চীনের তিব্বতে মঙ্গলবার সকালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১২৬ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কম্পন ভারত, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ থেকেও অনুভূত হয়েছে। পরে বেশ কয়েকবার পরাঘাতও (আফটারশক) হয়।
চীন জানিয়েছে রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দমশিক ৮। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার নিচে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১। চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল চীনের জিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে (তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল)। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল তিব্বতের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সিগাজের কাছে।
চীনের ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, হিমালয় পর্বতমালার উত্তরাঞ্চলীয় প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত প্রত্যন্ত ডিংরি কাউন্টির সোগো শহরে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১০টায় এ খবর লেখা পর্যন্ত অন্তত ১২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৮৮ জন। হতাহতের সংখা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের ২০ কিলোমিটার ব্যাসের মধ্যে তিনটি শহর ও ২৭টি গ্রাম আছে। এগুলোর মোট লোকসংখ্যা ৬৯০০ জন।
শিগেইস বিভাগের ডিংরি কাউন্টিতেই অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ডিংরির চাংসুও শহরে টংলাই এলাকায় বহু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। শিগেইস বিভাগের লোকসংখ্যা প্রায় আট লাখ। শিগেইস বিভাগের কেন্দ্রীয় শহর সিগাজ তিব্বতের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর, এটি শিগাৎসি নামেও পরিচিত। লাসা থেকে ২৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের এ শহরটি তিব্বতের দ্বিতীয় পবিত্রতম শহর এবং পাঞ্চেন লামার বাসস্থান। ভূমিকম্পে হিমালয় পর্বতমালার নিকটবর্তী এই শহরটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডিংরি কাউন্টির প্রধান সিনহুয়াকে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পটি তাদের কাউন্টিতে প্রবলভাবে অনুভূত হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর কয়েক ডজন পরাঘাতও অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন শহরে উপস্থিত হচ্ছে বলে সিনহুয়া জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সামাজিকমাধ্যমে আসা এক ভিডিওতে লাটসি শহরের চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়া দোকান দেখা গেছে, সামনের রাস্তায় আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতেও ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়েছে। সকালে কাঠমান্ডুর বাসিন্দারা ঘরে ছেড়ে বাইরে ছুটে যান। ভূমিকম্পটি ভুটানের রাজধানী থিম্ফু এবং ভারতের বিহার রাজ্যসহ উত্তরাঞ্চলজুড়ে অনুভূত হয়েছে। তবে এসব অঞ্চলে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর হয়নি। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে কারণে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, নেপাল ও ভারতের উত্তরাঞ্চলে ঘন ঘন ভূমিকম্প হয়।
সময়ের আলো/আরএস/