অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, একটা চরম ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটেছে। এই পতন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ঘটত, ঘটতে পারত। তাহলে আজকে যারা পলাতক রয়েছে তাদের পালাতে হতো না, তারা বেঁচে যেত। কিন্তু তারা সেটা চায়নি বলেই এই অভ্যুত্থান হয়েছে। রাষ্ট্র তো বদল হয়নি, রাষ্ট্র তো একই রাষ্ট্র রয়েছে। তার আইনকানুন মিল, তার শুধু নামে বদলেছে আয়তনে ছোট হয়েছে। রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে বামপন্থিদের ভূমিকা এবং করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ঔপনিবেশিক শাসকরা যেমন এদেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করত, দেশকে তারা নিজেদের দেশ মনে করত না। বাংলাদেশের ধনীরা সেই কাজই করেন। কাজেই রাষ্ট্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি চরিত্রগতভাবে। বানর যদি মানুষের পোশাক পরে তা হলে কি সে মানুষ হয়ে যায়? ওই পোশাক পরলেই কি বানর মানুষ হয়ে যাবে? রাষ্ট্রতো ওই বানরই রয়ে গেছে। তার পোশাক বদল হয়েছে, রাষ্ট্রের পরিবর্তন হয়নি।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, মানুষের মধ্যে অহেতুক একটা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে যে, ২৪-এর আন্দোলন একটা বিপ্লব। এটা কোনো বিপ্লব নয়, এটা অভ্যুত্থান। হাসিনা-খালেদাকে তো দেখা হয়ে গেছে। কিংবা আরও ভালো করে বললে নৌকা, লাঙল, পাল্লা, শীষ সব সাপেরই দাঁতে বিষ; দেখা হয়ে গেছে। আসলে বামপন্থা ছাড়া এদেশকে রক্ষা করা সম্ভব না।
সভায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, দেয়ালের গ্রাফিতিগুলোর মধ্যে যে ভাব, ভাষা এবং তাগিদ আছে তার কোনো প্রতিফলন আমরা সরকারের মধ্যে দেখছি না। সরকারের ভূমিকা এবং তৎপরতার সঙ্গে দেয়ালের গ্রাফিতির মধ্যে ও আন্দোলনের মধ্যে যে
আকাঙ্ক্ষাগুলো তৈরি হয়েছে তার একটা বড় অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। এ সময় সভায় সভাপ্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবু সাঈদ খান।
সময়ের আলো/আরএস/