অনভিজ্ঞ কার্নির সামনে যত চ্যালেঞ্জ

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের শুল্ক বসানোর হুমকি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাস্টিন ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হলেন মার্ক

2025-03-10T15:36:02+00:00
2025-03-10T15:51:49+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
অনভিজ্ঞ কার্নির সামনে যত চ্যালেঞ্জ
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১০ মার্চ, ২০২৫, ৩:৩৬ পিএম  আপডেট: ১০.০৩.২০২৫ ৩:৫১ পিএম
অনভিজ্ঞ কার্নির সামনে যত চ্যালেঞ্জ
ট্রাম্পের শুল্ক বসানোর হুমকি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাস্টিন ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হলেন মার্ক কার্নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং অর্থনীতিবিদ কার্নি ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।

তিনি এমন সময় দেশের সর্বোচ্চ স্তরের রাজনীতিতে প্রবেশ করছেন, যখন ফেডারেল বা পার্লামেন্ট নির্বাচন খুবই কাছাকাছি। এ ছাড়া তিনি যে দলটির নেতৃত্বে আসছেন, তা বছরের পর বছর ধরে জনগণের সমর্থন ধরে রাখলেও সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবেলার জন্য সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়েছে ।

যদিও রোববার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রথম ব্যালটে ৮৫.৯ শতাংশ ভোট পাওয়ার পর বিজয় ভাষণে কার্নি বলেছেন, সকলের জন্য একটি শক্তিশালী কানাডা গড়ে তোলা লক্ষ্যে আমি দিনরাত কাজ করব।

কিন্তু, কানাডার জাতীয় রাজনীতিতে তুলনামূলক কম পরিচিত মার্ক কার্নি সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। সময়ের আলোর পাঠকদের জন্য আল-জাজিরা থেকে বাংলায় মার্ক কার্নির পরিচয়, রাজনৈতিক দক্ষতা ও চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো ভাষান্তর করে বাংলায় তুলে ধরা হলো।

কানাডার উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে জন্মগ্রহণকারী এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আলবার্টায় বেড়ে ওঠা কার্নি নিজেকে রাজনীতিতে বহিরাগত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে, হার্ভার্ড ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ডিগ্রি অর্জন করার পর প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিনিয়োগ সংস্থা গোল্ডম্যান শ্যাক্স পরিচালনা করা কার্নি কানাডার চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তার সময় নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন।

অতি সম্প্রতি, তিনি ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যে সময় তিনি ওই কোম্পানির বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগ কৌশলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

কানাডিয়ান পণ্যের উপর ট্রাম্পের আরোপিত উচ্চ শুল্ক, যা ৪ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়ার ফলে দেশটি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি।

কিন্তু সঙ্কটের সময়ে তার ব্যাংকিং অভিজ্ঞতাই ট্রাম্পের ঝড় মোকাবেলায় কানাডাকে সাহায্য করার তার দক্ষতার সবচেয়ে ভালো প্রমাণ বলে মনে করেন কার্নি এবং তার সমর্থকরা।

৫৯ বছর বয়সী কার্নি ২০০৮ সালের বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটের মধ্যে ব্যাংক অফ কানাডার গভর্নর হিসেবে তার কার্যকাল শুরু করেন এবং কানাডাকে গুরুতর মন্দা থেকে রক্ষা করতে দ্রুত সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশেষ কৃতিত্ব পান।

২০১৩ সালে কার্নি ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য সেখানে চলে যান, যেখানে তিনি ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব ছিলেন। সে বছর অবশ্য যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করে।

সেখানেও তিনি ব্রেক্সিটের প্রভাব কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেছেন বলে স্বীকৃতি পান। যদিও ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়া ব্রিটিশ অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে তার মূল্যায়ন রক্ষণশীলদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।

লেখক, কলামিস্ট এবং যুক্তরাজ্যের সামাজিক বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতি উইল হাটন বলেন, তিনি একজন সফল ও উদ্ভাবনী কেন্দ্রীয় ব্যাংকার ছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ হলো পুঁজিবাদকে যতটা সম্ভব বৈধ করে তোলা এবং এর সবচেয়ে খারাপ দিকগুলো দূর করা।

কার্নির অর্থনৈতিক যোগ্যতা নিয়ে খুব কম লোকেরই বিতর্ক করার অবকাশ থাকলেও নির্বাচনী রাজনীতিতে তার অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এমনকি নিজ দলের মধ্য থেকেও।

তিনি ট্রুডোর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় সরকারের আবাসন সংকট এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

কার্নি আগে কখনোও রাজনৈতিক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি এবং এবার তিনি প্রচারণার বেশিরভাগ সময় কানাডিয়ানদের কাছে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেই ব্যয় করেছেন।

ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড্যানিয়েল বেলান্ড বলেন, তিনি এমন একজন যিনি পর্দার আড়ালে থেকেছেন, একজন উপদেষ্টা ও একজন টেকনোক্র্যাট হিসেবে।

কার্নির রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, যার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই, নির্বাচনে তাকে মূলত সিংহের খাঁচায় যেতে হবে।

এই বছরের ফেডারেল নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বেলান্ড বলেছেন, কার্নি কনজারভেটিভদের পিয়েরে পোইলিভরে এবং ব্লক কুইবেকোয়াসের ইভেস-ফ্রাঙ্কোইস ব্লাঞ্চেটের মতো উগ্র বিরোধী নেতাদের মুখোমুখি হবেন, যা তার পক্ষে উতরে ওঠা বেশ কষ্টের। 

বেলান্ডের মতে, কানাডা-মার্কিন উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক এবং শুল্ক আরোপের অনিশ্চয়তার জন্য বর্তমানে কানাডিয়ানরা অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কম চিন্তিত ।

প্রকৃতপক্ষে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কায় ভীত কানাডিয়ানদের সমাধানের পথ দেখানোও কার্নির প্রধান নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ হবে।

কানাডা-মার্কিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ আসন্ন নির্বাচনের প্রধান প্রশ্ন হবে বলে মনে হচ্ছে এবং কানাডিয়ানরা সমানভাবে ওই নেতার পক্ষেই ভোট দেবে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সামলাতে বেশি উপযুক্ত।

এ সপ্তাহে প্রকাশিত অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের একটি জরিপে দেখা গেছে, কার্নি এক্ষেত্রে ৯ শতাংশ পয়েন্টের এগিয়ে আছেন। আনুমানিক ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন যে, তারা ট্রাম্পের সাথে মোকাবিলা করার জন্য তাকেই সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করেন এবং  ৩৪ শতাংশ পোইলিভরেকে বেছে নিয়েছেন।

প্রতিপক্ষকে কিভাবে মোকাবেলা করবেন যে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো কৌশল কার্নির নেই উল্লেখ করে বেলান্ড যোগ করেন, কনজারভেটিভদেরকে কীভাবে মোকাবেলা করতে হবে সে সম্পর্কে একটি খুব স্পষ্ট কৌশল নিয়ে আসতে হবে। কেবল স্লোগান এক্ষেত্রে সম্ভবত কাজ করবে না। 

অধ্যাপক আরও বলেন, সঙ্কটের সময়ে গুরুত্ব প্রয়োজন এবং কার্নি হলেন গুরুত্বের প্রতিমূর্তি। তিনি একজন অভিজাত টেকনোক্র্যাট, অন্যদিকে পোইলিভর স্লোগান দিতে এবং মানুষকে উপহাস করতে পছন্দ করেন শুধু।

বেলান্ড জানান, ট্রাম্পের সৃষ্ট এই বৈদেশিক নীতি এবং বাণিজ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে কার্নির তুলনায় পোইলিভরের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা বোকামি শোনাতে পারে। ইতিমধ্যে, কার্নি পোইলিভের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কথার প্রতিধ্বনি করার অভিযোগ করেছেন।

কার্নি গত মাসের এক বিতর্কে অভিযোগ করে বলেছিলেন, পোইলিভরে লোকটিকে (ট্রাম্প) পূজা করে। সে তার ভাষা ব্যবহার করে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সে আমাদের দেশের জন্য সঠিক ব্যক্তি নয়।

চলতি বছরের শেষে ফেডারেল নির্বাচনের আগের সময়টুকু ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান শুল্ক হুমকির সামলে নিয়ে কার্নি যদি তার অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতা দিয়ে দক্ষতার সাথে কানাডাকে স্থিতিশীলতা এনে দিতে পারেন, তাহলে জয়ের পথে বিরোধীরা বাধা হতে পারবে না বলে মত দিয়েছেন অধ্যাপক বেলান্ড।



Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: