বোরখা পরে পার্লামেন্টে আসায় অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর পলিন হ্যানসনের পদ স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) পার্লামেন্টে বোরখা পরে প্রবেশ করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে প্রতিবাদ জানান তিনি। এ কারণে তার পদ এক সপ্তাহের জন্য করা হয়েছে।
অন্যান্য সিনেটররা তার এই কাজের জন্য নিন্দা জানিয়েছেন জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্যান্য সিনেটরদের নিন্দার প্রতিবাদে পরে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানানো হয়। একজন সহকর্মী তাকে বর্ণবিদ্বেষী আখ্যা দিয়েছেন।
জনসম্মুখে পূর্ণ মুখোশ পরিধান নিষিদ্ধ করার পক্ষে কুইন্সল্যান্ডের এই সিনেটর একটি বিল প্রবর্তন করতে চাইছিলেন। এজন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন।
হ্যানসন দ্বিতীয়বারের মতো বোরখা পরে পার্লামেন্টে উপস্থিত হন। সিনেট তার বিলটি প্রত্যাখ্যান করার প্রতিবাদে তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। অন্যান্য আইনপ্রণেতারা সোমবার এ বিলটি আনার বিরোধিতা করলে তিনি আবার কালো বোরকা পরে ফিরে আসেন।
গ্রিনস দলের সিনেটর মেহরিন ফারুকি বলেন, তিনি বর্ণবাদী সিনেটর, স্পষ্টভাবে বর্ণবাদ প্রদর্শন করছেন।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের সিনেটর ফাতিমা পইম্যান এই ঘটনাকে ‘অপমানজনক’ বলেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং হ্যানসনের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করে দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিবাদ হিসেবে হ্যানসন পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন করছেন।
বিবিসির দেওয়া তথ্যমতে, ৫৫ ভোটের বিপরীতে এ প্রস্তাবটি ৫ ভোট পেয়েছে। হ্যানসন ধর্মীয় কারণে মানুষকে অপমান করার উদ্দেশ্যে তিনি এ প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। তার আচরণ ছিল সলিম অস্ট্রেলিয়ানদের প্রতি অসম্মানজনক।
ওং আগের দিন দাবি করেছিলেন, হ্যানসন অস্ট্রেলিয়ান সিনেটর হিসেবে যোগ্য নন।
এদিকে ফেসবুকে এক পোস্টে হ্যানসন লিখেছেন, আমাকে যদি বোরকা পরতে না দেওয়া হয়, তাহলে এটি নিষিদ্ধ করুন।
উল্লেখ্য, তিনি ২০১৭ সালে প্রথমবার পার্লামেন্টে বোরকা পরে প্রবেশ করেছিলেন। সেবারও তিনি বোরকা পরাকে জাতীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে দাবি করেছিলেন।
/ইউএমএইচ