মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ফোস্টার কেয়ার ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা শিশু ও তরুণদের শিক্ষা এবং কর্মজীবনের সুযোগ বাড়াতে নতুন জাতীয় কর্মসূচি চালু করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এক নির্বাহী আদেশে ‘Fostering the Future’ নামে উদ্যোগটি অনুমোদন দেন, যা ফেডারেল সংস্থা, বেসরকারি খাত, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে ফোস্টার যুবকদের জন্য দক্ষতা ও সুযোগ তৈরি করবে।
ফোস্টার কেয়ার ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা তরুণদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উন্নয়নের লক্ষ্যে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ‘Fostering the Future’ নামে নতুন একটি প্রচেষ্টা ঘোষণা করেছেন। ওয়াশিংটনের ইস্ট রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি জানান, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে চালু হওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য ফোস্টার যুবকদের চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর সহায়তা দেওয়া।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনুষ্ঠানের আগে ‘Fostering the Future’-এর অনুমোদনস্বরূপ একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। আদেশে ফেডারেল সংস্থা, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে ফোস্টার কেয়ার থেকে বেরিয়ে আসা তরুণরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তা সহজে পেতে পারে।
নতুন কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি অনলাইন হাব তৈরি করা হবে, যেখানে ফোস্টার যুবকরা শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ, পরামর্শদাতা, বৃত্তি, ভাউচার এবং গ্র্যান্টের তথ্য এক জায়গায় পাবেন। মেলানিয়া ট্রাম্প বলেছেন, নির্বাহী আদেশে অন্তর্ভুক্ত এই ধাপগুলো তাকে ‘গর্বিত’ করেছে এবং পুরো প্রচেষ্টাকে তিনি ‘সহানুভূতিশীল ও কৌশলগত’ বলে অভিহিত করেন।
ইস্ট রুমের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং ফোস্টার কেয়ার সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফার্স্ট লেডি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তার উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘নিষ্ক্রিয় থাকার সহজ পথ বেছে নেবেন না- উঠে আসুন, এগিয়ে আসুন।’
‘Fostering the Future’ আসলে মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের স্বাক্ষর উদ্যোগ ‘Be Best’-এর সম্প্রসারণ। ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি ইতিমধ্যে ফোস্টার কেয়ার থেকে আসা বর্তমান ও সাবেক তরুণদের জন্য উচ্চশিক্ষা স্কলারশিপ প্রদান করছে। ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি, ভিলানোভা ইউনিভার্সিটি এবং ওরাল রবার্টস ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন কর্মসূচি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তিনি এতে ‘আনন্দিত’ এবং দাবি করেন যে উদ্যোগটির ফলে ‘অসাধারণ ফলাফল’ পাওয়া যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভাইস প্রেসিন্টে জেডি ভ্যান্সের স্ত্রী উষা ভ্যান্স–ও এই প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পৃক্ত।
ফেডারেল পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট, হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট এবং অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে যুক্ত থাকবে।
মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, লক্ষ্য হচ্ছে ফোস্টার কেয়ারের তরুণদের জন্য ‘স্থিতিশীল, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ’ তৈরি করা। তার ভাষায়, ‘আমাদের দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং সেই কাজটি এখনই করতে হবে।’
এসকে/