মোগল স্থাপত্য নিদর্শন প্রবাজপুর শাহি মসজিদ

আবিদ রাইহান

ইসলামের আলো

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মোগল আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক প্রবাজপুর শাহি

2024-12-06T01:23:01+00:00
2024-12-06T01:23:01+00:00
 
  রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬,
২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
ইসলামের আলো
মোগল স্থাপত্য নিদর্শন প্রবাজপুর শাহি মসজিদ
আবিদ রাইহান
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১:২৩ এএম 
মোগল স্থাপত্য নিদর্শন প্রবাজপুর শাহি মসজিদ
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মোগল আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক প্রবাজপুর শাহি মসজিদ। ইতিহাসের তথ্য অনুসারে মসজিদটি নির্মাণ করা হয় ১১০৪ হিজরির ১৯ রমজান মোতাবেক ২ মে ১৬৯৩ খ্রিস্টাব্দে। সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময় তার ফৌজদার নবাব নুরুল্লাহ খাঁ এ মসজিদের নামে লাখেরাজে ৫০ বিঘা জমি দান করেন। মসজিদটির নির্মাণ সম্পর্কে প্রচলিত কিংবদন্তি হচ্ছে, জিনেরা জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করে এটি তৈরি করেছিল।

প্রত্নতাত্ত্বিক বিশারদদের মতে, ১১০৪ হিজরিতে সম্রাট আওরঙ্গজেব এই এলাকায় তার রক্ষিত মুসলমান সৈন্যদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার জন্য সুবেদার পরবাজ খাঁকে একটি মসজিদ নির্মাণ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি এই এলাকায় একটি এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করেন। যে গ্রামটিতে তার সৈন্যরা থাকত সেই গ্রামটির নামকরণ তার নাম অনুসারে করা হয়েছিল প্রবাজপুর গ্রাম। পরবর্তীতে মসজিদ নির্মাণ করার পর মসজিদটির নামকরণ করা হয় তার নাম অনুসারে প্রবাজ শাহী মসজিদ।

মসজিদের বহির্ভাগস্থ আয়তাকারের আয়তন ৪৬ ফুট ৯ ইঞ্চি, ৩৩ ফুট ৯ ইঞ্চি। মসজিদটিতে ২১ ফুট ৬ ইঞ্চি, ২১ ফুট ৬ ইঞ্চি মাপের একটি বর্গাকৃতির নামাজ ঘর রয়েছে। ৬ ফুট ৯ ইঞ্চি মাপের একটি প্রশস্ত বারান্দা ছিল। কিন্তু বর্তমান বারান্দাটি আর নেই। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে প্রবাজপুর শাহি মসজিদটি টাঙ্গাইলের আতিয়া জামে মসজিদ, নারায়ণগঞ্জের শাহি মসজিদ এবং চামকাটি মসজিদের অনুরূপ এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ।

অন্যদিকে বারান্দায় ছিল তিন গম্বুজ। বাংলা ১৩৬২ সনে মসজিদটি সংস্কার করার সময় মসজিদের মূল পূর্ব দেয়ালের দিকে একটি ছোট দেয়ালজুড়ে মূল বারান্দার এলাকাসহ আয়তাকার বাঁধন উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ তৈরি করা হয়েছিল শুক্রবারের জুমার নামাজ আদায় করার জন্য। 

মসজিদের মূল কক্ষ বারান্দার ওপর ও দক্ষিণ দেয়াল এবং বারান্দার প্রতি অংশে একটি করে মোট ৪টি দরজা ছিল। এ ছাড়া সম্মুখ দেয়ালে এবং বারান্দার ও মূল কক্ষের মধ্যবর্তী দেয়ালের প্রত্যেকটিতে ৩টি করে ৬টি মোট ১০টি দরজা ছিল। উত্তর ও দক্ষিণ অংশের ৪টি দরজার নিম্নভাগ সম্প্রতি ছোট পাতলা প্রাচীর দ্বারা আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মসজিদের প্রধান দরজাটি ৪.৭ ইঞ্চি প্রশস্ত। 

মসজিদের পশ্চিম দিকের দেয়ালে ৩টি অলংকৃত মেহরাব রয়েছে। মাঝখানের মেহরাবটি প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী কিছুটা বর্ধিত এবং পার্শ্ববর্তী দুটি থেকে আকারে বড়। এর অলঙ্করণগুলো সুন্দর।

তিনটি মেহরাবের খিলানই বহু ফলিযুক্ত এবং বহু পার্শ্ববিশিষ্ট স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ ছাড়া মেহরাবের বহিঃপ্রান্ত রেখায় ফলির সংযোগস্থলে পতাকা আকারে বড় নকশা রয়েছে এবং দুটি করে প্রস্ফুটিত পদ্মের বুটি আছে। মেহরাবের তিনটিতেই খিলানের কাঠামোর প্রান্তে খাড়া ও লম্বভাবে প্রচলন অনুযায়ী বক্রাকার গুল্মের নকশা রয়েছে। এ নকশা তিনটি এক একরকম। 

উত্তর পার্শ্বেরটিতে পালানুযায়ী প্রস্ফুটিত বড় পদ্ম এবং ডিজাইন রয়েছে। কেন্দ্রেরটিতে বক্রলতার ভাঁজের মধ্যে উভয়দিকে বড় পতাকার নকশা করা হয়েছে এবং দক্ষিণ পার্শ্বেরটিতে প্রস্ফুটিত সুন্দর বড় পদ্মের সমাবেশ দেখা যায়। 

একটি সূত্রে জানা যায় মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৫০ একর জমি দান করা হয়েছিল। কিন্ত বর্তমান মসজিদের দখলে মাত্র ৩ একর জমি রয়েছে।

সময়ের আলো/আরএস/ 

Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলামের আলো- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: