সরকারি অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব এবার যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচলে পড়েছে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) একদিনেই ৫ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। এই বিপর্যয় ঘটেছে এমন এক দিনে, যখন সরকারি অচলাবস্থার কারণে বিমান চলাচল কমানোর নতুন নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। খবর বিবিসি’র।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টি বৃহত্তম বিমানবন্দরে শুক্রবার থেকে ফ্লাইট সংখ্যা কমানো হয়েছে। এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার ও অন্যান্য ফেডারেল কর্মীদের ওপর চাপ কমাতে, যারা সরকারের তহবিল সংকটের কারণে বেতন ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন। শাটডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই অনেক কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বা জীবিকা নির্বাহে অন্য কাজ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা সংকটের কেন্দ্রে
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান এই শাটডাউন দেশটির ইতিহাসে দীর্ঘতম। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় অনেকে মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিক ড্যানিয়েলস বলেন, “আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু, আমরা নিজের পকেটের টাকা ঢালতে পারি না—সরকার চালু করাই একমাত্র সমাধান।”
পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখনও তেমন প্রভাবিত হয়নি। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক চুক্তির কারণে নির্দিষ্ট রুট বজায় রাখতে বাধ্য। তবে, তিনি সতর্ক করে বলেন, “শাটডাউন দীর্ঘায়িত হলে ফ্লাইট কর্তন ২০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।”
বিমানবন্দরে ভোগান্তি
নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি, বিলম্ব বার্তা আর ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ে। ডেল্টা, ইউনাইটেড ও আমেরিকান এয়ারলাইনসসহ বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা যাত্রীদের জন্য বিনা ফিতে টিকিট পরিবর্তন বা রিফান্ডের সুযোগ দিয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসির রিগ্যান ন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে আটলান্টা যাচ্ছিলেন যাত্রী জো সুলিভান। তিনি জানান, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই ফ্লাইট বাতিলের খবর পাই। নতুন ফ্লাইট পাওয়া গেছে ১২ ঘণ্টা পর পরের দিন সকালে। বিয়েতে যেতে পারব হয়তো, কিন্তু পরিবারের সঙ্গে আগেভাগে সময় কাটানোর পরিকল্পনা ভেস্তে গেল।
ফেডারেল কর্মী আরিয়ানা জাকোভলজেভিচ বলেন, “আমি সদ্য কলেজ শেষ করে প্রথম চাকরি শুরু করেছি। এখন শাটডাউনের কারণে বেতন বন্ধ। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।”
রাজনৈতিক অচলাবস্থা
৩৮ দিন ধরে চলা শাটডাউনের সমাপ্তি এখনও অনিশ্চিত। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলেও সম্প্রতি কিছু আলোচনার ইঙ্গিত মিলেছে।
গতকাল শুক্রবার ডেমোক্র্যাটরা একটি নতুন তহবিল বিল প্রস্তাব করেছেন, তবে রিপাবলিকান সমর্থন না থাকায় তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম। মার্কিন সিনেটে কোনো বিল পাসের জন্য ৬০ ভোট প্রয়োজন, যেখানে রিপাবলিকানদের সংখ্যা ৫৩ ও ডেমোক্র্যাটদের ৪৭।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিবাস্টার নিয়ম বাতিল করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিল পাসের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে, এ প্রস্তাবে দলীয় বিভাজন স্পষ্ট। কারণ, উভয় দলের বেশিরভাগ সিনেটরই নিয়ম পরিবর্তনের বিপক্ষে।
এ ঘটনায় ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, “ডেমোক্র্যাটদের শাটডাউন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিনেটের কাজ থামানো উচিত নয়। যদি চুক্তি না হয়, তবে রিপাবলিকানদের উচিত অবিলম্বে ফিলিবাস্টার বাতিল করা এবং আমেরিকার পরিশ্রমী জনগণের পাশে দাঁড়ানো।
সময়ের আলো/এনএ