ইএমপি ক্ষেপণাস্ত্র কী? কেন এটি পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়ে বেশি বিধ্বংসী?

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

বিশ্ব যত আধুনিক হচ্ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও আধুনিক হচ্ছে। এ আধুনিক প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশ

2025-06-21T02:21:27+00:00
2025-06-21T02:21:37+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইএমপি ক্ষেপণাস্ত্র কী? কেন এটি পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়ে বেশি বিধ্বংসী?
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ জুন, ২০২৫, ২:২১ এএম  আপডেট: ২১.০৬.২০২৫ ২:২১ এএম  (ভিজিট : ৫৯৫)
সংগৃহীত ছবি
বিশ্ব যত আধুনিক হচ্ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও আধুনিক হচ্ছে। এ আধুনিক প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশ পারমাণবিক বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে থাকে যা মুহূর্তেই একটি পুরো অঞ্চলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারে। তবে, এই বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর চেয়েও আরও ভয়ঙ্কর একটি অস্ত্র হলো ইএমপি বা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস ক্ষেপণাস্ত্র।

একবিংশ শতাব্দীর সামরিক প্রযুক্তিতে যে কয়েকটি অস্ত্র বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস (ইএমপি) ক্ষেপণাস্ত্র। পারমাণবিক অস্ত্রের মতো দৃশ্যমান ধ্বংসযজ্ঞ না ঘটিয়েও এই অস্ত্র একটি দেশের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক অবকাঠামোকে মুহূর্তের মধ্যে অচল করে দিতে পারে, যা আধুনিক সমাজের জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে সক্ষম।

ইএমপি কী এবং কীভাবে কাজ করে? 

ইএমপি ক্ষেপনাস্ত্র হলো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস (EMP) ব্যবহারের জন্য তৈরি করা একটি ক্ষেপণাস্ত্র। এটি একটি বিশেষ ধরনের অস্ত্র যা শক্তিশালী ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস তৈরি করে ইলেকট্রনিক্স এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি অকেজো করে দেয়। এই ধরনের ক্ষেপনাস্ত্র সাধারণত পারমাণবিক বা অ-পারমাণবিক উভয় ধরনের হতে পারে।

১. পারমাণবিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস (NEMP): একটি পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে এটি উৎপন্ন হয়। বিশেষ করে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অনেক উঁচুতে (High Altitude Electromagnetic Pulse - HEMP) পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটালে তা বিপুল মাত্রায় ইএমপি তৈরি করতে পারে, যা বিশাল এলাকা জুড়ে ইলেকট্রনিক সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

২. অ-পারমাণবিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস (NNEMP): এই ধরনের ইএমপি পারমাণবিক বিস্ফোরণ ছাড়াই উৎপন্ন করা হয়। উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ (HPM) বা ফ্লাক্স কম্প্রেশন জেনারেটর (FCG) বোমা ব্যবহার করে এটি তৈরি করা হয়। NNEMP অস্ত্রের প্রভাব NEMP-এর চেয়ে কম বিস্তৃত হলেও, এটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

ইএমপি অস্ত্র যখন আঘাত হানে, তখন এটি একটি রাসায়নিক বিস্ফোরণ ঘটায় এবং শক্তিশালী ইলেকট্রন ও চৌম্বকীয় শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই শক্তি বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র, চৌম্বকীয় ক্ষেত্র, বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় বিকিরণ এবং বৈদ্যুতিক পরিচলন রূপে ছড়িয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, এটি যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের (যেমন: কম্পিউটার, রাডার সিস্টেম, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ গ্রিড, স্যাটেলাইট, এমনকি গাড়িতে থাকা ইলেকট্রনিক্স) সার্কিট পুড়িয়ে দেয় বা অচল করে দেয়।

ইএমপি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রভাব:

ইএমপি ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো এর নীরব কিন্তু ব্যাপক ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা। এর আঘাতে একটি বিশাল এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়তে পারে, যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে যেতে পারে, এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে। এর ফলে একটি দেশ "প্রস্তর যুগে" ফিরে যেতে পারে, যেখানে পানীয় জল, খাদ্য সরবরাহ, ব্যাংকিং, পরিবহন, চিকিৎসা সেবা - সবকিছুই ইলেকট্রনিক্স নির্ভর হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

কোন দেশগুলো ইএমপি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে?

বর্তমানে বিশ্বের বেশ কয়েকটি সামরিক পরাশক্তি ইএমপি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা এবং উন্নয়নে সক্রিয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনের মতো দেশগুলো এই অস্ত্র তৈরিতে অনেক এগিয়ে। ভারতও এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের হাতেও এই প্রযুক্তি থাকতে পারে।

চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ:

ইএমপি অস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়ন বিশ্বজুড়ে নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর অপ্রত্যাশিত এবং ব্যাপক ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা দেশগুলোকে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন করে চিন্তা করতে বাধ্য করছে। কিছু বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধ পারমাণবিক বা প্রচলিত অস্ত্রের চেয়েও বেশি "ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম"-এ সংঘটিত হতে পারে, যেখানে ইএমপি ক্ষেপণাস্ত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ইএমপি অস্ত্রের বিপদ মোকাবিলায় দেশগুলো তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার এবং ইলেকট্রনিক সিস্টেমগুলোকে ইএমপি-প্রতিরোধী করার চেষ্টা করছে, তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া।

সময়ের আলো/এমএইচ


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: