নিউইয়র্কের ‘মেয়র’ হলেন জোহরান মামদানি। এরপর থেকে শুরু হয় তার ব্যক্তিগত পারিবারিক জীবন নিয়ে কৌতুহল। নিউইয়র্কের প্রথম বামপন্থী মুসলিম মেয়র পদে বসায় মামদানির ব্যক্তি জীবনও এখন সংবাদের শিরোনামে। বিশেষত তার শিকড় ভারতের সঙ্গে জুড়ে থাকায় হয়তো আলোচনাটা বেশি জোরালো। ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানি হলেন দেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ারের ছেলে। ৩৪ বছর বয়সে নিউইয়র্কের প্রথম বামপন্থী মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর স্বামীর মত আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন মামদানির সুন্দরী স্ত্রী রামা দুওয়াজিও।
জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রচারের সময় থেকে প্রচারের আলোয় আসেন তিনি। অনেকেই বলছেন, স্বামীর জয়ের মূল চাবিকাঠিটি নাকি তিনিই।
দ্য টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামদানির স্ত্রী রামারও নিজস্ব পরিচয় ও ব্যক্তিত্ব রয়েছে। ২৮ বছরের সিরীয় সুন্দরী দুওয়াজির জন্ম টেক্সাসের হাউস্টনে। যখন তার বয়স যখন ৯ বছর তখন তার পরিবার দুবাইতে চলে যায়। শুরুতে ইলাস্ট্রেটর ও অ্যানিমেটর হিসেবে নিউইয়র্কে কাজ শুরু করেন। এরপর বহু নামী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্টের কাজ করেছেন রামা।
জানা যায়, দু’জনের পরিচয় হয় একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে। এই বছরেরই শুরুর দিকে তাদের বিয়ে হয়েছে। নির্বাচনের দিন বিখ্যাত শাশুড়ি মীরা নায়ার পুত্রবধূর উদ্দেশে লিখেছেন, “ডার্লিং ডটার ইন ল- নতুন দিনে আমাদের শহরেও শিল্প ফুটে উঠবে। সঙ্গে ছিল হার্টের একটি ইমোজি।”
দুয়াজি নিউইয়র্ক শহরের প্রথম জেন-জি ফার্স্ট লেডি হতে চলেছেন। যদিও এ ধরনের সরকারি পদ তিনি আদৌ গ্রহণ করবেন কিনা সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি।
এর আগে, গত ১২ মে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে মামদানি লেখেন, “রামা শুধু আমার স্ত্রী নন, তিনি এমন এক অসাধারণ শিল্পী যিনি নিজের পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার যোগ্য।” ওই পোস্টে তিন মাস আগেই তাদের বিয়ে হয়েছে বলে জানান মামদানি।
এদিকে, দুয়াজি নিউইয়র্কের ‘স্কুল অব ভিজ্যুয়াল আর্টস’ থেকে ইলাস্ট্রেশনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার কাজ প্রকাশিত হয়েছে দ্য নিউ ইয়র্কার, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, বিবিসি, অ্যাপল, স্পটিফাই, ভাইস এবং লন্ডনের টেট মডার্নে।
তার ইলাস্ট্রেশনগুলোতে প্রায়ই ফিলিস্তিনপন্থি বার্তা থাকে; যেখানে ইসরায়েলি সহিংসতা, জাতিগত নির্মূল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার সমালোচনা ফুটে উঠে। রামার তৈরি একটি অ্যানিমেশনে নিউইয়র্কের কিছু দাতব্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধে অর্থায়নের অভিযোগ তোলা হয়েছিল; যা মামদানি নিজেও শেয়ার করেছিলেন।
গায়িকা ও পিয়ানিস্ট নিনা সিমোনের উদ্ধৃতি দিয়ে এক সাক্ষাৎকারে রামা দুয়াজি বলেছিলেন, চিত্রকর্মে সময়ের প্রতিফলন ঘটানোই একজন শিল্পীর দায়িত্ব। ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার। যেখানে তিনি তার শিল্পকর্ম, রাজনৈতিক মতামত এবং জীবনের নানা অর্জন ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন।।
সময়ের আলো/এনএ