আমাজনে ৬০ শতাংশ বন ধ্বংস

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে বন ধ্বংসের হার পৌঁছেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ্ল্যাড ল্যাব’-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ

2025-05-24T03:07:11+00:00
2025-05-24T03:07:11+00:00
 
  সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬,
১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
আমাজনে ৬০ শতাংশ বন ধ্বংস
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ মে, ২০২৫, ৩:০৭ এএম   (ভিজিট : ২৭১)
ছবি: সংগৃহীত
২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে বন ধ্বংসের হার পৌঁছেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ্ল্যাড ল্যাব’-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বছর দাবানলের কারণে বন উজাড়ের হার বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে। এই বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে ‘গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচ’ প্ল্যাটফর্ম।

গবেষণায় বলা হয়, ২০২৪ সালে ব্রাজিলের আমাজন থেকে শুরু করে সাইবেরিয়ার বরফাচ্ছন্ন তাইগা পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ বন উজাড় হয়েছে। কৃষিকাজ, দাবানল, খনি প্রকল্প ও কাঠ সংগ্রহের কারণে পৃথিবী হারিয়েছে ইতালির আয়তনের সমান বনভূমি।

গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক ম্যাট হ্যানসেন এই পরিসংখ্যানকে ‘ভীতিকর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘বিশ্ব এখন এক বিপজ্জনক চক্রে ঢুকেছে, যেখানে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বন আরও গরম ও শুষ্ক হয়ে উঠছে। আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়ছে এবং নিয়ন্ত্রণ হারানো আগুনে পুরো রেইনফরেস্ট ছাই হয়ে যাচ্ছে।’

দাবানল ও জলবায়ু পরিবর্তনের যৌথ প্রভাব : বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জীববৈচিত্র্য ও কার্বন ধারণকারী ক্রান্তীয় বনাঞ্চলে আগুন প্রথমবারের মতো প্রধান ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠেছে। অথচ এসব অঞ্চলে আগুন প্রাকৃতিক উপাদান নয়। কানাডা ও সাইবেরিয়াতেও আগুন লাগার হার বাড়ছে।

২০২৩ সাল ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর। তার সঙ্গে এল নিনোর প্রভাবে আমাজনে খরা ভয়াবহ রূপ নেয়। চাষিরা যখন জমি পরিষ্কার করতে আগুন দেন, তা অনেক সময় দাবানলে রূপ নেয়। এর ফলে শুধু ২০২৩ সালেই প্রায় ১.১৫ গিগাটন কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছড়িয়েছে- যা পুরো দক্ষিণ আমেরিকার জীবাশ্ম জ্বালানি নির্গমনের চেয়েও বেশি।

ব্রাজিলে রেকর্ড বন ধ্বংস : ২০২৪ সালে ব্রাজিলে বন ধ্বংসের হার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। দেশটি হারিয়েছে প্রায় ২৮ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার বন, যা ২০১৬ সালের পর সর্বোচ্চ। প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার পরিবেশবান্ধব নীতির পরও এই ধ্বংস থামেনি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, দাবানলের ভয়াবহতা ও ব্যাপক খরাই এর মূল কারণ।

দক্ষিণ আমেরিকায় আরও উদ্বেগজনক চিত্র : বলিভিয়ায় বন ধ্বংস বেড়েছে ২০০ শতাংশ। দেশটি গরুর মাংস ও সয়াবিন চাষে আগুন দিয়ে জমি পরিষ্কারের অনুমতি দিয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটি হারিয়েছে ১৪ হাজার ৮০০ বর্গকিলোমিটার বন, যার দুই-তৃতীয়াংশ দাবানলে নষ্ট হয়েছে।

পেরু বন সংরক্ষণের আইন শিথিল করায় ধ্বংস বেড়েছে ২৫ শতাংশ। কলম্বিয়ায় বিদ্রোহীদের সোনা খনন ও কোকা চাষের কারণে প্রাথমিক বন ধ্বংস বেড়েছে ৪৯ শতাংশ। এমনকি সবচেয়ে সুরক্ষিত বলে পরিচিত গায়ানাতেও বন ধ্বংস বেড়েছে ২৭৫ শতাংশ।

আফ্রিকায় আশঙ্কাজনক প্রবণতা : ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও কঙ্গো-ব্রাজাভিলেতেও বন ধ্বংসের হার সর্বোচ্চ। এই অঞ্চলের রেইনফরেস্ট বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধ্বংসাত্মক প্রবণতা পরিবেশ সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে এবং বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটকে ত্বরান্বিত করছে।

প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা : ২০২১ সালে গ্লাসগোর কপ২৬ জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বন ধ্বংস বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের চিত্র বলছে, সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রতি বছর কমপক্ষে ২০ শতাংশ হারে বন ধ্বংস কমাতে হবে। বাস্তবে তার বিপরীতটাই ঘটছে।

কিছু ইতিবাচক দিক : সব দেশে অবশ্য পরিস্থিতি এক রকম নয়। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় বন ধ্বংসের হার তুলনামূলকভাবে কম। এমনকি মালয়েশিয়া এবার প্রথমবারের মতো শীর্ষ দশ বন ধ্বংসকারী দেশের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচের সহ-পরিচালক এলিজাবেথ গোল্ডম্যান বলেন, ‘এই অবস্থা গ্লোবাল রেড অ্যালার্ট। এখন প্রতিটি দেশ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সচেতন ব্যক্তিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বন না থাকলে কোনো অর্থনীতি, সমাজ কিংবা স্বাস্থ্যব্যবস্থা টিকবে না।’

সময়ের আলো/এমএইচ


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: