সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক পত্র দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সোমবার এ কথা জানান অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সোমবার বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য আমরা ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছি। কীভাবে জানিয়েছেন, জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে ভারত সরকারকে জানানো হয়েছে।
এদিকে, ঢাকায় সোমবার এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর কথা জানান। ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছি। কোন উপায়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে ভারতের বন্দিবিনিময় চুক্তি আছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের দফতরে আসেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সেই সময় শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময়ে হত্যাকাণ্ড, গত ১৫ বছরে গুম-ক্রসফায়ার, পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভা, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানসহ অনেকের বিরুদ্ধে মামলা চলমান।