বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ৯২ বছর বয়সী পল বিয়া আবারও ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আসন্ন অক্টোবরের নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি প্রায় ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত দেশটির সর্বোচ্চ পদে থাকতে পারবেন।
স্থানীয় সময় রোববার (১৩ জুলাই) নিজের ভেরিফাইড এক্স হ্যান্ডেলে ফরাসি ও ইংরেজি ভাষায় দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অষ্টম মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
বিয়া লিখেছেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব, আপনারা নিশ্চিত থাকুন জাতি যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি আমি তা দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করব।’
চার দশকেরও বেশি সময় আগে ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে আহমেদো আহিদজো পদত্যাগ করলে ১৯৮২ সালে ক্ষমতায় আসেন বিয়া।
ক্ষমতাসীন ক্যামেরুন পিপলস ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (সিপিডিএম) নেতাকর্মীরা এবং তার সমর্থকরা গত বছর থেকে প্রকাশ্যে বিয়ার আরেক মেয়াদে প্রার্থী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
কিন্তু বিরোধী দল এবং কিছু নাগরিক সমাজের গোষ্ঠী যুক্তি দিচ্ছে যে তার দীর্ঘ শাসন অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এরই মধ্যে দুই মিত্র ক্ষমতাসীন জোট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে এবং আলাদাভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
বিরোধীরা তার স্বাস্থ্য নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন তুলেন। চলতি বছর বিয়া যখন ৪২ দিনের জন্য জনসম্মুখ থেকে হারিয়ে যান, তখন এসব জল্পনা আরও তুঙ্গে ওঠে।
গত বছরের অক্টোবরে তিনি ৪২ দিন অনুপস্থিতির পর ক্যামেরুনে ফিরে আসলেও স্বাস্থ্য নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকে। যদিও সরকার দাবি করে যে তিনি ভালো আছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় উল্লেখ করে তার স্বাস্থ্য নিয়ে সবধরনের আলোচনা নিষিদ্ধ করেছে।
প্রেসিডেন্ট পদে নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা নিশ্চিতভাবেই বিয়ার পদের জন্য স্বাস্থ্য নিয়ে বিতর্ক পুনরুজ্জীবিত করবে। তিনি খুব কমই জনসমক্ষে উপস্থিত হন এবং প্রায়ই তার কার্যালয়ের ক্ষমতা শক্তিশালী চিফ অফ স্টাফের (সেনাপ্রধান) কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেন।
ক্যামেরুনের মানবাধিকার আইনজীবী নংহো ফেলিক্স আগবর সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট বিয়ার আবারও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা ক্যামেরুনের স্থবির রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্পষ্ট লক্ষণ। ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার পর দেশটির যা প্রয়োজন তা হল পুনর্জাগরণ, পুনরাবৃত্তি নয়। ক্যামেরুনবাসী গণতান্ত্রিক পরিবর্তন এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব পাওয়ার অধিকার রাখে।’
২০০৮ সালে বিয়া প্রেসিডেন্টের নির্দিষ্ট মেয়াদসীমা বাতিল করে দেন, যার ফলে তার অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ পরিষ্কার হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ৭১.২৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যদিও বিরোধী দলগুলো ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল।
/এমএইচআর