মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে গত একদিনে সারাদেশে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩১২ জন। যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড।
এর আগে একদিনে গত ২১ অক্টোবর ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১২৯৮ জন রোগী আক্রান্ত হয়েছিলেন। আর আগের দিন সোমবার ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্য এবং আক্রান্ত হয়ে হয়েছিলেন এক হাজার ১৯৭জন। এই নিয়ে চলতি মাসের ২৯ দিনে ডেঙ্গুতে মোট ১২৩ জনের মৃত্যু এবং ২৮ হাজার ৪৮২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া সব মিলিয়ে এ বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৮৬ জনে এবং মোট আক্রান্ত হলো ৫৯ হাজার ৪২০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, সেপ্টেম্বর মাসে মোট আক্রান্ত হয়েছিলেন ২০ হাজার ২৫৮ জন এবং মোট মৃত্যু হয়েছিল ৯১ জনের। আর তার আগের মাস আগস্টে মোট আক্রান্ত হয়েছিলেন ৬ হাজার ৫২১ জন এবং মোট মৃত্যু হয়েছিল ২৭ জনের।
মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলায় হয়, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন চার হাজার ১৬ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি এক হাজার ৯৫০ জন এবং ঢাকার বাইরে রয়েছেন ২ হাজার ৬৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১৮ জন, চট্রগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৮৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩২২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৮১ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৬৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৮ জন , রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪০ জন, রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৭ জন এবং সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক হাজার ২৬০ জন। আর এ বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৫৫ হাজার ১১৮ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এছাড়া এ বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৩৬ হাজার ৭১১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ৫৫ জন, যাদের মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয় ৩৩৯ জন, যাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। মার্চ মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩১১ জন; যাদের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এপ্রিল মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫০৪ জন, যাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে দুইজনের। মে মাসে ৬৪৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। জুন মাসে ৭৯৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের এবং জুলাই মাসে ২৬৬৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়, তাদের মধ্যে মৃত্যু হয় ১২ জনের।
সময়ের আলো/এম