অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সম্মেলনের পর আজারবাইজানে বাকুতে কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনে অংশ্রগহণ করবেন। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশ যেসব বিরুপ প্রভাবের মোকাবিলা করছে কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনে তার জন্য ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন ড. ইউনূস। এছাড়া ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’, প্যারিস চুক্তির তহবিল এবং জলবায়ু উদ্ধাস্তুদের কথা বৈশ্বিক এই জলবায়ু সম্মেলনে উপস্থাপন করতে পারে বাংলাদেশ।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে আগামী ১১ থেকে ১৪ নভেম্বর আজারবাইজানে সরকারি সফর করতে পারেন। প্রধান উপদেষ্টার কপ-২৯ সম্মেলনে অংশগ্রহণ সফল করতে কূটনীতিকরা কাজ করছেন। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। আবার বাংলাদেশ জলবাযু পরিবর্তন মোকাবেলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অবশ্যই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষে কথা বলবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পূর্বাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যার কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সম্মেলনে তা উপস্থাপন করতে পারে বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি তহবিল ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’, প্যারিস চুক্তির তহবিল এবং জলবায়ু উদ্বাস্তুদের কথা তুলে ধরার সম্ভবনা রয়েছে। এ ছাড়া, উন্নত দেশগুলো থেকে সবুজ প্রযুক্তিতে সহায়তা চাইতে পারে বাংলাদেশ।
এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাকুতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক এবং সৌজন্য সাক্ষাত করবেন।
সর্বশেষ, ২০২৩ সালে কপ-২৮ সম্মেলন সংযুক্ত আরব আমিরাতে হয়। ২০২২ সালে কপ-২৭ মিশরের শার্ম এল-শেখে অনুষ্ঠিত হয়। ওই দুই সম্মেলনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান অংশগ্রহণ করেনি। তবে ২০২১ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কপ- ২৬ সম্মেলন অংশ নিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে কপ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।
সময়ের আলো/এম