পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে এখনো কেউ সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেননি। এটা তার মৃত্যুর গুজবকে আরও বাড়িয়েছে। তার পার্টির নেতারা খানের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং এজন্য তারা প্রতিবাদ করতে যাচ্ছেন, যদিও পাকিস্তান সরকার গত দুই মাস ধরে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ওপর বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
আদিয়ালা জেলের সামনে প্রতিবাদ আজ। খাইবার পাখতুনখাওয়া মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফরিদি বলেছেন, ইমরান খান নভেম্বর ৪ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। তার পরিবারের সদস্য, পার্টি নেতারা, আইনজীবী বা ডাক্তার কেউ তাকে দেখার অনুমতি পাননি।
ইমরান খানের সঙ্গে তার স্বজন এবং নেতাকর্মীদের দেখা করতে না দেওয়ার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ডিসেম্বর ১ থেকে ৩ তারিখ পর্যন্ত পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে রাওয়ালপিন্ডিতে। অস্ত্র, ইগনাইটেবল জিনিস, উগ্র বক্তৃতা বা হঠকারী কার্যকলাপও নিষিদ্ধ করা হয়েছে এসময়। এছাড়াও ইসলামাবাদে দুই মাস ধরে সব ধরনের অবৈধ জমায়েত বন্ধ। সরকারের বক্তব্য, এমনকি জনশান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পিটিআই নেতা আসাদ কায়সার বলেন, পার্লামেন্টের দুই কক্ষের বিরোধী আইনপ্রণেতারা প্রথমে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের সামনে বিক্ষোভ করবেন, এরপর রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের দিকে যাবেন। তিনি আরও বলেন, ‘হাইকোর্ট নিজের আদেশ কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ায় কারণে এবং আদিয়ালা কারাগার প্রশাসন আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে ইচ্ছুক নয় বলে এ বিক্ষোভ প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
ইমরান খান দীর্ঘ ছয় সপ্তাহ ধরে সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে আছেন। তার পরিবারের কেউ নিশ্চিত তথ্য পাচ্ছেন না। এই কারণে জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ এবং আতঙ্ক বেড়েছে। অনেকেই শঙ্কা করছেন যে তিনি নিরাপদ আছেন কি না। এমনকি গুজব উঠেছে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
ইমরান খানের ছেলে কাসিম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, আপনার বাবা নিরাপদ আছেন বা নাকি অসুস্থ অবস্থায় আছেন, এটি জানতে না পারা খুবই মানসিক যন্ত্রণার কারণ।
ইমরান খানের বোন আলিমা খান আদালতে মামলা করেছেন, কারণ তাকে তার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, ইমরান খান এখনও আদিয়ালা জেলে আছেন। তার স্বাস্থ্য ভালো এবং তার চিকিৎসা চলছে।
ইমরান খান আগস্ট ২০২৩ থেকে আদিয়ালা জেলে কারাবন্দি রয়েছেন। তার সর্বমোট সাজা এখন পর্যন্ত ১৪ বছর।
/ইউএমএইচ