কাশ্মীরে চলছে ধরপাকড়, ভারতে ছড়াচ্ছে ইসলামবিদ্বেষ

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির লালকেল্লার কাছে সম্প্রতি একটি ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা এখন পর্যন্ত ১৩ জনের প্রাণহানির কারণ হয়েছে।

2025-11-15T05:01:11+00:00
2025-11-15T05:01:11+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
কাশ্মীরে চলছে ধরপাকড়, ভারতে ছড়াচ্ছে ইসলামবিদ্বেষ
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:০১ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির লালকেল্লার কাছে সম্প্রতি একটি ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা এখন পর্যন্ত ১৩ জনের প্রাণহানির কারণ হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে কাশ্মীরের একাধিক চিকিৎসক জড়িত থাকার সন্দেহ পাওয়া গেছে এবং তদন্তে আরও খোলাসা হয়েছে যে কয়েকজন চিকিৎসক পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন ‘জয়েশ-ই-মোহাম্মদ’-এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনার মাত্র ২৬ দিন আগে, কাশ্মীরের নওগামে একটি প্যাম্ফলেট পাওয়া যায়, যা পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠনটির নাম উল্লেখ করে ভারতীয় বাহিনী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া স্থানীয়দের উদ্দেশে হুমকির ভাষা ব্যবহার করেছিল। খবর আলজাজিরার

এই প্যাম্ফলেটের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক এক কাশ্মীরি ইসলামিক চিন্তাবিদ ও তার সহকর্মীরা বিস্ফোরণের পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন।

তদন্তে যে নামটি উঠে এসেছে তা হলো উমর নবী, যিনি কাশ্মীরি চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত এবং বিস্ফোরণ ঘটানো গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় তদন্তকারীরা আরও একটি নামের সঙ্গে পরিচিত হন মুজাম্মিল শাকিল গণাই, যিনি দিল্লির কাছের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করছিলেন। পুলিশ তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর ২৯০০ কেজি দাহ্য রাসায়নিক এবং অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
আরও পড়ুন

অপরদিকে, গ্রেফতারকৃত চিকিৎসক আদিল রাঠোরের কাছ থেকে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল উদ্ধার করা হয়, যা জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের মতে, এই গ্রেফতার অভিযানটি ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, যারা জয়েশ-ই-মোহাম্মদ এবং আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ (এজিইউএইচ)-এর সাথে যুক্ত।

কাশ্মীরে এখন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যেখানে ১২ নভেম্বর থেকে শ্রীনগরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি চালাচ্ছে। দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম, বারামুল্লা, পুলওয়ামা এবং অবন্তীপুরে ৪০০টিরও বেশি তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দিল্লির বিস্ফোরণ এবং কাশ্মীরের এই পরিস্থিতি দুই অঞ্চলে ইসলামবিদ্বেষ এবং কাশ্মীরবিরোধী মনোভাবের সৃষ্টি করেছে।

ভারতের অন্যান্য শহরগুলোতে কাশ্মীরি বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ১২ নভেম্বর গুরুগাঁও শহরের পুলিশ হাউজিং সোসাইটিতে কাশ্মীরিদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা সেখানে বসবাসরত কাশ্মীরি পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন, কাশ্মীরের পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ে ভারতের নীতির প্রতি নতুন প্রশ্ন উঠছে। ২০১৯ সালে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর কিছুটা শান্তি এলেও, এ ধরনের ঘটনা নতুন করে সহিংসতা ও উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।

এ দিকে, এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কাশ্মীরি ছাত্রদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এএডি/


  বিষয়:   কাশ্মীর  ভারত 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: