার্বিকভাবে রাষ্ট্রের কাঠামো ভেঙ্গে পড়েছে উল্লেখ্য করে তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের কাঠামো অনেক জায়গায় মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। কাজেই দায়দায়িত্ব এখন থেকেই শুরু করতে হবে।  অনেক রক্ত ঝরেছে। ৫০০ থেকে ৭০০ মানুষের চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। তারা বলেছে কোনো অসুবিধা নেই। কাজেই আমরা যদি ঠিক করতে না পারি তাদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি হবে। আমরা সেটা করতে চাই না। সংস্কারের যে আলাপ হচ্ছে, সেগুলো আমার বিশ্বাস তারাও ধারণ করবেন। তবে দুয়েকটি জায়গায়, যেগুলো আমরা সবাই দেখেছি, এগুলো শুধরাতে সময় লাগবে। আসলে দেশ পরিচালনা রাজনীতিবিদরাই করবেন আজকে হোক। কালকে হোক। কাজেই দায়-দায়িত্ব তাদের আজ থেকেই শুরু করতে হবে।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সচল থাকা জরুরি উল্লেখ করেছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে তার সংস্কার কমিশন। তবে সরকার-প্রশাসন সবাই দায়িত্ব পালন না করলে, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য ছাড়া সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। 

ড. বদিউল আলম বলেন, বিগত সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অসাংবিধানিকভাবে বাতিল করেছিলো, যা মোটেই কাম্য নয়। রাজনৈতিক দলগুলো যদি দায়িত্বশীল না হয়, অর্থ পেশীশক্তি ব্যবহার করে সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ইসি সাংবিধানিকভাবে সুষ্ঠ নির্বাচন নিশ্চিত কার্যকর না করলে তা সংবিধানের লঙ্ঘন। গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজকে ওয়াচডগ হয়ে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে উচ্চ আদালতের রেফারেন্সে এই সরকার গঠিত হয়েছে যার ফলে এটা একটা সাংবিধানিক সরকার। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার পক্ষে বাম ও ছোটো দল আমরা সবাই একমত। 

সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি পুরোপুরি যৌক্তিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, বাস্তবতার নীরিখে যা সংস্কার করার জন্য দরকার তাই করা হবে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ভোট হওয়া উচিত না। প্রয়োজনে পুনরায় ভোট করতে হবে। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারকে একাকার করলে যে দূরবস্থা হয় সেটাই হয়েছে বাংলাদেশে। বিএনপির ওপরে অনেক দায়িত্ব। সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি কিন্তু অভিভাবকের পরিচয় দিয়েছে। নির্বাচিত হলেও পরে অন্যান্য দল নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। নির্বাচনচলাকালীন সময়ে উচ্চ আদালতে কমিশনের মতামত না নিয়ে কোনো রিট গ্রহণ করা হবে না বলেও পরামর্শ দেন তিনি।

আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রথা বাতিল চেয়ে সাবেক শিবির সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, তার দল নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারে নয়টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেছে। সংসদ নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক ভোট চেয়েছি আমরা। জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল নির্বাচনের জন্য সংবিধানে সংশোধন এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফেরত আনার কথা বলেছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া নির্বাচন অন্যান্য নির্বাচনের চেয়ে জনগণের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে। 

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন প্রথা বাতিলের পাশাপাশি একাধিক দিনে নির্বাচনের দাবি তুলেছি। ডিজিটাল মেশিন ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। সরকারি চাকরিজীবী চাকরি ছাড়ার তিন বছরের মধ্যে ভোট করতে পারবেন না। স্থানীয় সরকারের দলীয় প্রতীক প্রথা বাতিল করতে হবে।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, প্রথমে উনারা এসে বললেন সংস্কার অনেকগুলো কাজ করবেন। তিনমাস সময় দেওয়া হলো তিনমাস পরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলবে। উনারা এখনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ করবেন না। তাহলে কি কালক্ষেপন? এই তিনমাস সময় লাগার তো কথা না।  

তাদের কাছ থেকে সুপষ্ট কথা শুনতে চাই জানিয়ে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু সংবিধান সংস্কার করবেন। অনেকদিন ধরে দেশে যে সংকট সেই ব্যবস্থা উচ্ছেদের আকাঙ্খা আমরা করলাম। স্বাধীন দক্ষ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন।  

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, স্বৈরাচার সরকারের দোসর ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীকে যদি মুক্তিই দেবেন তাহলে গ্রেফতার কেন করেছিলেন। আবার আপনারা জেন্টালম্যান ও সাবেক মন্ত্রী এম এ মান্নানকে কেন গ্রেফতার করলেন। কেন ওবায়দুল কাদেরকে গ্রেফতার করতে পারলেন না। সাবের হোসেন চৌধুরীকে কোনোভাবেই ছাড়া উচিত হয়নি। 

তিনি বলেন, আপনারা পক্ষপাত আচরণ করলে বা তাদের গ্রেফতার করার পর যদি ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট ওই আওয়ামী লীগ আবারও ভিন্নরূপে আবির্ভূত হবে। আর এরকম কিছু হলে আপনারাও চলে যাওয়ার পর অপমান-অপদস্থ হতে হবে।

সময়ের আলো/জেডআই


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: