দুই বছর ধরে চলা ফিলিস্তিন ইসরায়েল যুদ্ধে হাজার হাজার নিরস্ত্র ও নিরীহ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করেছে দখলদার বাহিনী। এসব কর্মকাণ্ড সম্পাদন করতে অনেকেরই হয়তো তেমন কোন অনুভূতি কাজ করেনি। আবার কেউ কেউ হয়তো সরকারের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। এর প্রতিবাদ সরূপ-ই হয়তো তারা নিজেরা নিজেদের শেষ করে দিতে চেয়েছেন। এ সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। গত দেড় বছরে দখলদার ইসরায়েলের ২৭৯ সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বর্বরতার মধ্যে তাদের সেনাদের আত্মহননের চেষ্টার সংখ্যা প্রতিনিয়তই বেড়েছে। যার মধ্যে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েলের সংসদের গবেষণা ও তথ্য কেন্দ্রের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ‘ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে আশঙ্কাজনকহারে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে।’
যারা গাজায় সক্রিয়ভাবে গণহত্যায় অংশ নিয়েছে। তাদের অনেকের মধ্যেই এখন আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ২৭৯ জন আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। যার মধ্যে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়।
এতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ১২৪ সেনা আত্মহত্যা করেছেন। যার মধ্যে ৬৮ শতাংশ বাধ্যতামূলক সেনা সার্ভিসে ছিলেন। ২১ শতাংশ ছিলেন রিজার্ভ সেনা এবং ১১ শতাংশ স্থায়ী বা পেশাদার সেনা।
ইসরায়েলি সাংসদ ওফের কাসিফ বলেছেন, “সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যার মহামারি দেখা দিয়েছে। যা যুদ্ধ শেষে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে (আমাদের) সেনাদের মানসিক সহায়তার সিস্টেম তৈরি করতে হবে। আমাদের যুদ্ধ বন্ধ এবং সত্যিকারের শান্তি অর্জনে কাজ করতে হবে।”
সেনাদের যুদ্ধে পাঠালেও এখন তাদের মানসিক সহায়তায় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার কাজ করছে না বলে অভিযোগ করেন কাসিফ।
তিনি বলেন, “সরকার যুদ্ধে তার সেনাদের পাঠিয়ে এর পরবর্তী মানসিক পরিণতি ভোগ করতে সেনাদের সহায়তা করে না। সরকার আসলে সেনাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ওই সময় হাজার হাজার রিজার্ভ সেনাকে জড়ো করে ইসরায়েল। এসব সেনাদের মধ্যে যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তারাই মূলত আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।
সূত্র: কান
সময়ের আলো/এনএ