বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ৩১ ডিসেম্বর জুলাই বিপ্লবের যে ঘোষণাপত্র ঘোষণা করার কথা রয়েছে তার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এটিকে সরকার ‘প্রাইভেট ইনিশিয়েটিভ’ (বেসরকারি উদ্যোগ) হিসেবেই দেখতে চায়।
এছাড়া সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি আজ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক সংবাদ সম্মেলনে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, অপূর্ব জাহাঙ্গীর, সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমেদ ও সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি উপস্থিত ছিলেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, এটি একটি প্রাইভেট ইনিশিয়েটিভ। আমরা এটিকে প্রাইভেট ইনিশিয়েটিভ হিসেবেই দেখছি। সরকারের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যারা এটিকে সাপোর্ট করছেন, প্রাইভেট ইনিশিয়েটিভ হিসেবেই সাপোর্ট করছেন।
একই প্রসঙ্গে ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ঘোষণা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ততক্ষণ পর্যন্ত আপনাদেরও স্পষ্ট কিছু বলা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি আজ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্ত নেবেন এই প্রতিবেদন নিয়ে তিনি কী করবেন (প্রকাশ করবেন কি না)।
তিনি বলেন, সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত কার্যক্রম চলছে এবং কমিটি ঘটনাস্থল থেকে আলামত ও নমুনা সংগ্রহ করছেন। আলামতের সঠিক ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার জন্য তদন্ত কমিটি কিছু কিছু আলামত দেশের বাইরে থেকে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করাতে চাই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের পরামর্শ অনুযায়ী তদন্ত কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে তারা কতদিন সময় নেবেন।
সচিবালয় ইস্যুতে তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে সচিবালয় একটা ক্রাইম সিন। সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আগুনের ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্ত চালানোর জন্য আমরা সবার কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। আমরা মনে করি সাংবাদিকরা আমাদের সহযোগিতা করবেন। সহযোগিতার অংশ হিসেবে একটা সাময়িক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা দিয়ে কিন্তু জানিয়েছি, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক। একেবারেই তদন্তের প্রয়োজনে। ক্রাইমের যে লক্ষণগুলো সন্দেহ করা হচ্ছে সেগুলোকে প্রটেক্ট করার জন্য, বেশি মানুষ প্রবেশ করলে আলামত নষ্ট হতে পারে, এজন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের স্বার্থে এই তদন্ত সুষ্ঠু হওয়া জরুরি। এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত।