সংখ্যালঘুদের ৮ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণসমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে ৪০ সংগঠনের সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চা। ৮ দফা দাবিকে ‘অস্তিত্ব রক্ষা’র দাবি উল্লেখ করে দ্রুত মেনে নেওয়ার আহবানও জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (২ নভেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই গণসমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় ‘এই দেশ ছাড়বো না- দেশটা কারো বাপের না,’ ‘এই স্বাধীন বাংলায়- বৈষম্যের ঠাই নাই’, ‘সংবিধানে বিদ্যমান সংখ্যালঘু ও জাতিগত বৈষম্য দূর কর’, ‘দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন করতে হবে’, ‘ধর্মীয় রাষ্ট্র নয় ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই’, ‘ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার’, ‘অ্যাডভোকেট রাণা দাশগুপ্তসহ সকল সংখ্যালঘু নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
গণসমাবেশে বক্তারা বলেন, আমরা সংখ্যালঘু নয়, বাংলাদেশি হিসেবে বাঁচতে চাই। তাই অনতিবিলম্বে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের স্বার্থ ও অস্তিত্ব রক্ষায় আট দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের পাশাপাশি যে সব নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্তর বিরুদ্ধে করা হত্যা মামলা এবং ইসকনের চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধে হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এছাড়াও সম্প্রতি আমাদের দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ইসকন নিষিদ্ধের যে দাবি জানিয়েছিলেন, তার জন্য ক্ষমা চাইতে সময় বেধে দেন বক্তারা।
সংখ্যালঘুদের ৮ দফা দাবিনামার মধ্যে রয়েছে- সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন; জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন; অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথাযথ প্রয়োগে যাবতীয় আমলাতান্ত্রিক বাধা অপসারণ করে ট্রাইব্যুনালের রায়ের আলোকে জমির মালিকানা ও দখলভুক্তভোগীদের বরাবরে অনতিবিলম্বে প্রত্যর্পণ; জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে সরকারে, সংসদে, জনপ্রতিনিধিত্বশীল সকল সংস্থায় অংশীদারিত্ব ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ; দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণে আইন প্রণয়ন; বৈষম্যবিলোপ আইন প্রণয়ন; পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইনের যথাযথভাবে কার্যকরীকরণ; হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গাপুজোয় অষ্টমী থেকে দশমী ৩দিন, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবারণা পূর্ণিমায় ১ দিন ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সানডে’তে ১দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দ বড়ুয়া, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হেমন্ত কোরাইয়া ও ইসকনের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র ব্রহ্মচারী প্রমুখ।
সময়ের আলো/জেডআই